তিন বছর পর অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ড একাদশে ফিরছেন উইল জ্যাকস

তিন দীর্ঘ বছর পর আবারও ইংল্যান্ডের টেস্ট একাদশে ফিরছেন অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস। ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টেস্টে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড দ্বিতীয় অ্যাশেজ টেস্টের জন্য তাঁকে দলে ফিরিয়ে এনেছে। ইনজুরির কারণে মার্ক উড বাদ পড়ায় দলে একজন অতিরিক্ত স্পিনারের প্রয়োজন ছিল, এবং সেই সিদ্ধান্তে এগিয়ে থাকলেন জ্যাকস। শোয়েব বশিরকে পিছনে ফেলে তিনিই ইংল্যান্ডের একমাত্র স্পিনার হিসেবে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিতব্য দিন-রাতের টেস্টে মাঠে নামবেন।

২০১৮ সালে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৯টি উইকেট রয়েছে তাঁর, এবং সাম্প্রতিক দুই মৌসুমে তিনি মাত্র পাঁচটি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলেছেন। ২০২৫ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে তিন ম্যাচে তাঁর উইকেট সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচটি এবং বোলিং গড় ছিল ৩৮.৮০। এমন পরিস্থিতিতে অ্যাশেজের মতো উত্তেজনাপূর্ণ একটি সিরিজে দলের প্রধান স্পিনার হিসেবে তাঁর প্রত্যাবর্তন অনেকের কাছেই চমকপ্রদ।

২০২২ সালে পাকিস্তান সফরে প্রথম দুই টেস্ট খেলে নিজের আন্তর্জাতিক টেস্ট যাত্রা শুরু করেছিলেন জ্যাকস। রাওয়ালপিন্ডিতে অভিষেকেই তিনি ৬ উইকেট নিয়ে আলোচনায় আসেন। তবে এরপর তিনি সাদা বলের ক্রিকেটে বেশি ব্যবহৃত হন—ওয়ানডে ও টি২০ মিলিয়ে তাঁর ৫০টির বেশি ম্যাচ আছে, কিন্তু উইকেট মাত্র নয়টি। তবুও তাঁকে দলে আনার বড় কারণ হচ্ছে ব্যাটিং দক্ষতা। প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে গত গ্রীষ্মে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ফলে তাঁর ফর্ম এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে, এবং সেই ধারাবাহিকতায় অক্টোবরে তাঁকে দুই বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তি দেয় ইংল্যান্ড।

জ্যাকস নিজেও দলে ফেরার উত্তেজনা লুকাতে পারেননি। তিনি বলেন, “অ্যাশেজ দলে থাকা নিজেই বড় স্বপ্ন, আর একাদশে সুযোগ পাওয়া আরও বড় বিষয়। তিন বিভাগেই (ব্যাট, বল, ফিল্ডিং) দলকে অবদান রাখতে চাই, আর আলোর নিচে খেলার অভিজ্ঞতা আমার জন্য সহায়ক হবে।”

অন্যদিকে শোয়েব বশিরের বাদ পড়াটা তাঁর ক্যারিয়ারের এক নতুন মোড়। ২০২৪ সালের শুরুতে ভারতের বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকেই তিনি ছিলেন বেন স্টোকসের প্রথম পছন্দের স্পিনার। বাম হাতের আঙুল ভাঙা অবস্থায়ও লর্ডস টেস্টে শেষ উইকেট তুলে নেওয়ায় স্টোকস তাঁর উপর বিশেষ আস্থা রাখতেন। এসেক্সের বিপক্ষে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও দেখেই তাঁকে নজরে আনেন স্টোকস। England-এর হয়ে ১৯ ম্যাচ খেলে ইতোমধ্যেই ৬৮ উইকেট নেওয়া বশির বর্তমানে কাউন্টি দলবিহীন অবস্থায় আছেন, তবে তাঁর কেন্দ্রীয় চুক্তি বহাল রয়েছে।

মনে করা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অফস্পিনারের উচ্চ রিলিজ পয়েন্ট এবং ওভারস্পিন বেশি কার্যকর হওয়ায় বশিরকে দলে রাখার সম্ভাবনা ছিল। নাথান লায়নের ডে-নাইট টেস্টে সাফল্য—১৩ ম্যাচে ৪৩ উইকেট—ইংল্যান্ডের কৌশলে প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু ব্যাটিং গভীরতা নিশ্চিত করতে জ্যাকসকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

স্টোকস জানিয়েছেন, “ডে-নাইট টেস্টে স্পিনারকে কখন আক্রমণাত্মকভাবে ব্যবহার করতে হবে, আর কখন পেসারদের বিশ্রাম দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে হবে—এ দুটি বিষয় মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

ইংল্যান্ড একাদশ: জ্যাক ক্রলি, বেন ডাকেট, অলি পোপ, জো রুট, হ্যারি ব্রুক, বেন স্টোকস (অধিনায়ক), জেমি স্মিথ (উইকেটকিপার), উইল জ্যাকস, গাস অ্যাটকিনসন, ব্রাইডন কার্স, জোফরা আর্চার।

Leave a Comment