মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছে আইভরি কোস্ট। পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে বা ৯০তম মিনিটে জয়সূচক একমাত্র গোলটি আসে। আইভরি কোস্টের বদলি খেলোয়াড় এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড আমাদ দিয়ালো ডি-বক্সের কোনা থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
খেলার প্রথমার্ধে দক্ষিণ আমেরিকার দল ইকুয়েডর তুলনামূলকভাবে বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। ম্যাচের শুরুতে আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার ইমানুয়েল আগবাদু একটি রক্ষণাত্মক ভুল করেন। সেই ভুলের সুযোগ নিয়ে পেনাল্টি এরিয়ার ভেতরে বল পেয়ে যান ইকুয়েডরের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এনার ভ্যালেন্সিয়া। তবে তিনি বলটি লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন এবং তার শটটি গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর ইকুয়েডরের জন ইয়েবোহ গোলের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া তার জোরালো শটটি গোলবারে লেগে ফিরে আসলে তারা গোলবঞ্চিত হয়। ইকুয়েডরের আক্রমণভাগ এখানেই দমে যায়নি; পেড্রো ভিটের একটি চমৎকার থ্রু পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অ্যালান মিন্দা শট নেন, যা এবারও গোলপোস্টে আঘাত করে প্রতিহত হয়।
ম্যাচের বিশেষ পরিসংখ্যান: পুরো ম্যাচে ইকুয়েডর মোট তিনবার এবং আইভরি কোস্ট একবার গোলপোস্ট ও ক্রসবারে আঘাত করে গোলবঞ্চিত হয়েছে।
অন্যপক্ষে, আইভরি কোস্টের হয়ে ডান প্রান্তে প্রথমার্ধে দারুণ ফুটবল খেলছিলেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ ইয়ান দিওমান্দে। তিনি বেশ কয়েকটি আক্রমণ তৈরি করলেও দলের অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা তা থেকে সুবিধা আদায় করতে পারছিলেন না। আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিকোলাস পেপে একটি নিশ্চিত সুযোগে শট নিতে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ করে ফেলেন। পরবর্তীতে তার নেওয়া অন্য একটি শট সতীর্থ খেলোয়াড় এলি ওয়াহির গায়ে লেগে প্রতিহত হলে প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
ম্যাচে দুই দলের মূল আক্রমণ ও গোলবঞ্চিত হওয়ার বিবরণ
| দলের নাম | খেলোয়াড়ের নাম | আক্রমণের বিবরণ | ফলাফল |
| ইকুয়েডর | এনার ভ্যালেন্সিয়া | পেনাল্টি এরিয়ার ভেতর থেকে শট | গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায় |
| ইকুয়েডর | জন ইয়েবোহ | ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে শট | গোলবারে লেগে ফিরে আসে |
| ইকুয়েডর | অ্যালান মিন্দা | পেড্রো ভিটের পাস থেকে শট | গোলপোস্টে আঘাত করে |
| আইভরি কোস্ট | নিকোলাস পেপে | ডি-বক্সের ভেতর থেকে শট | সতীর্থ এলি ওয়াহির গায়ে লাগে |
| ইকুয়েডর | এনার ভ্যালেন্সিয়া | গঞ্জালো প্লাতার সাথে ওয়ান-টু পাস | গোলপোস্টের বাইরের দিকে লাগে |
| আইভরি কোস্ট | এলি ওয়াহি | ইয়ান দিওমান্দের ক্রস থেকে শট | ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে |
| ইকুয়েডর | জোয়েল অর্ডোনেজ | ফ্রি-কিক থেকে হেড | গোলবারের ওপর দিয়ে যায় |
| আইভরি কোস্ট | আমাদ দিয়ালো | উইলফ্রিড সিঙ্গোর ক্রস থেকে শট | নিখুঁত গোল (১-০) |
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইকুয়েডর পুনরায় আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। গঞ্জালো প্লাতার সাথে চমৎকার ওয়ান-টু পাসের মাধ্যমে বল আদান-প্রদান করে এনার ভ্যালেন্সিয়া একটি শট নেন, যা পোস্টের বাইরের দিকে লাগে। তবে মধ্যবর্তী বিরতির পর আইভরি কোস্টের খেলার ধার বৃদ্ধি পায় এবং তারা ধারাবাহিকভাবে ভালো সুযোগ তৈরি করতে শুরু করে। চমৎকার ফর্মে থাকা দিওমান্দে ইকুয়েডরের বক্সে প্রবেশ করে দুইবার শট নিলেও তা পোস্টের ওপর ও বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর দিওমান্দের বাড়ানো একটি নিখুঁত ক্রস থেকে ওয়াহির নেওয়া শটটি দুর্ভাগ্যবশত ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচের শেষ দিকে ইকুয়েডরও কিছু ভালো সুযোগ পেয়েছিল। প্লাতার ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া একটি দূরপাল্লার শট চমৎকারভাবে প্রতিহত করেন আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়াহ ফোফানা। এরপর একটি ফ্রি-কিক থেকে জোয়েল অর্ডোনেজ হেডের মাধ্যমে বল পাঠালেও তা বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। অবশেষে ম্যাচের ৯০তম মিনিটে আইভরি কোস্টের উইলফ্রিড সিঙ্গো একক দক্ষতায় চমৎকারভাবে বল নিয়ে এগিয়ে যান এবং একটি ক্রস বাড়ান। সেই ক্রস থেকে ডি-বক্সের প্রান্তে থাকা আমাদ দিয়ালো নিখুঁত শটে বল পোস্টের ভেতরের দিকে পাঠিয়ে দলের পক্ষে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচের অচলাবস্থা ভেঙে আইভরি কোস্ট পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করে মাঠ ছাড়ে।
