কানাডার মন্টেরি শহরে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৫-১ গোলের এক বিশাল ব্যবধানের জয় দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছে সুইডেন। সোমবার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সুইডেনের আক্রমণভাগের ফুটবলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন। দলের পক্ষে জোড়া গোল করেন ইয়াসিন আয়য়ারি এবং একটি করে গোল করেন আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর গিওকেরেস ও মাটিয়াস সোয়ানবার্গ। এই একচেটিয়া জয়ের মাধ্যমে সুইডেন পুরো ম্যাচ জুড়ে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়।
ম্যাচ শুরু হতে না হতেই নিজেদের শক্তির জানান দেয় সুইডেন। খেলার সপ্তম মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেন ইয়াসিন আয়য়ারি। তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক আবদেলমুহিব চামাখ নিজের অবস্থান ছেড়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সামনে এগিয়ে আসলে সেই সুযোগটি লুফে নেন আয়য়ারি। তিনি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ডান পায়ের এক জোরালো শটে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলের পর সুইডেন তাদের আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচের আধঘণ্টা বা ৩০ মিনিটের মাথায় দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন আলেকজান্ডার ইসাক। ভিক্টর গিওকেরেসের কাছ থেকে একটি চমৎকার পাস পেয়ে প্রতিআক্রমণ থেকে নিখুঁত ও ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান এই সুইডিশ ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের বিশেষ সমীকরণ: এই জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট অর্জন করে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে সুইডেন। একই গ্রুপে থাকা অন্য দুই প্রতিপক্ষ ড্র করায় সুইডেন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও তিউনিসিয়া ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক দুই মিনিট আগে, অর্থাৎ ৪৩ মিনিটে তিউনিসিয়ার পক্ষে ব্যবধান কমান ওমার রেসিক। একটি চমৎকার আক্রমণ থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডের সাহায্যে তিনি সুইডেনের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন। তিউনিসিয়ার এই গোলের ফলে ২-১ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
ম্যাচের গোল ও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণী
| গোলের সময় (মিনিট) | গোলদাতা খেলোয়াড় | সংশ্লিষ্ট দল | গোলের ধরন ও বিবরণ |
| ০৭ মিনিট | ইয়াসিন আয়য়ারি | সুইডেন | গোলরক্ষক সামনে এগিয়ে আসায় ডান পায়ের জোরালো শটে গোল। |
| ৩০ মিনিট | আলেকজান্ডার ইসাক | সুইডেন | গিওকেরেসের পাস থেকে প্রতিআক্রমণে ঠান্ডা মাথার শটে গোল। |
| ৪৩ মিনিট | ওমার রেসিক | তিউনিসিয়া | চমৎকার এবং নিখুঁত হেডের সাহায্যে ব্যবধান কমানো গোল। |
| ৫৯ মিনিট | ভিক্টর গিওকেরেস | সুইডেন | প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বক্সের বাইরে বল হারালে সেই সুযোগে গোল। |
| ৮৪ মিনিট | মাটিয়াস সোয়ানবার্গ | সুইডেন | খেলার শেষ মুহূর্তে পায়ের পাশ দিয়ে নেওয়া নিখুঁত শটে গোল। |
| অতিরিক্ত সময় | ইয়াসিন আয়য়ারি | সুইডেন | স্টপেজ টাইমে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোল। |
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর তিউনিসিয়া সমতায় ফেরার জন্য চেষ্টা করলেও ম্যাচের ৫৯ মিনিটে সুইডেন আবারও দুই গোলের ব্যবধান ফিরিয়ে আনে। তিউনিসিয়ার মিডফিল্ডার এলিয়েস স্কিরি নিজেদের বক্সের ঠিক বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে সুইডেনের ভিক্টর গিওকেরেস সেই সুযোগটি কাজে লাগান। তিনি বল কেড়ে নিয়ে চমৎকার শটে দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন। এই গোলের পর তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
খেলার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র ছয় মিনিট আগে, অর্থাৎ ৮৪ মিনিটে সুইডেন তিউনিসিয়ার জালে চতুর্থবারের মতো বল পাঠায়। এবার দলের পক্ষে স্কোরশিটে নাম লেখান মাটিয়াস সোয়ানবার্গ। সতীর্থের পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার এক সাইড-ফুটের শটে তিনি গোলটি করেন। এরপর ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ে বা স্টপেজ টাইমে তিউনিসিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন ইয়াসিন আয়য়ারি। তিনি নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি করে তিউনিসিয়ার ৫-১ গোলের এক বড় পরাজয় নিশ্চিত করেন।
এই স্মরণীয় ও বিশাল জয়ের পর পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষ স্থান দখল করেছে সুইডেন। দিনের অন্য একটি ম্যাচে এই গ্রুপের বাকি দুই দল জাপান ও নেদারল্যান্ডস একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। ফলে এক পয়েন্ট করে পাওয়া জাপান ও নেদারল্যান্ডস তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থেকে সুইডেনের পেছনে রয়েছে এবং শূন্য পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে তিউনিসিয়া।
