বাংলাদেশের নারী ফুটবল অঙ্গনে সাবিনা খাতুন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। মাঠের ফুটবল থেকে সাময়িক বিরতি বা কোচের সঙ্গে দূরত্বের জল্পনা ছাপিয়ে তিনি আবারও ফিরছেন জাতীয় দলের নেতৃত্বে। তবে এবার লড়াইয়ের ময়দান সবুজ ঘাস নয়, বরং ইনডোর ফুটবলের রোমাঞ্চকর সংস্করণ ‘ফুটসাল’। আগামী ১৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে পর্দা উঠতে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর। এই আন্তর্জাতিক আসরকে সামনে রেখে অভিজ্ঞ সাবিনা খাতুনকে অধিনায়ক ও সুমাইয়া মাতসুশিমাকে সহ-অধিনায়ক করে ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে বিরোধের জেরে জাতীয় দলের মূল ধারার অনুশীলনে কিছুটা অনিয়মিত থাকলেও সাবিনা নিজেকে প্রস্তুত করেছেন নিভৃতে। ফুটসালের জন্য বিশেষায়িত ক্যাম্পে তিনি মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণা রানী সরকার ও জাপানি বংশোদ্ভূত সুমাইয়া মাতসুশিমার মতো তুখোড় ফুটবলারদের সঙ্গে নিবিড় অনুশীলন চালিয়ে গেছেন। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সর্বশেষ ২০১৮ সালে এশিয়ান কাপ ফুটসাল বাছাইপর্বে অংশগ্রহণ করেছিল। সেই আসরটির নেতৃত্বেও ছিলেন সাবিনা। দীর্ঘ ৭ বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক ফুটসালে বাংলাদেশের এই প্রত্যাবর্তনের ব্যাটন থাকছে তাঁর অভিজ্ঞ হাতেই।
আসন্ন টুর্নামেন্টের জন্য ঘোষিত চূড়ান্ত দলের সদস্যদের তালিকা ও সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল ও খেলোয়াড় তালিকা ২০২৬
| খেলোয়াড়ের নাম | দায়িত্ব / ভূমিকা | বিশেষ তথ্য |
| সাবিনা খাতুন | অধিনায়ক | ৭ বছর পর পুনরায় ফুটসাল দলকে নেতৃত্ব দেবেন। |
| সুমাইয়া মাতসুশিমা | সহ-অধিনায়ক | ইনডোর ফুটসালে তাঁর ড্রিবলিং অন্যতম কার্যকর। |
| কৃষ্ণা রানী সরকার | মূল স্ট্রাইকার | গোল করার নিপুণ দক্ষতার জন্য পরিচিত। |
| মিশরাত জাহান মৌসুমী | মিডফিল্ডার | দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে প্রত্যাবর্তন। |
| মাসুরা পারভীন | ডিফেন্ডার | রক্ষণভাগ সামলানোর মূল দায়িত্ব পালন করবেন। |
| ইতি রানী / সাথী বিশ্বাস | গোলরক্ষক | ফুটসালের ছোট পোস্টে অতন্দ্র প্রহরী। |
| মার্জিয়া | আক্রমণভাগ | ২০২২ সাফ জয়ী দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার। |
চূড়ান্ত স্কোয়াড নির্বাচনে বাফুফে অভিজ্ঞতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। যার ফলে মার্জিয়া ও মিশরাত জাহান মৌসুমীর মতো জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়রা পুনরায় সুযোগ পেয়েছেন। তবে প্রাথমিক দলের তালিকায় থাকা উন্নতি খাতুন, নাসরিন আক্তার ও সেজুতি ইসলাম স্মৃতিকে চূড়ান্ত দলে জায়গা না পেয়ে বাদ পড়তে হয়েছে। ফুটসাল মূলত একটি অত্যন্ত দ্রুতগতির খেলা যেখানে খেলোয়াড়দের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সীমিত জায়গায় নিখুঁত পাসিং খুব জরুরি। সাবিনার নেতৃত্বাধীন এই দলে অভিজ্ঞ ও তরুণদের এক দারুণ সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।
ব্যাংককের এই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফুটবলের মূল সংস্করণে দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকারী বাংলাদেশের মেয়েরা এখন ইনডোরের ফুটসালেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে মরিয়া। সাবিনা খাতুনের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং সুমাইয়া মাতসুশিমার ক্ষিপ্রতা থাইল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের জন্য বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
