
দেশের মাটিতে সাফ আসর, অথচ প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই নামছে বাংলাদেশ
আট বছর পর দেশের মাটিতে ফিরছে দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। হাতে মাত্র দুদিন বাকি, বৃহস্পতিবারই পর্দা উঠছে টুর্নামেন্টের। উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। তবে আশার মাঝে তীব্র সুর কেটে দিচ্ছে একটি প্রশ্ন—সাফের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে জাতীয় ফুটবল দল কোনো আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি। ১ অক্টোবর জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ ব্যবধানে পরাজিত হওয়া ম্যাচটিই এখন পর্যন্ত লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ।
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা সবসময়ই বলে থাকেন, মূল মঞ্চে নামার আগে ঘরের মাঠে বা বাইরে অন্তত একটি প্রস্তুতি ম্যাচ কোচের কৌশলগত সিদ্ধান্তের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে কোচ যেমন দলের সঠিক রসায়ন ও ট্যাকটিক্স গুছিয়ে নিতে পারেন, তেমনি চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচনও সহজ হয়। অথচ বাফুফে (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন) প্রধান কোচ থমাস ডুলিকে সেই সুযোগ করে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এক মাস আগে আন্তর্জাতিক আসিয়ান কাপ খেলার অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করেই মাঠে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ঘাটতি পোষাতে দল কেবল নিজেদের মধ্যে অনুশীলন ম্যাচ খেলে ক্ষান্ত থাকছে।
প্রস্তুতি ম্যাচের অভাবের পাশাপাশি বাংলাদেশ শিবিরে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে প্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভানের চোট। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রবাসী ফুটবলারকে সেন্টার ফরোয়ার্ড বা ‘নাম্বার নাইন’ পজিশনে রেখেই সব পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন কোচ থমাস ডুলি। কিন্তু হুট করেই জানা যায় রোনানের চোটের খবর। বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রোনান গত ১০ অক্টোবর চোট পেয়েছিলেন, অথচ বিষয়টি প্রকাশ পায় ২৯ অক্টোবর।
দেশের ফুটবল অঙ্গনে এখন গুঞ্জন—রোনান কি তবে চোটের কথা গোপন রেখে সাফে খেলার চেষ্টা করেছিলেন? যদিও চিকিৎসকরা তাকে অন্তত আট সপ্তাহের বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে এই স্ট্রাইকারের সাফে খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষ।
রোনানের অনুপস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোচ থমাস ডুলি কিছুটা নিরাসক্ত কিন্তু বাস্তববাদী অবস্থান দেখিয়েছেন। তিনি জানান, যা তার নিয়ন্ত্রণে নেই তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করতে চান না। তার ভাষায়, হুট করে অন্য কোনো তারকা ফুটবলারও চোট পেতে পারেন, তাই মূল কাজ হলো সমস্যার দ্রুত সমাধান বের করা। নির্দিষ্ট কোনো ‘নাম্বার নাইন’ ছাড়া খেলতে হলে বর্তমান স্কোয়াড থেকেই সেরা বিকল্প খুঁজে নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। পূর্বে আসিয়ান কাপেও বাংলাদেশ প্রথাগত নাম্বার নাইন ছাড়া খেলেছিল, ফলে সেই অভিজ্ঞতাই এখন কাজে লাগাতে চান তিনি।
নিয়ম ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে রোনানের পরিবর্তে নতুন কাউকে দলে নেয়ার সুযোগও খুব একটা নেই। ফর্টিস এফসির তরুণ ফুটবলার টুডুকে নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। সব বাধা ও সংকট সত্ত্বেও ভুটানের বিপক্ষে ৫ নভেম্বরের প্রথম ম্যাচটি জয় দিয়েই শুরু করতে চান থমাস ডুলি। এখন দেখার বিষয়, কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়া এবং মূল স্ট্রাইকারকে হারিয়ে ঘরের মাঠে কেমন পারফর্ম করে বাংলাদেশ ফুটবল দল।