উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেন। তবে মেক্সিকোর গুয়াদালাজারায় পাওয়া এই জয়ের আনন্দ স্প্যানিশ শিবিরে পুরোপুরি ম্লান হয়ে গেছে। ম্যাচ শেষে দলটির কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয় এলেও চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন উইঙ্গার ইয়েরেমি পিনু। সেই সাথে সদ্য চোটমুক্ত হয়ে ফেরা তারকা ফরোয়ার্ড নিকো উইলিয়ামসও নতুন করে মাংসপেশির সমস্যায় পড়েছেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে স্পেনকে এগিয়ে দেন আলেক্স বায়েনা। উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার একটি মারাত্মক ভুলে এই গোলটি পায় স্পেন। বায়েনার নেওয়া শটটি মুসলেরা প্রায় ধরেই ফেলেছিলেন, কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বল তার হাত ফসকে ধীরে ধীরে জালের ভেতরে জড়িয়ে যায়। এই এক গোলের লিড নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইউরোপের পরাশক্তিরা।
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে ক্রিস্টাল প্যালেসের উইঙ্গার ইয়েরেমি পিনুকে বদলি হিসেবে মাঠে নামান কোচ। তবে মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরই কাঁধে গুরুতর চোট পান এই উইঙ্গার। ততক্ষণে স্পেনের নির্ধারিত বদলির কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় মাঠ ছাড়ার কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে তীব্র ব্যথা সহ্য করেই পিনুকে ম্যাচের বাকি সময়টুকু খেলে যেতে হয়। ম্যাচ শেষে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, পিনুর কলার-বোন ভেঙে গেছে। এই গুরুতর চোটের কারণে এবারের বিশ্বকাপে তার আর মাঠে নামা হচ্ছে না। স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় পিনুর হাতে স্লিং পরা ছিল। শিষ্যের এমন সাহসিকতার প্রশংসা করে কোচ দে লা ফুয়েন্তে তাকে ‘নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
স্পেনের দুশ্চিন্তা এখানেই শেষ নয়। পুরো মৌসুমজুড়েই চোটের সঙ্গে লড়াই করা অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ফরোয়ার্ড নিকো উইলিয়ামসকে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটের জন্য মাঠে নামানো হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনিও নতুন করে মাংসপেশিতে চোট পান। তার এই চোট স্পেনের পরবর্তী নকআউট পর্বের পরিকল্পনাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
এদিকে স্প্যানিশ শিবিরে আগে থেকেই পেশির সমস্যার কারণে মাঠের বাইরে আছেন তরুণ খেলোয়াড় ভিক্টর মুনোজ। তিনি এখনও এই বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ খেলতে পারেননি। তবে এই সব খারাপ খবরের মাঝে স্পেনের জন্য একমাত্র স্বস্তির খবর হলো লামিন ইয়ামাল। চোট কাটিয়ে এই ম্যাচে তিনি পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন এবং মাঠে দারুণ ছন্দে ছিলেন। চোটের জর্জরিত এই দল নিয়ে লুই দে লা ফুয়েন্তে এখন কীভাবে নকআউট পর্বের বৈতরণী পার হন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
