বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মাঝেই গভীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন নেদারল্যান্ডসের তারকা ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো। দলের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচের আগে পাওয়া এই হৃদয়বিদারক সংবাদ শুধু গাকপো পরিবারের জন্যই নয়, ডাচ ফুটবল অঙ্গনেও শোকের আবহ তৈরি করেছে।
গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। আগামী ৩০ জুন মরক্কোর বিপক্ষে নকআউট ম্যাচকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছিল দল। ঠিক এমন সময় ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তের মুখোমুখি হন গাকপো।
তার স্ত্রী নোয়া ভ্যান ডার বিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় জানান, গর্ভাবস্থাতেই তাদের অনাগত সন্তান মারা গেছে। তিনি লেখেন, ‘ভাঙা হৃদয়ে আমরা জানাচ্ছি যে, আমাদের সন্তান গর্ভাবস্থার সময়ই মারা গেছে। ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে সব সময় ভালোবাসব। তুমি সব সময়ই আমাদের ছেলে হয়ে থাকবে।’
নোয়া আরও জানান, তাদের অনাগত সন্তানের নাম রাখা হতো এলাইজা রাফায়েল গাকপো। বার্তার সঙ্গে তিনি একটি সাদা-কালো আবেগঘন ছবিও প্রকাশ করেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই অসংখ্য মানুষকে আবেগাপ্লুত করে। ফুটবলপ্রেমী, সতীর্থ এবং সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে পরিবারটির প্রতি সমবেদনা জানান।
পরবর্তী একটি পোস্টে নোয়া একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও ভাগ করে নেন। তিনি জানান, চার্চে মোমবাতি জ্বালানোর পর তারা তাদের সন্তান স্যামুয়েলকে নিয়ে বাইরে গেলে সেখানে আরেকটি শিশুর সঙ্গে দেখা হয়, যার নামও ছিল এলাইজা। তার ভাষায়, ঘটনাটি তাদের কাছে এক বিশেষ অনুভূতি তৈরি করেছে। এতে তাদের মনে হয়েছে, কোনো না কোনোভাবে তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তান এখনো তাদের জীবনের অংশ হয়ে রয়েছে।
স্ত্রীর সেই বার্তাটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় শেয়ার করেন কোডি গাকপো। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যম ও সমর্থকদের কাছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানান। গাকপো লেখেন, ‘এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময়। আমরা অনুরোধ করছি, আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি সম্মান জানানো হোক এবং এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার জন্য আমাদের কিছুটা সময় ও ব্যক্তিগত পরিসর দেওয়া হোক। সবাইকে ধন্যবাদ।’
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের হয়ে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন গাকপো। আক্রমণভাগে তার উপস্থিতি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। ফলে মরক্কোর বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডাচ সংবাদমাধ্যম ডে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত এই শোকের মধ্যেও গাকপোর মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তার মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতির ওপর, পাশাপাশি কোচ রোনাল্ড কোমান ও দলের মেডিকেল ও কারিগরি স্টাফের মূল্যায়নের ওপর।
পেশাদার ফুটবলের চাপের মধ্যেও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবন যে কতটা সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ হতে পারে, গাকপোর এই ঘটনা আবারও সেই বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের উত্তেজনার মধ্যেও একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্ত যে কোনো ক্রীড়া সাফল্যের চেয়েও গভীর মানবিক অনুভূতির জন্ম দেয়। এখন ডাচ সমর্থকদের প্রত্যাশা, এই কঠিন সময় থেকে শক্তভাবে ফিরে আসতে পারবেন গাকপো এবং তার পরিবার।
