নাপোলির চ্যাম্পিয়নস লিগ নিশ্চিত, স্থায়ী হলেন হজলুন্ড

ইতালিয়ান সিরি আ’তে পিসার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়ে আগামী মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা নিশ্চিত করেছে নাপোলি। এই জয়ের মাধ্যমে লিগ টেবিলের শীর্ষ চার নিশ্চিত করে ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেয় ক্লাবটি। একই সঙ্গে এই ম্যাচের পরই ডেনিশ স্ট্রাইকার রাসমুস হজলুন্ডের নাপোলিতে স্থায়ী হওয়া নিশ্চিত হয়েছে। ধারে খেলা ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড চুক্তির শর্ত পূরণ করায় ৩৮ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে স্থায়ীভাবে নাপোলির খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন।

স্টাডিও রোমিও আনকোনেতানি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে আন্তোনিও কন্তের দল নাপোলি। বল দখল ও আক্রমণভাগে ধারাবাহিক চাপ বজায় রেখে প্রতিপক্ষকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করে তারা। ম্যাচের ২১তম মিনিটে প্রথম গোলের সূচনা আসে স্কট ম্যাকটমিনের পা থেকে। সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডারের করা এই গোলে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট করেন হজলুন্ড।

এর মাত্র ছয় মিনিট পর নাপোলি ব্যবধান দ্বিগুণ করে। এলজিফ এলমাসের নেওয়া কর্নার থেকে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান ডিফেন্ডার আমির রহমানি। প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড নিয়ে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধে পিসা কিছুটা আক্রমণ গড়ে তুললেও নাপোলির সংগঠিত রক্ষণভাগ তা সফলভাবে প্রতিহত করে। ম্যাচের একেবারে ইনজুরি টাইমে নিজের গোল করে জয় নিশ্চিত করেন রাসমুস হজলুন্ড। এটি চলতি সিরি আ মৌসুমে তার ১১তম গোল।

এই জয়ের ফলে নাপোলি এক ম্যাচ হাতে রেখেই পঞ্চম স্থানে থাকা কোমোর চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষ চার নিশ্চিত করে। এর মধ্য দিয়ে তাদের আগামী মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়।

চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গেই কার্যকর হয় হজলুন্ডের লোন চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। চুক্তি অনুযায়ী, নাপোলি শীর্ষ চার নিশ্চিত করে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেই তাকে স্থায়ীভাবে দলে ভেড়ানো বাধ্যতামূলক ছিল।

২০২৩ সালে ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তা থেকে ৬৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বড় ট্রান্সফারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন হজলুন্ড। তবে ইংলিশ ক্লাবে প্রত্যাশা অনুযায়ী ধারাবাহিকতা না পাওয়ায় গত আগস্টে তিনি ধারে নাপোলিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই ইতালিতে নিজের ছন্দ ফিরে পান এই ডেনিশ ফরোয়ার্ড।

নাপোলিতে ফিরে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি ৪৩ ম্যাচে ১৫ গোল করেছেন এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন। কোচ আন্তোনিও কন্তের আক্রমণভাগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তার গোল ও অ্যাসিস্ট নাপোলির সাফল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

পিসার বিপক্ষে ম্যাচেও এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে তিনি দলের জয়ে সরাসরি ভূমিকা রাখেন। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নাপোলির আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর ও স্থিতিশীল করেছে।

এখন নাপোলির সামনে মৌসুমের শেষ ম্যাচ। উদিনিসের বিপক্ষে জয় পেলে দলটি রানার্স-আপ হিসেবে লিগ শেষ করবে। একই সঙ্গে হজলুন্ডকে স্থায়ীভাবে দলে রেখে আগামী মৌসুমে আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে ক্লাবটি।

Leave a Comment