লিওনেল মেসির মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) যোগদান যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সংস্কৃতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবল তারকার উপস্থিতি ঘিরে প্রতিটি ম্যাচেই এখন গ্যালারি পূর্ণ হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দর্শকের আগ্রহও দেখা যাচ্ছে। ফলে এমএলএস এখন আর কেবল একটি ঘরোয়া লিগ নয়, বরং বৈশ্বিক ক্রীড়া বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কলোরাডো র্যাপিডস ও ইন্টার মায়ামির ম্যাচটি এই প্রবণতার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ। কলোরাডোর নিজস্ব মাঠের ধারণক্ষমতা মাত্র ১৮ হাজার হলেও মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র আগ্রহের কারণে ম্যাচটি স্থানান্তর করে নেওয়া হয় ডেনভারের ৭৬ হাজার ধারণক্ষমতার এম্পাওয়ার ফিল্ডে। সেখানে ৭৫ হাজার ৮২৪ দর্শক মাঠে বসে খেলা উপভোগ করেন, যা ইন্টার মায়ামির ইতিহাসে এমএলএসে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড।
এই ম্যাচটি এমএলএস ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির ম্যাচ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সি ও লস অ্যাঞ্জেলস এফসির ম্যাচে রেকর্ড ৮২,১১০ দর্শক মাঠে উপস্থিত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, মেসির উপস্থিতি এখন লিগের দর্শক চাহিদার ধরণই বদলে দিয়েছে।
চলতি মৌসুমে ইন্টার মায়ামি ইতোমধ্যেই তিনটি ম্যাচে ৭০ হাজারের বেশি দর্শক আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে, এবং প্রতিটি ম্যাচেই মাঠে ছিলেন লিওনেল মেসি। এই তিনটি ম্যাচে দর্শক সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭৫,৬৭৩, ৭২,০২৬ এবং ৭৫,৮২৪। এর মাধ্যমে ইন্টার মায়ামি এমএলএস ইতিহাসে একমাত্র ক্লাব হিসেবে উঠে এসেছে, যারা এক মৌসুমে অন্তত তিনবার ৭০ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে খেলেছে।
মেসির জনপ্রিয়তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাতেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ম্যাচগুলোতে ‘মেসি ১০ নম্বর’ জার্সি পরা দর্শকের ঢল দেখা গেছে। তিনি মাঠে নামলেই স্টেডিয়াম রূপ নেয় এক উৎসবমুখর পরিবেশে, যেখানে টিকিটের চাহিদা অনেক সময় সরবরাহের চেয়ে বহু গুণ বেশি হয়ে যায়।
সর্বশেষ ম্যাচে ইন্টার মায়ামি কলোরাডো র্যাপিডসকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয়। ম্যাচে দলের জয়ের নায়ক ছিলেন লিওনেল মেসি নিজেই। তিনি ১৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করেন এবং ৭৯তম মিনিটে করেন দ্বিতীয় গোল, যা ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই জয়ের ফলে ইন্টার মায়ামি এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্স টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। আট ম্যাচে দলটির সংগ্রহ ১৫ পয়েন্ট—৪ জয়, ৩ ড্র এবং ১ পরাজয়। শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল, যারা ৮ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট অর্জন করেছে।
নিম্নে মেসি-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক এমএলএস দর্শক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হলো:
| ম্যাচ | দর্শক সংখ্যা | ভেন্যু |
|---|---|---|
| ইন্টার মায়ামি বনাম কলোরাডো র্যাপিডস | ৭৫,৮২৪ | এম্পাওয়ার ফিল্ড, ডেনভার |
| ইন্টার মায়ামি বনাম এলএএফসি | ৭৫,৬৭৩ | যুক্তরাষ্ট্র |
| ইন্টার মায়ামি বনাম ডিসি ইউনাইটেড | ৭২,০২৬ | যুক্তরাষ্ট্র |
| এলএ গ্যালাক্সি বনাম এলএএফসি (২০২৩) | ৮২,১১০ | যুক্তরাষ্ট্র |
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, মেসির উপস্থিতি এমএলএসকে বৈশ্বিকভাবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। টেলিভিশন দর্শকসংখ্যা, টিকিট বিক্রি, স্পনসর আগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া কাভারেজ—সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, মেসি পরবর্তী যুগেও এমএলএসের বাণিজ্যিক মূল্য এবং ফুটবলের জনপ্রিয়তা দীর্ঘ সময় ধরে তার প্রভাব বহন করবে।
