প্যারিসের আলো ঝলমলে রাতটা মোহাম্মদ সালাহর জন্য ছিল যেন এক দুঃস্বপ্ন। ৮৬ মিনিট পর্যন্ত মাঠে থাকার পর লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট অবশেষে তাঁকে তুলে নেন। লিভারপুল সমর্থকদের জন্য এটি ছিল স্বস্তির মুহূর্ত, এমনকি সালাহ নিজেও মনে হচ্ছিল হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন।
চলতি মৌসুমে ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সালাহ। তবে পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে সেই সেরার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। লিভারপুলের ১১ নম্বর জার্সি পরে যেন দৌড়ে বেড়িয়েছেন তাঁরই এক অনুজ্জ্বল ছায়া। পুরো ম্যাচেই ছিলেন অদৃশ্য, যেন খেলার মধ্যে থেকেও ছিলেন না।
শুধু সালাহ নয়, পুরো লিভারপুল দলই পিএসজির আক্রমণের সামনে নাস্তানাবুদ হচ্ছিল। ৯০ মিনিট পার করাই যেন ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য। এমন পরিস্থিতিতে একমাত্র স্বস্তি এনে দেন হার্ভে এলিয়ট। সালাহর বদলি হিসেবে মাঠে নামার এক মিনিটের মধ্যেই গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন তিনি।
সালাহর পারফরম্যান্স এতটাই হতাশাজনক ছিল যে, বিভিন্ন মূল পরিসংখ্যানে তাঁর অবদান ছিল শূন্য।
সালাহর পরিসংখ্যান (পিএসজির বিপক্ষে)
- গোল – ০
- অ্যাসিস্ট – ০
- শট – ০
- লক্ষ্যে শট – ০
- সুযোগ তৈরি – ০
- গুরুত্বপূর্ণ পাস – ০
- সফল ড্রিবল – ০
- নিখুঁত ক্রস – ০
- ডুয়েল জয় – ০
- ফাউল আদায় – ০
সাধারণত, কোনো ফরোয়ার্ড গোল বা অ্যাসিস্ট করতে না পারলেও অন্তত সফল ড্রিবল বা গুরুত্বপূর্ণ পাসে অবদান রাখেন। কিন্তু সালাহ পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে একদমই নিস্তেজ ছিলেন। অথচ এই মৌসুমেই তিনি ৪০ ম্যাচে ৩০ গোলের পাশাপাশি ২২টি অ্যাসিস্ট করেছেন। এমনকি ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার বলেও বিবেচিত হচ্ছেন।
এমন বাজে দিনের পরও স্বস্তির বিষয় হলো, লিভারপুল জয় পেয়েছে। সালাহর জন্য এই ম্যাচ ভুলে যাওয়া জরুরি, যাতে তিনি সামনে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে পারেন।
