পিএসজি পরীক্ষার আগে অস্বস্তি: হেইডেনহেইমের কাছে হার এড়াল বায়ার্ন

আগামী সপ্তাহে বায়ার্ন মিউনিখের ঘরের মাঠ অ্যালিয়েঞ্জ এরেনাতে অনুষ্ঠিত হবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। সেই অগ্নিপরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে বুন্দেসলিগার এই ম্যাচটিকে ধরা হয়েছিল ছন্দ ফিরে পাওয়ার উপলক্ষ হিসেবে। তবে ৩৫তম লিগ শিরোপা জয়ী দলটি হেইডেনহেইমের বিপক্ষে হারের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসেছে। ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তের এক গোলে পরাজয়ের লজ্জা এড়ায় ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা।

মূল তারকাদের অনুপস্থিতি ও রক্ষণভাগের বিপর্যয়

পিএসজি ম্যাচের কথা মাথায় রেখে এদিন বায়ার্ন মিউনিখ তাদের নিয়মিত একাদশে ব্যাপক রদবদল আনে। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার এবং প্রধান স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে ছাড়াই মাঠে নামে বায়ার্ন। নিয়মিত খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রাখার এই সিদ্ধান্ত বায়ার্নের রক্ষণভাগের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে। ম্যাচের শুরু থেকেই হেইডেনহেইমের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে বায়ার্নের ডিফেন্স।

ম্যাচের মাত্র ২২ মিনিটে বুদু জিভজিভাজের চমৎকার এক ভলিতে এগিয়ে যায় সফরকারী হেইডেনহেইম। বায়ার্ন সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ৩১ মিনিটে এরেন ডিঙ্কি ব্যবধান ২-০ করেন। আধঘণ্টার মধ্যে দুই গোল হজম করে বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা চরম অস্বস্তিতে পড়ে। রক্ষণের এই নড়বড়ে অবস্থা পিএসজির মতো শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিপক্ষে কোচ কোম্পানির জন্য নতুন চিন্তার জন্ম দিয়েছে।


দ্বিতীয় অর্ধের রোমাঞ্চ ও বায়ার্নের ঘুরে দাঁড়ানো

ম্যাচের প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ ৪৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন লিওন গোরেৎকা। বিরতির পর কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি দলে চারটি পরিবর্তন এনে আক্রমণভাগের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করেন। এর সুফল পাওয়া যায় ম্যাচের ৫৭ মিনিটে, যখন গোরেৎকা নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করে স্কোর ৩-৩ সমতায় ফেরান।

তবে সমতা ফেরার পরও হেইডেনহেইম দমে যায়নি। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে বুদু জিভজিভাজে তার দ্বিতীয় গোলটি করে হেইডেনহেইমকে ফের ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর যখন হেইডেনহেইম ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই বায়ার্নের অলিসের একটি শট গোলপোস্টে লেগে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় দিয়ান্ত রামাজের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। ইনজুরি টাইমের এই আত্মঘাতী গোলে শেষ পর্যন্ত ৩-৩ ব্যবধানে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন।


চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব

গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগটি ছিল গোল উৎসবের, যেখানে ৫-৪ ব্যবধানে হেরে যায় বায়ার্ন। পিএসজির বিপক্ষে ফিরতি লেগের ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই দলটির সামনে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে টেবিলের তলানির দল হেইডেনহেইমের বিপক্ষে ৩টি গোল হজম করা এবং কোনোমতে হার এড়ানো বায়ার্নের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

শিরোপা জয় আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় খেলোয়াড়দের মধ্যে একাগ্রতার অভাব এবং রক্ষণভাগের নড়বড়ে অবস্থা সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, লিগ টেবিলের তলানিতে থাকা হেইডেনহেইম জয়ের খুব কাছে গিয়েও ড্র করলেও, বায়ার্নের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন লড়াই তাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং অনুপ্রেরণামূলক এক অভিজ্ঞতা।

পিএসজির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নামার আগে বায়ার্ন মিউনিখকে দ্রুত তাদের রক্ষণভাগের ত্রুটিগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। মানুয়েল নয়ার এবং হ্যারি কেইনের অনুপস্থিতি বায়ার্নের আক্রমণ ও রক্ষণ উভয় বিভাগেই যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে, তা কাটিয়ে ওঠাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। অ্যালিয়েঞ্জ এরেনাতে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে বায়ার্নকে হেইডেনহেইমের বিরুদ্ধে করা ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে। ৩-৩ গোলের এই ফলাফল বায়ার্নের জন্য কেবল একটি পয়েন্ট নয়, বরং আসন্ন অগ্নিপরীক্ষার আগে এক শক্তিশালী সতর্কবার্তা।

Leave a Comment