বক্সিংয়ের আইন কানুন: বক্সিং মানেই জমজমাট উত্তেজনা। দু’জন বক্সার যখন রিংয়ের মধ্যে তুমুল গতিতে একে অপরকে আঘাত হানতে থাকেন, তখন রিংয়ের পাশে টেলিভিশন সেটের সামনে বসে থাকা দর্শকরা বুঁদ হয়ে যান এর নেশায়। জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবার পর দর্শকদের উল্লাস উদ্দাম হয়ে ওঠে। আর প্রিয় বক্সারটি বিজয়ী হলে তো কথাই নেই, উল্লাসের উদ্দামতা সম্ভব- অসম্ভবের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যায়। তাই ইউরোপ ও আমেরিকায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বক্সিং মানেই কয়েক কোটি ডলারের দুর্দান্ত একটি ব্যবসা ।
Table of Contents
বক্সিংয়ের আইন কানুন । খেলাধুলার আইন
কিন্তু বক্সিংয়ের ইতিহাস, এর শ্রেনীবিন্যাস, নিয়ম- কানুন সম্বন্ধে খুব কম দর্শকই ওয়াকিবহাল। ক্ষুদ্র পরিসরে এর সব খুঁটিনাটি তথ্য লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়। তারপরেও এর কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য এখানে পরিবেশন করা
ইতিহাসের পাতা থেকে বক্সিং
রোমান সভ্যতা মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় বহু উপাদানকে উপহার দিয়েছে। এরমধ্যে অলিম্পিক গেমস হচ্ছে একটি। প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত এই কর্মকান্ডে নানারকম ক্রীড়ার আয়োজন করা হত। এর মধ্যে প্যানেক্রেসিয়া ছিল অন্যতম। এ খেলায় যারা অংশগ্রহন করতেন তাদেরকে বলা হত গ্ল্যাডিয়েটার। পুরোপুরিভাবে ফ্রিস্টাইলের এই খেলায় মুষ্টাঘাত ছিল প্রধানতম অংগ। বিজয়ীর হাতে বিজিতের মৃত্যুবরণ করার মধ্য দিয়েই খেলার পরিসমাপ্তি ঘটত। আক্ষরিক অর্থে রোমান যুগের প্যানেক্রেসিয়াকেই আজকের বক্সিংয়ের পূর্বসূরী বলা যেতে পারে। এই ফাঁকে একটি তথ্য জানিয়ে রাখি। সে যুগে প্যানেক্রেসিয়ায় কোনরকম শ্ৰেণীবিভাগ ছিল না।
রোমান সম্রাট প্রথম থিওডেসিয়াস অলিম্পিক গেমসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত রোমের কলাসিয়ামে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন বহু হতভাগ্য গ্ল্যাডিয়েটার। ঐ বছরে সবধরনের ক্রীড়াচর্চা নিষিদ্ধ হলেও খেলাটি টিকে ছিল অভিজাত শ্রেণীর ব্যক্তিগত স্টেডিয়ামে। তবে রাজরোষের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবার জন্য একজন প্রতিযোগির মৃত্যুবরণ না করা পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাবার নিয়মটিকে বাদ দেয়া হয়। তার পরিবর্তে একজন প্রতিযোগি ধরাশায়ী না হওয়া পর্যন্ত খেলাটিকে চালানোর নিয়ম প্রবর্তন করা হয় থিওডোসিয়াম পরবর্তী সময়কালে ।
সময়ের বিবর্তনে পতন ঘটে রোমান সভ্যতার। এরপর বহু সভ্যতার হাত ঘুরে, বহু চড়াই উৎরাই পার হয়ে বক্সিং চলে আসে ইংল্যান্ডে। ইংল্যান্ডের কুইসবেরী এলাকার জমিদার পরিবার সে যুগের অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ও প্রতাপশালী অভিজাত পরিবারের একটি হিসাবে পরিগনিত হতেন। রাজ-পরিবারের সাথে বিশেষ সৌহার্দ্যের কারণে এ পরিবারের প্রধানকে “মার্কুইস” পদবীতে ভূষিত করা হত। এ পরিবারই ইংল্যান্ডে বক্সিংকে নিয়ে আসেন।
১৮৮০ সালে কুইসবেরীর তৎকালীন মার্কুইস প্রথমে হাউজ অব কমন্সে ও পরে হাউজ অব লর্ডসে আইন পাশ করিয়ে বক্সিংকে প্রথাসিদ্ধ ক্রীড়ার মর্যাদা দেন। ফলে ১৮৯৬ সালে অলিম্পিক গেমস পুনঃপ্রচলিত হবার পর বক্সিং তাতে অন্তর্ভুক্ত হবার সুযোগ পায়।
১৮৮০ সাল থেকে এ পর্যন্ত দীর্ঘ ১১৫ বছরের সময়কালে বহুধরনের নিয়ম-কানুন প্রচলিত হবার ফলে আমরা পেয়েছি আজকের বক্সিংকে
চারটি ফেডারেশনের কথা
১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট বক্সিংকে আইনসিদ্ধ ক্রীড়া হিসাবে ঘোষণা করে। কিন্তু পৃথিবীর প্রথম বক্সিং ফেডারেশন ওয়ার্ল্ড বক্সিং বাউট অনুষ্ঠিত হয়। আর হেভিওয়েট ডিভিশনের চ্যাম্পিয়নশীপ ম্যাচটি প্রথমে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের জন ইলিয়ট সুলিভান প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসাবে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখান। ১৮৮১ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাউন্সিলই ছিল বক্সিংয়ের একমাত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
কিন্তু ১৯৮০ সালে র্যাংকিং পদ্ধতি নিয়ে গোলমাল সৃষ্টি হবার ফলে গঠিত হয়। পাল্টা সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল বক্সিং ফেডারেশন। কথায় আছে যে, একবার ভাঙ্গনের নেশায় পেয়ে বসলে বারবার ভাঙ্গতে ইচ্ছা করে। তাই ১৯৮৫ সালে উদ্ভব ঘটে আরো একটি বিশ্ব সংস্থার, যার নাম ওয়ার্ল্ড বক্সিং এসোসিয়েশন। আর সর্বশেষ সংস্থা ওয়ার্ল্ড বক্সিং অর্গানাইজেশনের উৎপত্তি হয় ১৯৯০ সালে। অর্থাৎ বর্তমানে বক্সিংকে নিয়ন্ত্রন করছে চারটি বিশ্ব সংস্থা।
তবে সব ক’টি সংস্থা একই ধরনের শ্রেনীবিন্যাস ও নিয়ম-কানুনকে অনুসরণ করছে।
বক্সিংয়ের শ্রেনীবিন্যাস
লেখা হিসাবে বক্সিং আন-আর্মড কমব্যাটের অন্তর্ভুক্ত। এই বিভাগের আর সব ক্রীড়ার মতই শরীরের ওজন অনুযায়ী বক্সিংয়ের শ্রেনীবিন্যাস করা হয়েছে। এর শ্রেনীবিন্যাসগুলো নিচে তুলে ধরা হলোঃ
| সিনিয়র প্রতিযোগিতা | ||
| ইভেন্ট | ওজন (কেজি) | পাঃ আঃ ডাঃ |
| লাইট ফ্লাই ওয়েট | ৪৮(এর বেশি নয়) | ১০৫-১৩-২ |
| ফ্লাই ওয়েট | ৫১ | ১১২-৬-১৫ |
| ব্যান্টম ওয়েট | ৫৪ | ১১৯-০-২ |
| ফেদার ওয়েট | ৫৭ | ১২৫-১০-৯ |
| লাইট ওয়েট | ৬০ | ১৩২-৪-৭ |
| লাইট ওয়াল্টার ওয়েট | ৬৩ | ১৩৯-১৫-১৪ |
| ওয়াল্টার ওয়েট | ৬৭ | ১৪৭-১১-৫ |
| লাইড মিডল ওয়েট | ৭১ | ১৫৬-৮-৭ |
| মিডল ওয়েট | ৭৫ | ১৬৫-৫-৮ |
| লাইড হেভি ওয়েট | ৮১ | ১৭৮-৯-৩ |
| হেভি ওয়েট | ৮১(এর বেশি নয়) | ১৭৮-৯-৩(এর বেশি নয়) |
| জুনিয়র প্রতিযোগিতা | ||
| ইভেন্ট | ওজন (কেজি) | পাউন্ড |
| লিলিপুটিয়ান ওয়েন্ট | ২২.১২ | ৪৯ |
| নোভিস ওয়েন্ট | ২৫.৪০ | ৫৬ |
| পেপার ওয়েন্ট | ২৮.৫৭ | ৬৩ |
| মিগগেট ওয়েন্ট | ৩১.৭৫ | ৭০ |
| মস্কিটো ওয়েন্ট | ৩৪.৯২ | ৭৭ |
| ক্যাট ওয়েন্ট | ৩৮.১০ | ৮৪ |
| ফ্লাই ওয়েন্ট | ৪২.২৭ | ৯১ |
| বান্টম ওয়েন্ট | ৪৪.৪৫ | ৯৮ |
| লেদার ওয়েন্ট | ৪৭.৬২ | ১০৫ |
| লাইট ওয়েন্ট | ৫০.৮০ | ১১২ |
| ওয়াল্টার ওয়েন্ট | ৫৩.৯৭ | ১১৯ |
| মিডল ওয়েন্ট | ৫৭.১৫ | ১২৬ |
| লাইট হেভি ওয়েন্ট | ৬০.৩২ | ১৩৩ |
| হেভি ওয়েন্ট | ৬০.৩২ (এর বেশি) | ১৩৩ (এর বেশি) |
উপরে প্রতিটি শ্রেণীর ওজন বিভাগের উর্ধ্বসীমা দেয়া হল। একজন বক্সার যদি শরীরের ওজন বাড়িয়ে পরবর্তী ধাপের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন তাহলে তিনি পরবর্তী শ্রেনীতে খেলার সুযোগ পাবেন।
পাঞ্চের রকম ফের
আধুনিক বক্সিংয়ে হাতকে মুষ্টিবদ্ধ করলে যে তলটি তৈরি হয় শুধুমাত্র সেই তলের উপরিভাগ নিয়েই প্রতিপক্ষকে আঘাত করা যাবে। এই তলটি ছাড়া শরীরের আর যে কোন অংশ দ্বারা আঘাত করা পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ। শরীরের এই অংশ দ্বারা যেমন আঘাত হানা হয় সে সব আঘাতকে সাধারণভাবে বলা হয় পাঞ্চ ।
আঘাত হানার পদ্ধতি অনুযায়ী পাঞ্চকে আটটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমনঃ জ্যাব,হুক, ক্রস, আপার কাট, লোয়ার কাট, কম্বিনেশন হেড রো ও বডি পাঞ্চ। সরাসরিভাবে আগে আঘাত হানার নাম হচ্ছে জ্যাব। দূরপাল্লার শট হিসাবে এটি অত্যন্ত কার্যকরী ।
কনুই ভেঙ্গে নিচ থেকে চিবুকে আঘাত হানার নাম হচ্ছে হুক। স্বল্পপাল্লার শটগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক।
হাত ঘুরিয়ে গালে আঘাত হানার নাম হচ্ছে ক্রস।
জ্যাব, হুক ও ক্রসের লেফট ও রাইট দুটি সাব-ডিভিশনই আছে। ডান হাতে মারলে রাইট জ্যাব, রাইট হুক ও রাইট ক্রস এবং বাঁ হাতে মারলে লেফট জ্যাব,লেফট হুক ও লেফট ক্রস ধরা হয়।
বক্সিংয়ে মুখমন্ডলকে আপার ও লোয়ার দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কপাল থেকে নাক পর্যন্ত হচ্ছে আপার পোর্শন। আর নাকের নিচ থেকে গলা পর্যন্ত হচ্ছে লোয়ার পোর্শন।
কনুই ভেঙ্গে নিচ থেকে আপার পোর্শনে আঘাত হানার নাম হচ্ছে আপার কাট। আর একইভাবে উপর থেকে লোয়ার পোর্শনে আঘাত হানার নাম হচ্ছে লোয়ার কাট। দু’হাতে পরপর একই ধরনের পাঞ্চ হানার নাম হচ্ছে কম্বিনেশন।
সরাসরিভাবে কপালে আঘাত হানার নাম হচ্ছে হেড রো। আর কাঁধ থেকে বেল্টের উপরিভাগ পর্যন্ত অংশে যে কোন ধরনের আঘাত হানার নাম হচ্ছে বডি পাঞ্চ ।
বলা বাহুল্য যে ফ্লাইওয়েট থেকে হেভিওয়েট পর্যন্ত সকল শ্রেনীতেই পাঞ্চগুলোর নাম একই ধরনের।
বক্সিংয়ে যা যা নিষিদ্ধ
মুষ্টির উপরিভাগ ছাড়া শরীরের আর যে কোন অংশ নিয়ে প্রতিপক্ষকে আঘাত করা যাবে না। যদি করা হয় তাহলে পয়েন্ট তো কেটে নেয়া হবেই, এমনি ক্ষেত্র বিশেষে ডিসকোয়ালিফাইও করা হতে পারে।
আঘাত হানা যাবে কপাল থেকে বেল্টের উপরিভাগ পর্যন্ত। বেল্টের নিচে বা মার্ক এরিয়ার আশপাশে আঘাত হানা যাবে না। যদি বেল্টের নিচে বা মার্ক এরিয়ার বাইরে জাত হানা হয় তাহলে পাঞ্চটিকে বেআইনী ধরে নিয়ে ওয়ার্নিং দিয়ে পয়েন্ট কেটে নেয়া হবে। আর একই ম্যাচে তিনবার ওয়ার্নিং পাওয়া বক্সারটি ম্যাচ থেকে ডিসকোয়ালিফাও হবেন।
যখন একজন বক্সার আরেকজন বক্সারকে জড়িয়ে ধরবেন তখন তাকে পাঞ্চ মারা যাবে না। রেফারি হোল্ডিং ছুটিয়ে বক্সারদ্বয়কে মুখোমুখি দাড় করাবেন। তারপর তিন পর্যন্ত গুণে পুনরায় খেলা শুরু করবেন। কিন্তু যদি কোন বক্সার হোল্ডিংয়ের সময় প্রতিপক্ষকে আঘাত করেন অথবা মাথা, কাঁধ বা কনুই দিয়ে হোল্ডিং ছুটিয়ে ফেলেন তাহলে তার পয়েন্ট কেটে নিয়ে ওয়ার্নিং দেয়া হবে। বলা বাহুল্য যে, ক’পয়েন্ট কেটে নেয়া হবে তা নির্ভর করবে রেফারির সিদ্ধান্তের উপর।
কোনমতেই প্রতিপক্ষের চোখে, বুকের মধ্যস্থলে বা কিডনিতে আঘাত হানা চলবে না। যদি তা করা হয় তাহলে পয়েন্ট কেটে নেয়া, ওয়ার্নিং, ডিসকোয়ালিফিকেশন বা বক্সিং থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার সবই ঘটতে পারে।
খেলার নিয়ম-কানুন
২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ২০ ফুট প্রস্থের একটি বর্গাকৃতি রিংয়ে বক্সিং ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। একটি ম্যাচের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১০ রাউন্ড পর্যন্ত। প্রতিটি রাউন্ডের স্থায়ীত্ত কাল হচ্ছে আড়াই মিনিট। প্রতি রাউন্ড শেষে দেড় মিনিটের বিরতি দেয়া হয়। বিরতির সময় কর্ণারম্যানরা বক্সারকে পানি পান করান, তার শরীর ম্যাসেজ করে দেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করেন।
বেল বাজার সাথে সাথে রাউন্ডের খেলা শুরু হয়। আর বেল বাজার সাথে সাথে রাউন্ডের খেলা শেষ করে দেয়া হয়। যদি বিরতির ঘন্টা বাজার পরেও খেলা চালিয়ে যান বক্সাররা তাহলে তাদেরকে ওয়ার্নিং দিয়ে পয়েন্ট কেটে নেয়া হবে। আর বিরতির ঘন্টা বাজার পরপরেই যদি একজন বক্সার প্রতিপক্ষকেই আঘাত করেন তাহলে বেআইনী আঘাত হানার দায়ে তাকে সতর্ক করে দেয়া হবে। পাশাপাশি পয়েন্ট কেটে নেয়ার বিধানটিতো রয়েছেই।
রিংয়ে রেফারির সিদ্ধান্তই হচ্ছে চূড়ান্ত। খেলা শেষে তার কোন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিটির কাছে লিখিত প্রতিবাদ পেশ করা যাবে। কিন্তু খেলা চলাকালীন সময়ে তার কোন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ কোনভাবেই করা যাবে না। যদি করা হয় তাহলে কমিটি ম্যাচ ক্যানসেল করে নিয়ে প্রতিবাদকারী ক্যাম্পকে সাসপেন্ড করতে পারেন
খেলার বিচারক হচ্ছেন তিনজন। প্রথম দু’জন রিংয়ের পাশে বসে থাকেন। আর তৃতীয়জন হচ্ছেন রেফারি। প্রতিটি কানেক্টিং পাঞ্চের জন্য পয়েন্ট দেয়া হয় বেআইনী পাঞ্চ ও ওয়ার্নিংয়ের ক্ষেত্রে রেফারির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পয়েন্ট কেটে নেয়া হয়। অ্যাটেম্পটেড ও মিস পাঞ্চের জন্য কোন পয়েন্ট নেই।
কানেক্টিং পাঞ্চের ক্ষেত্রে কার্যকারীতার উপর নির্ভর করে পয়েন্ট বন্টন করা হয়। তবে, সচারাচর একটি কার্যকর ফেস-পাঞ্চের জন্য সাড়ে চার পয়েন্ট ও একটি সফল বাউ-পাঞ্চের জন্য দেড় পয়েন্ট দেয়া হয়। বিচারকগণ পৃথক পৃথক ভাবে প্রতিটি রাউন্ডের পয়েন্ট শীট পূরণ করেন। এরপর খেলা শেষে সব কটি রাউন্ডের শীট একত্র করে পূর্ণ পয়েন্ট নির্ধারণ করে তারপর তিনজন বিচারকের পয়েন্টশীট দেয়া হয় মাস্টার অব সেরেমনির হাতে। তিনি প্রথমে পৃথক পৃথক ভাবে তিনজন বিচারকের রায় পড়ে শোনান। অবশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন
নক আউট
এমনিতেই বক্সিং মানেই সার্বক্ষনিক উত্তেজনা। তারপর যদি একটি বক্সিং ম্যাচ নক-আউটের মাধ্যমে শেষ হয় তাহলে সে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠে যায়। পূর্ণ সময়সীমার আগেই যদি কোন বক্সার শারীরিক আঘাতের জন্য খেলা না চালিয়ে যেতে পারেন। তাহলে তাকে নক-আউট হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়ে থাকে ।
নক আউট দু’ধরনের. ফ্লোরিং ও টেকনিক্যাল। যদি প্রচন্ড আঘাতে বিপর্যন্ত বক্সারটি ক্যানভাসে পড়ে যান আর রেফারি দশ পর্যন্তগোনার পরেও উঠে দাঁড়াতে না পারেন তাহলে তাকে ডিক্লেয়ার করা হবে কমপ্লিটলি ফ্লোরড হিসাবে। অন্যদিকে টেকনিক্যাল নক-আউট ঘটে তিনটি কারণে।
এক, গুরুতর আঘাত প্রাপ্তির দরুন বক্সার খেলায় অংশগ্রহণ করতে অক্ষম হয়ে পড়তে পারেন। দুই, ক্যানভাসে পড়ে যাবার পর দশ গোনার আগেই কোন বক্সার উঠে দাঁড়াবার পর তিনি খেলায় অংশগ্রহণ করার জন্য অনুপযুক্ত হিসাবে বিবেচিত হতে পারেন। তিন, যখন কর্ণারম্যানরা একজন বক্সারের উপর তোয়ালে ছুঁড়ে দেন। প্রথম দু’ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দেবেন রেফারি। আর তৃতীয় ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বক্সারের টেইনার।
নকআউট ঘোষণা করার আগে সম্ভাব্য বিজয়ীকে অবস্থান নিতে হবে বিপর্যন্ত বক্সারের ঠিক উল্টো কর্ণারে । নতুবা রেফারি তাকে ওয়ার্নিং দেবেন ।
পরিশেষে দুটি কথা
খেলা হিসাবে বক্সিং দর্শকদের কাছে উত্তেজনার রসদ। আর একজন খেলোয়াড়ের কাছে বক্সিং হচ্ছে জীবিকা নির্বাহের লোভনীয় একটি মাধ্যম। বিশেষ করে উন্নত বিশ্বে একজন টপ র্যাংকিং বক্সারের আয়ের পরিমান রীতিমত আকাশ ছোঁয়া। তাই পৃথিবীর অনেক দেশেই বক্সিং এখন অসম্ভব জনপ্রিয় ।
কিন্তু একজন সফল বক্সারের পেছনের ইতিহাস হচ্ছে প্রচন্ড পরিশ্রমের এক কাহিনী । সৌখিন বক্সিং থেকে পেশাদারী জগতে অনুপ্রবেশ ও তারপর একের পর এক সাফল্য লাভের বর্নাঢ্য যাত্রার উল্টোপিঠে রয়েছে নিরলস ট্রেনিং ও কঠোর ফিটনেস প্রোগ্রামের অনুজ্জ্বল দিক। এর পাশাপাশি রয়েছে ইনজ্যুরির ঝুঁকি। মূলতঃ বক্সিং হচ্ছে এমন একটি খেলা যেখানে ক্ষনিকের ভুলে একজন বক্সার গুরুতরভাবে আহত হতে পারেন। অতএব, চরম সতর্কতা অবলম্বনেরও প্রয়োজন রয়েছে এ খেলাতে তারপরেও উন্মাতাল উন্মাদনার নামই হচ্ছে বক্সিং।
