বাসে ডাকাত হামলায় নিহত ফ্রিমপং

ঘানার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বেরেকুম চেলসির উইঙ্গার ডমিনিক ফ্রিমপং সশস্ত্র ডাকাত দলের গুলিতে নিহত হয়েছেন। রোববার একটি অ্যাওয়ে ম্যাচ শেষে দলীয় বাসে ফেরার পথে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (জিএফএ)।

জিএফএর তথ্য অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সামরেবোইয়েতে সামারটেক্সের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ফেরার সময় বেরেকুম চেলসির খেলোয়াড় ও স্টাফদের বহনকারী বাসটি গোয়াসো-বিবিয়ানি সড়কে একদল সশস্ত্র ডাকাতের মুখোমুখি হয়। সড়ক অবরোধ করে ডাকাতরা বাসটির গতিরোধ করে। এ সময় বাসচালক পরিস্থিতি সামাল দিতে গাড়িটি পেছানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা বন্দুক ও অ্যাসল্ট রাইফেল থেকে গুলি ছোড়ে।

ক্লাবের পক্ষ থেকে সোমবার প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, আকস্মিক এই হামলায় খেলোয়াড় ও স্টাফদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। গুলিবর্ষণের সময় আত্মরক্ষার জন্য তারা দ্রুত বাস থেকে নেমে পাশের ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নেন। তবে এই হামলার মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান ২০ বছর বয়সী উইঙ্গার ডমিনিক ফ্রিমপং।

পরবর্তীতে জিএফএ পৃথক এক বিবৃতিতে ফ্রিমপংয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, এই ঘটনা শুধু বেরেকুম চেলসির জন্য নয়, বরং পুরো ঘানা ফুটবলের জন্য একটি বড় ক্ষতি। ফ্রিমপংকে তারা উদীয়মান তরুণ প্রতিভা হিসেবে উল্লেখ করে, যার নিষ্ঠা ও পারফরম্যান্স ঘরোয়া লিগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছিল।

ঘটনার পর জিএফএ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ম্যাচ খেলতে দলগুলোর যাতায়াতের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে সড়কপথে দলগুলোর চলাচলের সময় ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এ ধরনের ঘটনা ঘানার ফুটবলে নতুন নয়। ২০২৩ সালেও প্রায় একই ধরনের একটি হামলার ঘটনা ঘটে। তখন সামারটেক্সের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ফেরার পথে লেগন সিটিস ক্লাবের বাসে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। যদিও সেই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

নিচে সাম্প্রতিক সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:

সালক্লাবপ্রতিপক্ষঘটনাস্থলফলাফল
২০২৬বেরেকুম চেলসিসামারটেক্সগোয়াসো-বিবিয়ানি সড়কফ্রিমপং নিহত
২০২৩লেগন সিটিসসামারটেক্সফেরার পথকেউ হতাহত নয়

এই ঘটনাগুলো ঘরোয়া ফুটবলে দলগুলোর যাতায়াতকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এনেছে।

Leave a Comment