মাত্র কয়েক মাস আগেই তাঁর অধীনে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ শিরোপা জিতেছিল ইন্টার মায়ামি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে নতুন মৌসুম শুরু করলেও হঠাৎ করেই প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ হাভিয়ের মাচেরানো।
মঙ্গলবার ক্লাব কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্র অনুযায়ী, গত শনিবার নিউইয়র্ক বুলসের বিপক্ষে ২–২ গোলের ড্র ম্যাচের পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের সিদ্ধান্ত ক্লাবকে জানান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আপাতত প্রথম দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন গিলের্মো হয়োস, যিনি আগে ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ছিলেন।
দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে দেওয়া বিবৃতিতে মাচেরানো বলেন, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ক্লাব, কর্মী ও খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের অবদানকেই তিনি দলের সাফল্যের মূল হিসেবে উল্লেখ করেন।
খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির সতীর্থ ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব–২০ দলের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দেন, জেরার্দো মার্তিনোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে।
তাঁর অধীনে ইন্টার মায়ামি দ্রুতই সাফল্যের ধারায় ফিরে আসে। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের সেমিফাইনাল এবং লিগস কাপের ফাইনালে পৌঁছানোর পাশাপাশি ২০২৫ মৌসুমে এমএলএস কাপ জিতে ক্লাব ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করে দলটি।
মাচেরানোর অধীনে ইন্টার মায়ামির পারফরম্যান্স ছিল ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচ হিসেবে বিবেচিত।
| সূচক | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট ম্যাচ | ৬৭ |
| জয় | ৩৮ |
| ড্র | ১৫ |
| হার | ১৪ |
| গড় পয়েন্ট (প্রতি ম্যাচ) | ১.৯৩ |
২০২৬ মৌসুমে সাত ম্যাচ শেষে ইস্টার্ন কনফারেন্সে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে ইন্টার মায়ামি। তবে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে ন্যাশভিলের কাছে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে।
ক্লাবের মালিক হোর্হে মাস এক বিবৃতিতে জানান, মাচেরানো ইন্টার মায়ামির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবেন। এমএলএস কাপ জয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দলের পারফরম্যান্সে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দলের নেতৃত্বে তাঁর নিষ্ঠা ও পরিশ্রম ভবিষ্যতের জন্য একটি মানদণ্ড হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত গিলের্মো হয়োস এর আগে বিভিন্ন দেশের ক্লাব ও জাতীয় দলে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি বলিভিয়া জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ হলো চলমান মৌসুমে দলকে স্থিতিশীল রাখা এবং প্রতিযোগিতায় সাফল্য ধরে রাখা।
