চোটের কারণে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে মাঠে নামতে পারেননি বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়া। ফিরতি লেগেও তাঁর না খেলার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত ছিল। তবে সতীর্থদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সমর্থন জানাতে তিনি আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচ শেষে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় ফুটে ওঠে তীব্র অসন্তোষ, বিশেষ করে ম্যাচ পরিচালনায় থাকা রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে।
প্রথম লেগে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ফিরতি লেগে ঘুরে দাঁড়ানো ছিল বার্সার জন্য অপরিহার্য। সেই লক্ষ্যেই ম্যাচের শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দলটি। ম্যাচের ২৪ মিনিটের মধ্যে লামিনে ইয়ামাল ও ফেরান তোরেসের দুটি গোলে সমতা ফেরায় বার্সা। তবে ৩১ মিনিটে আতলেতিকোর আদেমোলা লোকমান গোল করে আবারও ম্যাচের গতি বদলে দেন। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে বার্সা আবারও পিছিয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ৭৯ মিনিটে, যখন বার্সার ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এর ফলে শেষ দিকে সংখ্যাগত দিক থেকেও পিছিয়ে পড়ে কাতালান ক্লাবটি। যদিও ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিততে সক্ষম হয় বার্সা, তবুও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের ব্যবধানে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।
নিচে দুই লেগের ফলাফল সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| লেগ | ভেন্যু | ফলাফল | উল্লেখযোগ্য ঘটনা |
|---|---|---|---|
| প্রথম লেগ | বার্সার মাঠ | বার্সা ০-২ আতলেতিকো | পাউ কুবারসির লাল কার্ড (৪৪’) |
| দ্বিতীয় লেগ | আতলেতিকোর মাঠ | বার্সা ২-১ আতলেতিকো | এরিক গার্সিয়ার লাল কার্ড (৭৯’) |
| মোট ফল | — | বার্সা ২-৩ আতলেতিকো | আতলেতিকোর অগ্রগতি |
দুই ম্যাচেই লাল কার্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রথম লেগে পাউ কুবারসি লাল কার্ড দেখেন, আর দ্বিতীয় লেগে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে এরিক গার্সিয়ার ক্ষেত্রে। এই ধারাবাহিক ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান রাফিনিয়া। তিনি ম্যাচ-পরবর্তী মন্তব্যে বলেন, রেফারিং ছিল নিম্নমানের এবং ম্যাচটি ‘ডাকাতির’ মতো হয়েছে।
ফিরতি লেগের রেফারি ক্লেমেন্ত তুরপিনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাফিনিয়া উল্লেখ করেন, আতলেতিকোর একাধিক ফাউলের পরও কার্ড না দেখানো ছিল বিস্ময়কর। প্রথমার্ধে দানি ওলমোর ওপর ফাউলের ঘটনায় পেনাল্টির আবেদনও নাকচ করা হয়, যা বার্সার পক্ষ থেকে অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রথম লেগের রেফারিং নিয়েও আপত্তি তোলে বার্সা। পেনাল্টি না দেওয়া এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে লাল কার্ড না দেখানোর বিষয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগ ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে খারিজ করা হয়।
বার্সার কোচ হান্সি ফ্লিক ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রথমার্ধে দল ভালো খেলেছে এবং আরও গোল করার সুযোগ ছিল। দুই লেগের পারফরম্যান্স বিবেচনায় তাঁর মতে, সেমিফাইনালে ওঠার যোগ্যতা ছিল বার্সার।
এই পরাজয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিযান শেষ হলেও মৌসুম এখনো শেষ হয়নি বার্সার জন্য। ইতোমধ্যে স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছে দলটি। লা লিগায় সাত ম্যাচ বাকি থাকতে ৯ পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে তারা। কোচ ফ্লিক জানিয়েছেন, এখন তাদের মূল লক্ষ্য লা লিগা শিরোপা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ধরে রাখা।
