বিপিএলে সাত ক্রিকেটার বাদ: বিসিবির প্রমাণবিহীন শাস্তি?

বিপিএলের নিলামকে কেন্দ্র করে হঠাৎই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে সাতজন অভিজ্ঞ ও নবীন ক্রিকেটারের নাম। তাঁরা অভিযোগ করছেন, প্রমাণ ছাড়াই তাঁদের ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিসিবির দাবি—এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে লিগের শুদ্ধতা রক্ষার স্বার্থে, এবং এটি কোনোভাবেই অপরাধ প্রমাণের সমতুল্য নয়।

বিসিবির বিজ্ঞপ্তি বলছে, গত বিপিএল শেষে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত উদ্বেগগুলোই পরবর্তীতে ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের কাছে পাঠানো হয় গভীর যাচাইয়ের জন্য। অ্যালেক্স মার্শারের নেতৃত্বে ইউনিটটি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে কয়েকটি সুপারিশ দেয়—যার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কিছু খেলোয়াড়কে নিলামে অন্তর্ভুক্ত না করার।

ইফতেখার রহমান বলেন,
“আমরা কাউকে দোষী বলছি না। কিন্তু রেড ফ্ল্যাগ থাকলে সেই ঝুঁকি নেওয়া যায় না। আমাদের এখতিয়ারের মধ্যেই রয়েছে কোনো খেলোয়াড়কে নিলামে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত।”

এদিকে বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের নাম বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও বোর্ড সূত্রে জানা যায়—তাঁরা হলেন এনামুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, সানজামুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও শফিউল ইসলাম। বিসিবি বলছে—নামের তালিকা প্রকাশ করা এখনই ঠিক হবে না, যাতে খেলোয়াড়দের সুনাম ক্ষুণ্ন না হয়।

অন্যদিকে কিছু খেলোয়াড়ের প্রশ্ন—যদি কেউ এখনো দোষী প্রমাণিত না হন, তবে তাঁদের বাদ দেওয়া হলো কী ভিত্তিতে? খেলার যোগ্যতা না থাকা, ইনজুরি—এসব কারণ থাকলে বোর্ড জানাত। কিন্তু রেড ফ্ল্যাগের কারণটিই এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

তবে বিসিবির বক্তব্য দৃঢ়—
“লিগের মর্যাদা রক্ষা প্রথম অগ্রাধিকার। এবং নৈতিকতা রক্ষায় কঠোর পথ বেছে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।”

এই সিদ্ধান্তকে কেউ দেখছেন শুদ্ধিকরণ অভিযান হিসেবে, আবার কেউ বলছেন—প্রমাণ ছাড়া খেলোয়াড় বাছাইয়ের এই পদ্ধতি আরও প্রশ্ন তৈরি করবে।

Leave a Comment