ব্যালন ডি’অর নিয়ে আগুন জ্বালালেন সিমিওনে: “রাফিনিয়াই প্রাপ্য!”

বার্সেলোনার ৩-১ গোলের দুর্দান্ত জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে রাফিনিয়া। ম্যাচে তার গোল, গতি এবং ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা আবারও প্রমাণ করেছে—এই ফুটবলার বড় মঞ্চে নিজের আলাদা জ্বাজ্জ্বল্য দেখাতে জানেন।

ম্যাচের আগেই আতলেতিকোর কোচ দিয়েগো সিমিওনে প্রকাশ করেছিলেন রাফিনিয়ার প্রতি তার গভীর প্রশংসা। কিন্তু ম্যাচ শেষে সেই প্রশংসার মাত্রা পৌঁছে যায় আরও উচ্চতায়। যেন পুরো ম্যাচজুড়ে ব্রাজিলিয়ানের আধিপত্য সিমিওনেকে নতুনভাবে মুগ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, “রাফিনিয়া অসাধারণ এক প্রতিভা। সে মাঠে যেকোনো জায়গায় খেলতে পারে। উইঙ্গার, মিডফিল্ড, স্ট্রাইকার—এমনকি উইং-ব্যাক, সব পজিশনেই সে মানানসই।”

সিমিওনে আরও বলেন, “সে সুযোগ তৈরি করে, গোল করে, প্রেস করে, অবিরত দৌড়ায়। আধুনিক ফুটবলে এমন খেলোয়াড় খুব বিরল।”

এরপরই তিনি ব্যালন ডি’অর নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দেন। বলেন, “আমি শুধু একটাই প্রশ্ন করি—সে ব্যালন ডি’অর জিতল না কীভাবে? সবাই যাকে খুশি তাকে বেছে নিতে পারে, কিন্তু আমার ভোট হলে রাফিনিয়া ছাড়া অন্য কাউকে ভাবতাম না।”

ম্যাচে বার্সার সমতা ফেরানো গোলটি করেন রাফিনিয়া। পুরো ম্যাচই তিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়। তার পায়ের ম্যাজিকই দলের জয়ের ভিত্তি গড়ে তোলে।

এ বছর ব্যালন ডি’অর জিতেছেন উসমান দেম্বেলে। লামিন ইয়ামাল হয়েছেন রানার আপ। আর রাফিনিয়া থেমেছেন পঞ্চম স্থানে। সিমিওনের কাছে যা অন্যায়ের মতোই মনে হচ্ছে।

এই ম্যাচে রাফিনিয়া ছিলেন বার্সেলোনার আক্রমণের প্রাণভোমরা। গোল করা তো বটেই, বল ছাড়াও তার দৌড়, প্রেসিং এবং ট্যাকটিক্যাল সচেতনতা পুরো ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। ডান প্রান্ত থেকে মাঝমাঠ—সব জায়গায় তার বিচরণ প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার অস্থির করে তুলেছে। ম্যাচের সমতা ফেরানো গুরুত্বপূর্ণ গোলটি আসে তার পা থেকেই, যা শেষ পর্যন্ত জয়ের ভিত গড়ে দেয় কাতালানদের।

ম্যাচের আগেই সিমিওনে রাফিনিয়ার প্রতি নিজের শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছিলেন। তবে ম্যাচ শেষে তার কণ্ঠে প্রশংসা যেন আরও উচ্চকিত হয়ে ওঠে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
“রাফিনিয়া অসাধারণ এক ফুটবলার। সে মাঠে যেকোনো ভূমিকায় মানিয়ে নিতে পারে—উইঙ্গার, আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার, স্ট্রাইকার এমনকি উইং-ব্যাক হিসেবেও। আধুনিক ফুটবলে এমন বহুমাত্রিক খেলোয়াড় পাওয়া সত্যিই দুর্লভ।”

সিমিওনে আরও যোগ করেন,
“সে শুধু গোল করে না, সে সুযোগ তৈরি করে, প্রতিপক্ষকে প্রেস করে, দলের জন্য নিরলস দৌড়ায়। কোচ হিসেবে এমন খেলোয়াড় পাওয়া স্বপ্নের মতো।”

এরপরই আসে সেই মন্তব্য, যা ফুটবল বিশ্বে আলোচনার ঝড় তোলে। ব্যালন ডি’অর প্রসঙ্গে সিমিওনে স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“আমি নিজেকে শুধু একটাই প্রশ্ন করি—রাফিনিয়া ব্যালন ডি’অর জিতল না কীভাবে? সবাই নিজের পছন্দমতো ভোট দিতে পারে। কিন্তু যদি আমার ভোট থাকত, আমি রাফিনিয়া ছাড়া অন্য কাউকে ভাবতাম না।”

চলতি বছরের ব্যালন ডি’অর তালিকায় রাফিনিয়ার অবস্থান সিমিওনের এই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। পুরো মৌসুমে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, বড় ম্যাচে প্রভাব এবং দলীয় সাফল্যে ভূমিকা রাখার পরও তিনি সেরা তিনে জায়গা পাননি।

Leave a Comment