
মাঠের নৈপুণ্য ছাপিয়ে ড্রেসিংরুমের বিতর্কে শিরোনামে নেইমার
ব্রাজিলিয়ান সিরি আ লিগে শাপকোয়েন্সের বিপক্ষে নাটকীয় এক ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করেছে সান্তোস। দলের প্রাণভোমরা নেইমার দা সিলভার নৈপুণ্যে পরাজয়ের মুখ থেকে রক্ষা পেলেও ম্যাচটি নিয়ে আলোচনা চলছে অন্য কারণে। মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে বিরতির সময়ে ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে নেইমারের তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনা। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ক্লাবটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
ব্রাজিলের প্রভাবশালী গণমাধ্যম গ্লোবোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলের সাবেক তারকা নেইমার ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর ড্রেসিংরুমে দলের বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলারের সঙ্গে তুমুল তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনায় ফ্রন্টলাইনে ছিলেন তরুণ মিডফিল্ডার গ্যাব্রিয়েল বনতেম্পো এবং জোয়াও অ্যানানিয়াসের মতো উদীয়মানরা। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ মহলের ধারণা, এই উত্তপ্ত পরিবেশের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছিল দ্বিতীয়ার্ধের খেলায়। যার ফলে প্রথমার্ধের তুলনায় পরের ভাগে দলের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে পড়ে যায় এবং ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ দূরত্ব জনসমক্ষে চলে আসে।
দীর্ঘ চোট ও বিরতি কাটিয়ে ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলে ফেরার পর এটিই ছিল নেইমারের প্রথম ম্যাচ। ৩৪ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড জোড়া গোল করে দলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচিয়ে সত্যিকারের নায়কে পরিণত হন। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল শোধ করে তিনি সান্তোসকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেন। তবে পুরো ম্যাচজুড়েই মেজাজ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল তার জন্য। খেলার এক পর্যায়ে হলুদ কার্ড দেখার কারণে পরবর্তী এক ম্যাচের জন্য তাকে বহিষ্কারাদেশের মুখেও পড়তে হয়েছে।
মাঠের এই সাফল্যের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে পর্দার আঞ্চলের ঘটনা। সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ড্রেসিংরুমে তরুণ খেলোয়াড় বনতেম্পোর সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বেশ চড়াও হন নেইমার। বনতেম্পোর সাম্প্রতিক ফর্মহীনতা নিয়ে কটূক্তি করার পাশাপাশি তাকে আগামী মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগে খেলতে যাওয়ার মতো কড়া কথাও শোনান তিনি।
তবে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে নেইমারের ঘনিষ্টজনেরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, বনতেম্পো ও অ্যানানিয়াস দুজনেই গণমাধ্যমের কাছে বিরতির সময় তর্কের বিষয়টি স্বীকার করলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটু কথা বলার গুঞ্জন পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
দলের সামগ্রিক ঐক্য ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ায় নড়েচড়ে বসেছে সান্তোস কতৃপক্ষ। পুরো ঘটনার আসল সত্যতা উদঘাটন করতে ক্লাবটি ইতোমধ্যে একটি জরুরি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমান অস্থিরতা কাটিয়ে দ্রুত দলের ভেতর শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং আসন্ন ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের মনোসংযোগ অটুট রাখাই এখন ক্লাব ম্যানেজমেন্টের প্রধান লক্ষ্য।