
বুটে বাংলাদেশের পতাকা এঁকে আলোচনার জন্ম দিলেন কাভান সুলিভান
মাত্র পনেরো বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের পাদপ্রদীপে চলে এসেছেন মার্কিন তরুণ ফুটবলার কাভান সুলিভান। তার বুটে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির পাশাপাশি বাংলাদেশের পতাকা স্থান পাওয়ার পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য এবং নাড়ির টানের প্রতি সম্মান জানাতেই তিনি এমন অভিনব উপায় বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাভানের জীবনে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও আবেগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০০৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় জন্ম নেওয়া এই উদীয়মান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের পরিবারে রয়েছে সমৃদ্ধ ফুটবল সংস্কৃতি। তার মা হেইকে জার্মান-বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং তার নানী সুলতানা আলম বাংলাদেশের নাগরিক। তার বাবা ব্রেন্ডন সুলিভানও ছিলেন একজন পেশাদার ফুটবলার। শুধু বাবা-মা নন, পরিবারের আরও একাধিক সদস্য ফুটবল খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকায় ছোটবেলা থেকেই খেলার মাঠে কাভানের বেড়ে ওঠা নিশ্চিত হয়েছিল।
ফুটবল বিষয়ক জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক মাধ্যম গোলডটকম সম্প্রতি ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া বিশ্বের সেরা ৫০ তরুণ প্রতিভার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় লামিন ইয়ামাল, এস্তেভাও উইলিয়ান, পাও কুবার্সি, জাইরি এমেরি এবং এনড্রিকের মতো বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো তারকাদের ভিড়ে ৩০তম স্থানটি দখল করে নিয়েছেন কাভান।
ইতিমধ্যেই মার্কিন মুল্লুকের মেজর লিগ সকারে ইতিহাস গড়েছেন এই কিশোর। গত বছর লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে তার অভিষেক হয়। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের জার্সিতে শীর্ষ পর্যায়ে খেলার পাশাপাশি ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামির বিপক্ষেও ম্যাচ স্কোয়াডে থাকার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। তার নজরকাড়া ড্রিবলিং ও মাঠের দৃশ্যপট পড়ার ক্ষমতা দেখে অনেক মার্কিন সমর্থক তাকে ভালোবেসে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ নামে ডাকতে শুরু করেছেন।
ইউরোপের নামী দামি ক্লাবগুলোর স্কাউটদের চোখও রয়েছে তার ওপর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়ে আছে। নিয়ম অনুযায়ী বয়স আঠারো বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ইংলিশ এই ক্লাবটিতে যোগ দেবেন বলে জোর গুঞ্জন চলছে।
সুলিভান পরিবারের ফুটবল প্রীতি কেবল কাভানেই সীমাবদ্ধ নয়। তার বড় ভাই কুইন সুলিভান ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের নিয়মিত মুখ। চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থেকে ১৪ ম্যাচে একটি গোল ও ছয়টি অ্যাসিস্ট করে মার্কিন জাতীয় দলের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। ফলে গোল্ড কাপের প্রাথমিক দলে জায়গা পাওয়ার সুবাদে জাতীয় দলের মূল পরিকল্পনায় চলে এসেছেন কুইন।
সুলিভান পরিবারের চার ভাই—কুইন, ডেক্লান, রোনান এবং কাভান প্রত্যেকেই পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর মধ্যে ডেক্লান ও রোনান বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে দেশে ও বিদেশে দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্টে রোনান প্রথম একাদশে খেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন, আর ডেক্লান বদলি নেমে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের ফুটবলের আগামী দিনের সম্ভাবনাময় অস্ত্র হিসেবে এই দুই ভাইয়ের ওপর বড় ভরসা করা হচ্ছে।
কাভান সুলিভানের বুটে খচিত বাংলাদেশের পতাকা কেবল তার পারিবারিক পরিচয়ের বর্হিপপ্রকাশ নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আঙিনায় বাংলাদেশের সঙ্গে এক নিবিড় ও আবেগঘন সম্পর্কের অনন্য বার্তা বহন করছে।