আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। কিন্তু এর আগেই ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর ধোঁয়াশা। বিশেষ করে আইপিএল থেকে তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সাম্প্রতিক নেতিবাচক পরিস্থিতি বিসিবিকে (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) এক কঠোর ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। শনিবার রাতে বোর্ডের ১৭ জন শীর্ষ পরিচালকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ক্রিকেটারদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে রোববার সরাসরি আইসিসির (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
বিসিবির এই চিঠির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সূচি। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে। তবে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে সরিয়ে দেওয়ার পর দুই দেশের ক্রিকেটীয় ও রাজনৈতিক আবহে যে গুমোট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে মনে করছে বিসিবি। বোর্ড কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো জোরালো ও সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটারদের জীবন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়।
আইসিসিকে পাঠানো চিঠির মূল স্তম্ভ ও দাবিগুলো
| আলোচনার বিষয় | বিসিবির জোরালো অবস্থান ও প্রত্যাশা |
| নিরাপত্তা প্রটোকল | ভারতীয় ভেন্যুগুলোতে দলের জন্য নিশ্ছিদ্র ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। |
| মুস্তাফিজের বিতর্ক | আইপিএল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার প্রকৃত কারণ ও বৈশ্বিক প্রভাবের ব্যাখ্যা। |
| সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষা | বোর্ড কর্মকর্তা, টিম ম্যানেজমেন্ট ও সাংবাদিকদের জানমালের নিশ্চয়তা। |
| সমর্থকদের নিরাপত্তা | গ্যালারিতে থাকা সাধারণ দর্শকদের ওপর বিরূপ প্রভাব ঠেকানোর কৌশল। |
| ভবিষ্যৎ রূপরেখা | সন্তোষজনক নিশ্চয়তা না পেলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুন চিন্তা। |
বিসিবির এক শীর্ষ পরিচালকের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় নিরাপত্তাই বোর্ডের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই চিঠিটি মূলত আইসিসি এবং বিসিসিআই-এর প্রতি একটি হুঁশিয়ারি সংকেত। মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে যে ধরনের অপেশাদার আচরণ করা হয়েছে, তা বিসিবির কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং আইসিসি-র সিকিউরিটি ইউনিটকে এর দায়ভার নিতে হবে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হবে যে, মাঠের ভেতরে এবং বাইরে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মানসিক শান্তি ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইসিসি আসলে কী ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিসিবির এই সাহসী পদক্ষেপটি বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। যদি আইসিসির পক্ষ থেকে প্রাপ্ত উত্তর সন্তোষজনক না হয়, তবে আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ভাগ্য অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। রোববারের এই চিঠির পর আইসিসি কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় এবং দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে তার কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
