চলতি বিশ্বকাপে দীর্ঘ ৪০ বছরের খরা কাটিয়ে নকআউট পর্বে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে মেক্সিকো। ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করার পর পুরো মেক্সিকো সিটি যেন এক আনন্দের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। চার দশক পর এমন গৌরবময় মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে মেক্সিকান ফুটবলপ্রেমীদের বাঁধভাঙা উল্লাস শুরু হয়। তবে সেই আনন্দের জোয়ার নিমেষেই রূপ নিল এক গভীর বিষাদে। বিশাল এই উদ্যাপনের আনন্দের মাঝে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা।
সংবাদ সংস্থা ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জয় উদ্যাপনের সময় মানুষের প্রচণ্ড ভিড় এবং হুড়োহুড়ির কারণে মেক্সিকো সিটিতে দম আটকে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে এই অভাবনীয় জয় উদ্যাপন করতে মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত ‘অ্যাঞ্জেল অব ইনডিপেনডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশের হামবুর্গো ও ল্যাঙ্কাস্টার স্ট্রিটে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার উন্মুখ ফুটবল-ভক্ত। সেখানেই হঠাৎ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দুজনকে বাঁচানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা ও কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস (সিপিআর) দেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মৃতদের মধ্যে একজন ৪৪ বছর বয়সী পুরুষ এবং অন্যজন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড শারীরিক চাপে ফুসফুসে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। তারা মেক্সিকো সিটির পাবলিক হেলথ সেক্রেটারির আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, উদ্যাপনের হুড়োহুড়ির মধ্যে মারা গেছেন অন্তত তিনজন। শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছে অবস্থিত কোলোনিয়া জুয়ারেজ এলাকায় তিনজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৪৪ বছর বয়সী ওই পুরুষ ছাড়াও ১৯ বছর ও ৪৮ বছর বয়সী দুজন নারী রয়েছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের বিবরণ থেকে জানা যায়, ম্যাচ জয়ের পরপরই ভক্তরা রাস্তায় নেমে আসেন এবং আনন্দ উল্লাসের একপর্যায়ে আতশবাজি ওড়াতে শুরু করেন। কিন্তু সেই আতশবাজির বিকট শব্দে ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ করেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সেই শব্দকে ভিন্ন কিছু ভেবে ভুল করেন এবং জীবন বাঁচাতে সরু রাস্তাগুলো দিয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয় এক ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা। প্রচণ্ড ভিড়ে মানুষ একে অপরের ওপর পড়ে যান এবং পায়ের নিচে পিষ্ট হন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও আকস্মিক হুড়োহুড়ির কারণেই ঘটে যায় এই ভয়াবহ হতাহতের ঘটনা। আনন্দ মিছিলটি শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় এক শোকের মিছিলে।
