লিওনেল মেসিকে তিনি মনে করেন সর্বকালের সেরা। নিজের পথের শুরুতেই এমন একটি স্বীকারোক্তি যে কোনো তরুণ খেলোয়াড়ের মনে চাপ তৈরি করতে পারে। কিন্তু লামিনে ইয়ামাল সেই চাপকে আলাদা করে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি মেসিকে শ্রদ্ধা করেন, তাঁর খেলায় মুগ্ধ হন—কিন্তু মেসির সঙ্গে তুলনার বোঝা তিনি বহন করতে চান না। তার চেয়েও বড় কথা, মেসিও নাকি জানেন যে ইয়ামাল তাঁর মতো হতে চান না।
‘সিবিএস নিউজ’-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ৬০ মিনিটস-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে তরুণ বার্সেলোনা উইঙ্গার স্পষ্ট বলেন, “তিনি যা এবং ফুটবলে যা কিছু অর্জন করেছেন, তার জন্য তাঁকে সম্মান করি। কিন্তু আমি তার পথে হাঁটতে চাই। মেসিও জানেন যে আমি তাঁর মতো হতে চাই না।”
এই মন্তব্যের পেছনে লুকিয়ে আছে একটি গভীর বাস্তবতা—ফুটবল বিশ্ব অতীতের কিংবদন্তিদের ছায়ায় নতুন নক্ষত্রদের বিচার করতে অভ্যস্ত। মেসি–রোনালদো যুগের পর নতুন কারা আসবে—এই কৌতূহল থেকেই অনেকে ইয়ামালকে তুলনার আওতায় টেনে আনছেন।
ইয়ামালের সমস্যাটা এখানেই। বয়স মাত্র ১৮। ক্যারিয়ার সবে শুরু। তবু তাঁর প্রতিটি গোল, প্রতিটি ড্রিবল, প্রতিটি বাঁ–পায়ের স্পর্শে মানুষ খুঁজে ফেরে মেসির ছায়া। কারণ দুজনই তরুণ বয়সেই বার্সা একাডেমি ‘লা মাসিয়া’ থেকে উঠে এসেছেন। দুজনের খেলার ধরনেও মিল আছে। দুজনই উইংয়ে বিস্ফোরক, দুজনেরই বাঁ–পা অস্ত্রস্বরূপ।
কেবল তাই নয়—ছোট বয়সেই ইয়ামাল যেমন বার্সার হয়ে শিরোপা জিতেছেন, স্পেনের হয়ে ইউরো জিতেছেন, তেমনি মেসিও আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম সাফল্যের দেখা পেয়েছিলেন খুব অল্প বয়সে।
তবে তুলনা যতই করা হোক, ইয়ামাল নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি মনে করেন, তুলনা করলে বরং মেসির সম্মানই ক্ষুণ্ন হয়। তাঁর ভাষায়, “আমার লক্ষ্য রেকর্ডের পেছনে দৌড়ানো নয়। আমি মানুষকে আনন্দ দিতে চাই। আমি খেলি কারণ ফুটবল আমাকে সুখ দেয়।”
এ মৌসুমে তিনি বার্সার হয়ে ১৪ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন। তাঁর পরিপক্বতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং পরিসংখ্যান বলছে—তরুণ বয়সেই তিনি দলের অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন। আর এই শক্তিমান সূচনাই মেসির সঙ্গে তুলনাকে আরও গাঢ় করছে।
তবে ইয়ামাল নিজের জীবনযাপনে বরং ভিন্ন ধরনের পরিপক্বতা দেখিয়েছেন। যদিও দামী গাড়ির প্রতি তাঁর আকর্ষণ রয়েছে, তবু এখনো ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার কারণে গাড়ি কেনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি চাই আমার গাড়ি এমন হোক যেটা বন্ধুদের সঙ্গে উপভোগ করতে পারব। কিন্তু সেটা ল্যাম্বোরগিনি বা দামী স্পোর্টস কার হবে না—অডি বা কুপ্রা হলেই যথেষ্ট।”
ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনার শেষ নেই। তাঁর প্রথম প্রেম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এক শব্দে সবকিছু পরিষ্কার করে দেন—“আমার প্রথম এবং শেষ প্রেম ফুটবল। আমার পরিবারও ফুটবল ভালোবাসে। তাই ফুটবলই আমার জীবনের সব।”
তরুণ বয়সে এমন দৃঢ়তা এবং তুলনাকে প্রত্যাখ্যান করার সাহসই বলে দেয়—ইয়ামাল সত্যিই নিজের পথ নিজেই তৈরি করতে চান। আর ফুটবল বিশ্ব তাঁর এই যাত্রাকে গভীর আগ্রহ নিয়ে দেখছে।
