মিক্সড মার্শাল আর্টে নতুন যাত্রা রোনালদোর?

ফুটবলে মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পা রেখেছেন ৪০ বছরে। বয়সের চাপ, শারীরিক চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্ত—সবকিছুই তাঁকে জীবনের নতুন অধ্যায়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গত মাসেই সিএনএন–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। একই সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, খুব দ্রুতই অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন—“এক–দুই বছরের মধ্যেই”—এই বাক্যটি দিয়ে নিজের পরিকল্পনা পরিষ্কার করেছেন তিনি।

তবে অবসরের পর রোনালদো কিসে মন দেবেন, তা নিয়ে সমর্থকদের কৌতূহল সব সময়ই তুঙ্গে। হোটেল চেইন, জিম, প্রযুক্তি, সিনেমা, ফ্যাশন—বহু খাতে তাঁর বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। তবু যারা রোনালদোকে কাছ থেকে চেনেন, তারা জানেন—ফুটবলার রোনালদোর মধ্যে প্রতিযোগিতা, চ্যালেঞ্জ আর শারীরিক লড়াইয়ের যে নেশা আছে, তা তার ব্যবসায়িক জগৎ দিয়ে পূরণ হওয়ার নয়। তাই সম্ভবত অবসরের পর খেলাধুলা–সংশ্লিষ্ট কোনো ক্ষেত্রেই তাঁর আগ্রহ থাকবে বেশি।

আর সেই সম্ভাবনার দিকেই জোর ইঙ্গিত মিলেছে ২৭ নভেম্বর। এক্স–এ নিজের অফিসিয়াল হ্যান্ডল থেকে রোনালদো ঘোষণা দেন—মিক্সড মার্শাল আর্ট (এমএমএ) লড়াইয়ের প্রতিষ্ঠান ওয়াও এফসিতে যুক্ত হচ্ছেন তিনি একজন অংশীদার হিসেবে। রোনালদো লিখেন,
“রোমাঞ্চ নিয়ে জানাচ্ছি—@WOWFCMMA–র অংশ হতে যাচ্ছি। শৃঙ্খলা, সম্মান আর দৃঢ়তা—এই মূল্যবোধগুলো আমাদের একত্রে এনেছে। ওয়াও এফসি অসাধারণ কিছু তৈরি করছে, আর তাতে যোগ দিতে পেরে আমি গর্বিত।”

পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়—“ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর যুক্ত হওয়া ওয়াও এফসির জন্য নতুন যুগের সূচনা। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই অ্যাথলেটের অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় মাইলফলক।”

ওয়াও এফসির পূর্ণ নাম “ওয়ে অব ওয়ারিয়র”—স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যেই এমএমএ দুনিয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে—সংগঠনটির ইভেন্ট অংশগ্রহণ ৪০০ শতাংশ বেড়েছে, প্রতিটি শোতে টিকিট বিক্রি পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে, এবং বিশ্বব্যাপী তাদের সম্প্রচার পৌঁছে গেছে ১৭০টির বেশি দেশে। তুরিয়ার মতো ইউএফসি তারকার সঙ্গে রোনালদোর নাম যুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানের পরিচিতিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়েছে।

যদিও রোনালদো এখনো কোনো লড়াইয়ে নামার কথা বলেননি, তবু যুক্তরাষ্ট্রের বক্সার রায়ান গার্সিয়া ভিন্ন সম্ভাবনার কথা তুলেছেন। তাঁর ভাষায়, রোনালদোর পায়ের শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা তাঁকে তায়কোয়ান্দো বা কিকবক্সিংয়ে যোগ্য অ্যাথলেট হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

ভিডিও বার্তায় রোনালদো আরও জানিয়েছেন—“লড়াইয়ের নতুন যুগ শুরু হচ্ছে।”
এই বার্তাকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি কি সত্যিই এমএমএ–তে লড়াই করবেন? নাকি কেবল বিনিয়োগই তাঁর লক্ষ্য? এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।

যা নিশ্চিত—অবসরের পরও রোনালদো সাধারণ পথ বেছে নেবেন না। প্রতিযোগিতা তাঁর রক্তে, আর নতুন লড়াইয়ের আগুনও যেন আবার জ্বলে উঠছে আগামীর পথে।

Leave a Comment