
মেসিকে রাজকীয় সম্মান দিচ্ছে স্পেন
স্পেনের রাজপরিবারের উপস্থিতিতে ওভিয়েদোর তেয়াত্রো কাম্পোয়ামোরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেসির হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দেশটির রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে ও রানি লেতিসিয়া। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ এই স্বীকৃতি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
গত ৩ জুন স্পেনের ওভিয়েদোতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেসিকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন। এ বছর ক্রীড়া বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া ২৭ জনের মধ্য থেকে তাঁকে নির্বাচিত করেন বিচারকেরা। মাঠে তাঁর ধারাবাহিক সাফল্য, পেশাদারত্ব, বিনয় এবং ফুটবলে দীর্ঘদিনের অবদানের পাশাপাশি মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এবারের পুরস্কারটি মেসির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রথম ফুটবলার হিসেবে এককভাবে এই সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন। খেলাধুলার জগতে তাঁর অসাধারণ প্রভাবের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাচ্ছে এই পুরস্কারের মাধ্যমে।
১৯৮১ সালে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ডের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও খেলাধুলাসহ মোট আটটি বিভাগে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব, সৃজনশীলতা এবং মানবসমাজে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিকারী কাজকে স্বীকৃতি দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিখ্যাত স্প্যানিশ শিল্পী হুয়ান মিরোর নকশা করা একটি ভাস্কর্য। এর সঙ্গে থাকে সনদ, ব্যাজ এবং ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্যের পুরস্কার। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মর্যাদা ধরে রেখেছে।
মেসির ফুটবলজীবনও অর্জনে সমৃদ্ধ। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ সময় খেলে তিনি বিশ্ব ফুটবলে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। পরে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সাঁ-জেরমাঁয় খেলেছেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামছেন। ক্লাব পর্যায়ে অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও পেয়েছেন বড় সাফল্য।
২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারে পূর্ণতা আসে। এসব অর্জন তাঁকে সমসাময়িক ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে মেসির পরিচিতি শুধু গোল, শিরোপা কিংবা ব্যক্তিগত রেকর্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণে সহায়তার লক্ষ্যে তাঁর প্রতিষ্ঠিত লিও মেসি ফাউন্ডেশন বিভিন্ন দাতব্য উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য উন্নত সুযোগ তৈরি এবং স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড তাঁর সামাজিক অবদানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে মেসির কর্মকাণ্ড ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাঁর দাতব্য উদ্যোগও সেই পরিচিতিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ডের বিচারকদের মূল্যায়নেও তাঁর এই ভূমিকা গুরুত্ব পেয়েছে।
আগামী ২৩ অক্টোবরের অনুষ্ঠানে মেসির উপস্থিতি তাই কেবল আরেকটি পুরস্কার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি হবে তাঁর ক্রীড়াজীবনের সাফল্য এবং মানবকল্যাণে অবদানের সম্মিলিত স্বীকৃতি। ফুটবল মাঠে অসাধারণ কৃতিত্বের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্বও এই সম্মাননার মাধ্যমে নতুন করে সামনে আসবে।