
রদ্রিকে পেতে ৮ কোটি ইউরোর সমঝোতার কাছাকাছি বার্সেলোনা
স্প্যানিশ তারকা মিডফিল্ডার রদ্রিকে ন্যু ক্যাম্পে নিয়ে আসার ঐতিহাসিক দলবদলে চূড়ান্ত সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বার্সেলোনা। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে কয়েক দফা কঠিন দরকষাকষির পর ব্যালন ডি’অরজয়ী এই বিশ্বসেরা ফুটবলারকে সই করানোর পথ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিষ্কার। স্প্যানিশ ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মার্কার একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের প্রবল আগ্রহ সত্ত্বেও রদ্রি নিজেই বার্সেলোনাকে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে এমন স্পষ্ট ইঙ্গিত আসার পরই দুই শীর্ষ ক্লাবের মধ্যে দলবদলের আলোচনা দ্রুত গতি পায়।
ম্যানচেস্টার সিটি অবশ্য তাদের মাঝমাঠের মূল শক্তিকেন্দ্রকে হাতছাড়া করতে চায়নি। প্রিমিয়ার লিগের দলটি তাঁকে ইত্তিহাদে রেখে দেওয়ার জন্য নতুন চুক্তির প্রস্তাবও দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে রাজি হয়েছে তারা। কিন্তু সিটির পরিচালনা পর্ষদ শুরুতেই পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মিডফিল্ডারকে ছাড়তে হলে অন্তত ৮ কোটি ইউরো দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এর কম মূল্যে তাঁকে হাতছাড়া করবে না তারা।
বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষও এই দলবদল সফল করতে ধাপে ধাপে তাদের আর্থিক প্রস্তাবের পরিমাণ বাড়িয়েছে। স্প্যানিশ জায়ান্টদের প্রথম প্রস্তাব ছিল প্রায় ৫ কোটি ইউরো, যা শোনামাত্রই নাকচ করে দেয় সিটি। এরপর প্রথম প্রস্তাবের ব্যর্থতা কাটিয়ে বার্সা দ্বিতীয় দফায় আরও ১ কোটি ইউরো বাড়িয়ে ৬ কোটি ইউরোর অফার পাঠায়, কিন্তু তাতেও চুক্তি সই করতে রাজি হয়নি সিটির কর্তারা। অবশেষে পারফর্ম্যান্স বোনাস ও অন্যান্য শর্ত যুক্ত করে বার্সেলোনা যে তৃতীয় প্রস্তাবটি পাঠিয়েছে, তার সর্বমোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ কোটি ইউরো। এই অঙ্ক ম্যানচেস্টার সিটির ৮ কোটি ইউরোর দাবির খুব কাছাকাছি হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে চূড়াান্ত সমঝোতা হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ইতিমধ্যে রদ্রি ম্যানচেস্টারে ফিরে এসেছেন এবং সিটির ট্রেনিং গ্রাউন্ডে রিপোর্ট করেছেন। তবে ইনজুরি পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি কেবল ফিটনেস ও রিকভারি সেশন সম্পন্ন করছেন, মূল স্কোয়াডের সাথে স্বাভাবিক অনুশীলনে নামেননি। ক্লাব প্রাঙ্গণে সিটির নতুন দায়িত্ব নেওয়া কোচ এনজো মারেস্কার সঙ্গেও রদ্রির আলোচনা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রদ্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মারেস্কা সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ট্রান্সফার উইন্ডোতে যেকোনো কিছু ঘটা সম্ভব।’
ইউরোপীয় ফুটবলে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময়সীমা শেষ হতে হাতে আর মাত্র দুই সপ্তাহের মতো সময় রয়েছে। ফলে বার্সেলোনার ক্রীড়া পরিচালক ডেকোর ওপর এখন প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। ডেকোর মূল লক্ষ্য রদ্রির সই দ্রুত নিশ্চিত করা হলেও ন্যু ক্যাম্পের দলবদল তালিকায় আরও কিছু বড় কাজ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে তারকা ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজকে দলে আনা, পর্তুগিজ রাইট-ব্যাক হোয়াও কানসেলোকে পাকাপাকিভাবে চুক্তিবদ্ধ করা এবং তরুণ মিডফিল্ডার মার্ক কাসাদোর সম্ভাব্য দলবদলের হিসাব নিষ্পত্তির বিষয়গুলো সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। সব মিলিয়ে বার্সেলোনার দলবদল বাজারে এখন দারুণ এক রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।