সৌদি আরবের জেদ্দায় কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে এক শ্বাসরুদ্ধকর এল ক্লাসিকো প্রত্যক্ষ করল ফুটবল বিশ্ব। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে মৌসুমের প্রথম শিরোপা ঘরে তুলেছে বার্সেলোনা। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে ঠাসা এই ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়ার জোড়া গোল এবং রবার্ট লেভানডফস্কির লক্ষ্যভেদী শট কাতালানদের জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে কোচ হান্সি ফ্লিক তাঁর ক্যারিয়ারের ১৫তম ফাইনালে অংশ নিয়ে ১৫তম শিরোপা জয়ের অনন্য রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখলেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ও ঐতিহাসিক যোগ করা সময়
খেলার শুরুর দিকে রিয়াল মাদ্রিদ কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করলেও ৩৫ মিনিটে রাফিনিয়ার গোলে বার্সেলোনা লিড নেয়। তবে ম্যাচের আসল নাটকীয়তা শুরু হয় প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। ফুটবল ইতিহাসের বিরলতম এক দৃশ্যে ৩ মিনিটের যোগ করা সময়ে মোট ৩টি গোল হয়। ৪৬ মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়ার গোলে রিয়াল সমতা ফেরানোর পরের মিনিটেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এক জাদুকরী গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন। কিন্তু সেই উল্লাস স্থায়ী হওয়ার আগেই ৪৯ মিনিটে লেভানডফস্কি গোল করে বার্সাকে ২-২ সমতায় ফেরান।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও ফলাফল নিচে সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
এক নজরে স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনাল পরিসংখ্যান
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
| ফলাফল | বার্সেলোনা ৩ – ২ রিয়াল মাদ্রিদ |
| বার্সার গোলদাতা | রাফিনিয়া (৩৫, ৭৩ মি.), লেভানডফস্কি (৪৯ মি.) |
| রিয়ালের গোলদাতা | গঞ্জালো গার্সিয়া (৪৬ মি.), ভিনিসিয়ুস (৪৭ মি.) |
| বল দখল (Possession) | বার্সেলোনা ৫৪%, রিয়াল মাদ্রিদ ৪৬% |
| টার্গেটে শট | বার্সেলোনা ৭টি, রিয়াল মাদ্রিদ ১০টি |
| লাল কার্ড | ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং (বার্সেলোনা) |
| ভেন্যু | কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়াম, জেদ্দা |
দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই ও রাফিনিয়ার বাজিমাত
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই সতর্ক হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে বক্সের কোণা থেকে নেওয়া রাফিনিয়ার একটি শট রিয়াল ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিওর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে পরাস্ত হন গোলরক্ষক কোর্তোয়া। এই গোলেই বার্সার ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়। ম্যাচের অন্তিমলগ্নে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বার্সা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। তবে বদলি হিসেবে নামা কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা রিয়ালের অন্য কোনো স্ট্রাইকার বার্সার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেননি।
পরিসংখ্যান ও আগাম আভাস
এই জয় কেবল একটি ট্রফি নয়, বরং লা লিগার শীর্ষস্থানে থাকা বার্সেলোনার জন্য এক বিশাল মানসিক শক্তি। গত তিন বছরের পরিসংখ্যান বলছে, যারা স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছে, তারাই পরবর্তীতে লা লিগা শিরোপা ঘরে তুলেছে। হান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সার এই জয় সেই ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়া টানা ১৯ ম্যাচ গোলহীন থাকার পর ভিনিসিয়ুসের গোলটি রিয়াল সমর্থকদের জন্য সান্ত্বনা হয়ে থাকলেও হার এড়াতে তা যথেষ্ট ছিল না।
