চ্যাম্পিয়নস লিগের আজ রাতের ম্যাচে লিসবনের এস্তাদিও দা লুসে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকা। তবে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে শুধু মাঠের খেলোয়াড়দের দিকে নয়, ডাগআউটেও। কারণ দুই দলের কোচ—বেনফিকার জোসে মরিনিও এবং রিয়ালের আলভারো আরবেলোয়া—রয়েছেন দীর্ঘ এবং জটিল সম্পর্কের ইতিহাস।
মরিনিও ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়ালের দায়িত্বে থাকাকালে আরবেলোয়া ছিলেন তার বিশ্বস্ত অধিনায়ক। তখনকার রিয়ালের দল ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কাকা, ক্যাসিয়াস, সের্হিও রামোস এবং করিম বেনজেমা কেন্দ্রিক, আরবেলোয়া তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত। কিন্তু কঠোর মানসিকতার এই ডিফেন্ডার ছিলেন মরিনিওর নীতি ও আদর্শের অনুগত সৈনিক।
২০১৭ সালে স্প্যানিশ টিভি অনুষ্ঠান ‘এল চিরিঙ্গিতো’য় আরবেলোয়া জানান, ‘মরিনহিসমো’ বা মরিনিওর দর্শন হলো সবকিছুর মুখোমুখি হওয়া এবং নিজের পরিচয় নিয়ে ভয় না পাওয়া। আরবেলোয়া বলেন, “আমি যতটা সম্ভব মরিনিস্তা হতে চাই।”
মরিনিওর সঙ্গে সম্পর্ক কেবল পেশাগত ছিল না, ব্যক্তিগত ও বন্ধুত্বপূর্ণও ছিল। ২০১৬ সালে, যখন মরিনিও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ ছিলেন, স্প্যানিশ দৈনিক মার্কাতে তিনি লিখেছিলেন:
“আরবেলোয়া আমার কাছে শুধু একজন খেলোয়াড় নয়, সে আমার বন্ধু। নিজের পেশা ও ক্লাবের প্রতি দায়বদ্ধতা, দলের প্রতি নিবেদন ও সততার প্রতিচ্ছবি সে।”
মরিনিও আরও যোগ করেন, “ও হয়তো আলোচিত নাম নয়, কিন্তু রিয়াল, সমর্থক, কোচ ও সতীর্থদের জন্য সে নিজের সব দিয়েছিল, এমনকি যা তার ছিল না, সেটাও। ১৬ বছরের কোচিং জীবনে আমার সঙ্গে কাজ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে সে অন্যতম।”
তবে আজ রাতের ম্যাচে এই বন্ধুত্ব একপাশে সরিয়ে দিতে হবে। বেনফিকার জন্য জয়ের বিকল্প নেই, আর মরিনিওকে সতর্কতার সঙ্গে খেলতে হবে। তবে ডাগআউটে চোখ মিললেই পুরনো স্মৃতিগুলো উঁকি দিতে পারে।
আরবেলোয়া ২০১৭ সালে অবসর নেওয়ার পর মিডিয়ায় নিয়মিত হয়েছেন, রিয়ালের টিভিতে বিশ্লেষক ও যুব দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি জাবি আলোনসোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে মূল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন। মরিনিওর মতোই তিনি সমালোচনার মধ্যেও বাস্তববাদী। কোপা দেল রেতে হারের পরও খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মরিনিও আরবেলোয়াকে নিয়ে বলেছেন:
“চিভু ও আরবেলোয়া আমার সন্তান। তারা শুধু সাবেক খেলোয়াড় নয়, বিশেষ কেউ। আলভারো মানুষ হিসেবে, ব্যক্তিগত ও অনুভূতির দিক থেকে আমার প্রিয় খেলোয়াড়দের একজন। রিয়ালের ইতিহাসে সেরা নাও হতে পারে, কিন্তু অধীনে খেলা সেরা মানুষের মধ্যে অন্যতম।”
নিম্নে ২০১০–২০১৩ সালের রিয়ালের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ও সম্পর্কের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| নাম | পজিশন | মরিনিওর সময় সম্পর্ক |
|---|---|---|
| আলভারো আরবেলোয়া | ডিফেন্ডার | বিশ্বস্ত, বন্ধুত্বপূর্ণ |
| ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো | ফরোয়ার্ড | প্রায় সম্পর্ক তিক্ত |
| কাকা | মিডফিল্ড | সতর্কতা ও নিয়মে বাধ্য |
| ক্যাসিয়াস | গোলকিপার | সময়ে সময়ে দ্বন্দ্ব |
| সের্হিও রামোস | ডিফেন্ডার | শুরুর দিকে সখ্য, পরবর্তীতে চরম বিরোধ |
| করিম বেনজেমা | ফরোয়ার্ড | অংশীদারিত্ব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা |
সংক্ষেপে, আরবেলোয়ার মধ্যে স্পষ্ট ‘মরিনিস্তা’র ছাপ আছে, তবে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি তাকে ড্রেসিংরুম ও বোর্ডের দ্বন্দ্ব সামলাতে সাহায্য করছে। এই ভারসাম্যই লিসবনের ম্যাচে এবং ভবিষ্যতে রিয়ালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
