পর্তুগালের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পথে এগিয়ে যাওয়া হঠাৎ করেই থমকে দাঁড়াল বৃহস্পতিবার রাতে, যখন ডাবলিনে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের কাছে তারা ২–০ গোলে চমকপ্রদ পরাজয়ের স্বাদ পায়। কিন্তু পরাজয়ই ছিল না ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা—সবকিছু ছাপিয়ে যায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিতর্কিত লাল কার্ড, যা পুরো ম্যাচের গতি-প্রকৃতি বদলে দেয়।
দলীয় লক্ষ্য ছিল খুবই স্পষ্ট: জিতলেই গ্রুপ–এফ-এ শীর্ষস্থান নিশ্চিত, আর তার সাথে বিশ্বকাপের টিকিট। কিন্তু ঘরের মাঠে উচ্ছ্বসিত দর্শকদের সমর্থন পেয়ে আয়ারল্যান্ড যেন বিরল এক দৃঢ়তা নিয়ে মাঠে নামে। প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই তারা রক্ষণে কমপ্যাক্ট, আক্রমণে গতিময়—সব মিলিয়ে পর্তুগালকে অস্বস্তিতে ফেলতে থাকে প্রতিটি মিনিটে।
খেলার প্রথমার্ধে পর্তুগালের দুর্বল রক্ষণকে দু’বার শাস্তি দেন ট্রয় প্যারট। তাঁর দুই গোলেই আয়ারল্যান্ড পায় ২–০ ব্যবধান, আর পর্তুগালের আত্মবিশ্বাস নড়ে যায় ধরে ধরে। বিরতির পর পর্তুগাল আক্রমণ বাড়ালেও প্রতিটি থ্রাস্ট ভেঙে যায় আয়ারল্যান্ডের শক্ত দেওয়ালে। বল দখলে আধিপত্য দেখালেও গোলমুখে ছিল অসহায়।
ম্যাচটি নাটকীয় মোড় নেয় যখন রোনালদো অফ-দ্য-বল চ্যালেঞ্জে ডারা ও’শেয়াকে ফাউল করলে রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ভিএআর-এর পরামর্শে সেটি সরাসরি লাল কার্ডে উন্নীত হয়। রোনালদোর বিদায় শুধু দলের ভারসাম্যই নষ্ট করেনি, পুরো স্কোয়াডের মনোভাব মুহূর্তেই ভেঙে দেয়। দশ জন নিয়ে মাঠে থেকে কোনোভাবেই ম্যাচে ফিরতে পারেনি পর্তুগাল।
পরপর দুই ম্যাচে জয় হাতছাড়া করায় এখন তাদের বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা ঝুলে আছে শেষ ম্যাচডে-র ওপর। অক্টোবরেও হাঙ্গেরির শেষ মুহূর্তের সমতায় সুযোগ হারিয়েছিল, আর এবার আয়ারল্যান্ডের কাছে লজ্জাজনক পরাজয়ে চাপ আরও বেড়ে গেল। আগামী রবিবার হবে গ্রুপের ভাগ্য নির্ধারণের দিন—যা পর্তুগিজ সমর্থকরা কখনোই প্রত্যাশা করেনি।
ম্যাচ সারসংক্ষেপ
| ইভেন্ট | বিস্তারিত |
|---|---|
| ফাইনাল স্কোর | আয়ারল্যান্ড ২–০ পর্তুগাল |
| গোল (আয়ারল্যান্ড) | ট্রয় প্যারট (২) |
| লাল কার্ড | ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল) |
| মূল ঘটনা | হলুদ কার্ড ভিএআর-এ পরিবর্তিত হয়ে সরাসরি লাল |
| টুর্নামেন্ট পরিস্থিতি | ২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই নিশ্চিত করার সুযোগ হারাল পর্তুগাল |
