রোমেরোর রকেটেই কান্নায় নিউক্যাসল

সেন্ট জেমস পার্কে যে নাটকীয়তা প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে, তার আরেকটি তীব্র উদাহরণ দেখা গেল টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই মাঠে টটেনহ্যাম একের পর এক হতাশাজনক অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছে। মঙ্গলবারের ম্যাচেও যখন অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেন, তখন মাঠজুড়ে গর্জে উঠেছিল পরিচিত গান— “ইটস হ্যাপেনিং অ্যাগেইন!” সমর্থকদের এই উল্লাস যেন ইঙ্গিত দিচ্ছিল, টটেনহ্যামের ওপর আবারও নামছে দুর্ভাগ্যের কালো ছায়া।

কিন্তু ফুটবল কখনোই নির্দিষ্ট ছকে চলে না। ম্যাচের ৯৫তম মিনিটে স্পার্স অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো যে অ্যাক্রোবেটিক ওভারহেড কিকটি নেটের ভেতর জড়ালেন, তা যেন পুরো স্টেডিয়ামকে মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দিল। মুহূর্তটির নাটকীয়তা এত প্রবল ছিল যে, শেষ বাঁশি বাজতেই সেন্ট জেমস পার্কে গর্জনের জায়গায় শোনা গেল হতাশার দীর্ঘ নিঃশ্বাস।

এই মৌসুমে নিউক্যাসলের জন্য শেষ মুহূর্তের এই ধাক্কা কোনো নতুন অভিজ্ঞতা নয়। লিভারপুলের বিপক্ষে অগাস্টে, আর্সেনালের বিপক্ষে সেপ্টেম্বরে—সব জায়গাতেই শেষ মুহূর্তে পয়েন্ট হাতছাড়া করেছে দলটি। লিগে এখন পর্যন্ত ১১ পয়েন্ট তারা হারিয়েছে এগিয়ে থেকেও। এই সংখ্যা পুরো প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি।

অদ্ভুত বিষয় হলো—যদি নিউক্যাসল কেবল এগিয়ে থাকার অবস্থায় ম্যাচগুলো ধরে রাখতে পারত, তাহলে তারা বর্তমানে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকত। ব্রেন্টফোর্ড, ওয়েস্ট হ্যাম, আর্সেনাল এবং সাম্প্রতিক টটেনহ্যাম ম্যাচ—এই চারটি হারের প্রতিটিই শেষ মুহূর্তের গোল বা মনোযোগ বিচ্যুতির ফল। কিন্তু বাস্তবতা হলো তারা আছে ১৩ নম্বরে, শীর্ষে থাকা আর্সেনালের থেকে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে।

ম্যাচ শেষে ম্যানেজার এডি হাও এ নিয়ে স্পষ্ট হতাশা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, “এটা সত্যিই অদ্ভুত এক চক্রের মতো। কখনো কখনো কিছু বিষয় এমনই ঘটে, যেগুলো সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না—আমাদের অ্যাওয়ে ফর্ম যেমন। তবে ঐতিহাসিকভাবে আমরা ম্যাচের শেষ ভাগে খেলায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ছিলাম। এখন সেটা হারিয়ে ফেলেছি, এবং দ্রুত ফিরিয়ে আনতেই হবে।”

হাওয়ের এই মন্তব্যে একটি বড় বাস্তবতাই প্রতিফলিত—দলটি মানসিকভাবে শেষ মুহূর্তের চাপ সামলাতে পারছে না। ডিফেন্সে ভুল, মাঝমাঠে বল ধরে রাখতে ব্যর্থতা এবং আক্রমণে তাড়াহুড়ো—সব মিলিয়ে শেষ ১৫ মিনিটে নিউক্যাসল যেন ভিন্ন একটি দল হয়ে দাঁড়ায়। চ্যাম্পিয়নস লিগের সম্ভাবনায় থাকা একটি দল হিসেবে এটি গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে।

এই ড্র শুধুই একটি ম্যাচের পয়েন্ট হারানো নয়; বরং এটি নিউক্যাসলের মৌসুম জুড়ে পুনরাবৃত্ত সমস্যার প্রতিচ্ছবি। যদি এভাবে চলতে থাকে, তখন শুধু শীর্ষ চারের আশা নয়, ইউরোপীয় টুর্নামেন্টের টিকিটও কঠিন হয়ে পড়বে।

Leave a Comment