২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতের ক্রিকেটপাড়ায় একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি কি আরেকবার নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারবেন? বয়সের কাঁটা ক্রমেই উঁচুতে উঠছে। রোহিতের বয়স এখন ৩৭, কোহলির ৩৬। পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় দু’জনের বয়সই পেরিয়ে যাবে চল্লিশের দোরগোড়ায়। সেই বয়সে তাঁরা কি এখনও বিশ্বমানের পারফরমার থাকতে পারবেন—এ নিয়েই ছিল অন্তহীন বিতর্ক। কিন্তু রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে দেখার পর সেই বিতর্ক যেন এক লহমায় মিলিয়ে গেছে।
কারণ, নিজেদের অভিজ্ঞতা, ফিটনেস ও বিস্ফোরক ব্যাটিং দিয়ে দু’জনই আবারও দেখিয়ে দিয়েছেন—ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁরা এখনও অপরিবর্তনীয়। আর সেই দৃশ্য দেখে ভারতের সাবেক অধিনায়ক এবং ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের ওপেনার ক্রিস শ্রীকান্ত দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন—‘রোহিত ও কোহলি ছাড়া ভারত ২০২৭ বিশ্বকাপ জিততেই পারবে না।’
রাঁচির ম্যাচে ভারতীয় ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। মাত্র ৫১ বলে তাঁর ৫৭ রানের টর্নেডো ইনিংস সাজানো ছিল তিনটি বিশাল ছক্কায়। শেষ ছক্কাটি তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে আরেক ঐতিহাসিক অর্জনে—ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক এখন রোহিত শর্মা। শহীদ আফ্রিদির বহুদিনের রেকর্ড ভেঙে তিনি গড়েছেন নতুন অধ্যায়।
অন্যদিকে, বিরাট কোহলি খেলেছেন তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫২তম সেঞ্চুরি—১২০ বলে ১৩৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ১১টি চার ও ৭টি ছক্কা মেরে তিনি যেন ক্রিকেটবিশ্বকে আবারও মনে করিয়ে দিলেন—ফিটনেস, স্কিল ও মানসিক শক্তির দিক থেকে এখনও তিনি বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন।
তাঁদের ১৩৬ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভারতের ইনিংসকে শুধু বড়ই করেনি, প্রতিপক্ষের মনোবলও ভেঙে দিয়েছে। প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৮০ রান তুলে রোহিত–কোহলি দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁদের ক্লাস এখনও আগের মতোই অটুট। শ্রীকান্তও তাই বললেন, “রোহিত ও কোহলি যদি ২০ ওভারের মতো ব্যাট করে, প্রতিপক্ষ শেষ হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেটাই হয়েছে। ওদের জুটিই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।”
সাবেক অধিনায়ক আরও বলেন, “২০২৭ বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় ব্যাটিং অর্ডারের এক ও তিন নম্বরে রোহিত ও বিরাটকেই চাই। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকার জায়গা নেই। ওদের ছাড়া ভারত জিততে পারবে—এটা বিশ্বাস করতেই পারছি না।”
শ্রীকান্তের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দু’জনই এখন শুধুমাত্র ওয়ানডে খেলছেন, তাই মানসিক প্রস্তুতি ও শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখা বেশ কঠিন। তবুও তাঁরা নিজেদের প্রশিক্ষণ, ডায়েট ও রুটিনে এমনভাবে মনোযোগী যে বয়সের ছাপ ব্যাটিংয়ে এখনো পড়তে দেখা যায় না। ব্যাটিংয়ের ধার ও শট নির্বাচনে তাঁরা বরাবরের মতোই শীর্ষে।
২০২৭ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। সেখানে কন্ডিশন হবে বাউন্সি ও পেস সহায়ক। অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত বিচক্ষণতার বিচারে রোহিত–কোহলির মতো ব্যাটার এসব কন্ডিশনে দলের সবচেয়ে বড় সম্পদ হতে পারেন।
ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাই এই দুই তারকার জায়গা নিয়ে নতুন করে ভাবার আর তেমন অবকাশ নেই। রাঁচির মতো পারফরম্যান্স দেখিয়ে তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন—এখনও তাঁরা ভারতের শিরোনাম জয়ের সবচেয়ে বড় আশা। শ্রীকান্তের কথায়, “ওদের ছাড়া ভারত বিশ্বকাপ জিতবে না—আমি শতভাগ নিশ্চিত।”
