ফুটবল জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের অন্ত্যেষ্টি ঘটে গেল। লিডস ইউনাইটেড এবং ওয়েলস দলের প্রিয় খেলোয়াড় ও কোচ টেরি ইয়োরাথ ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর জীবনকাল কেবল ফুটবল প্রেমীদের জন্যই নয়, বরং সকলের জন্য এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।
ইয়োরাথ পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ১৯৬৭ সালে লিডস ইউনাইটেডে। সেখানে তিনি ৯ বছর ধরে শীর্ষ স্তরের ফুটবলার হিসেবে খেলে ক্লাবকে অসাধারণ সাফল্য এনে দেন। লিডসের হয়ে তিনি মোট ১৯৯ ম্যাচে ১১ গোল করেন। তাঁর সময়ে ক্লাবটি ১৯৭৪ সালে ফার্স্ট ডিভিশন শিরোপা জিতেছিল এবং তিনি ফা কাপ, ইউরোপীয় কাপ ও কাপ উইনার্স কাপের রানার্স-আপও ছিলেন।
ওয়েলস জাতীয় দলের হয়ে ইয়োরাথ খেলেছেন ৫৯ ম্যাচ, যার মধ্যে ৪২টি ম্যাচে অধিনায়কের ভূমিকায় ছিলেন। তিনি ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে দলের ম্যানেজার ছিলেন। রোমানিয়ার সঙ্গে শেষ কোয়ালিফায়ারে ২-১ হারের আগে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাসের দরজা খোলার কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন।
খেলোয়াড়ি জীবনে ইয়োরাথ কোভেন্ট্রি সিটি, টটেনহাম হটস্পার, ভ্যানকুভার হোয়াইটক্যাপস, ব্র্যাডফোর্ড সিটি এবং সোয়ানসি সিটিতেও খেলেছেন। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের পর তিনি কোচিং ও ম্যানেজমেন্টে মনোযোগ দেন। সোয়ানসি, ওয়েলস, ব্র্যাডফোর্ড, কার্ডিফ, লেবানন, শেফিল্ড ওয়েডনেজডে ও মারগেট ক্লাবগুলো তিনি পরিচালনা করেছেন। ১৯৮৮ সালে তিনি সোয়ানসিকে চতুর্থ ডিভিশন থেকে প্রোমোশন করান এবং ওয়েলসকে দীর্ঘ সময় পর বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন।
ইয়োরাথের ব্যক্তিগত জীবনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ছিলেন বিবিসি স্পোর্টসের উপস্থাপক গ্যাবি লোগানের পিতা। ১৯৮৫ সালে ভ্যালি প্যারেড অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি ব্র্যাডফোর্ডের প্লেয়ার-কোচ ছিলেন, যেখানে ৫৬ জন ভক্ত নিহত হন এবং ২৭০ জন আহত হন। তাঁর চার সন্তান ছিলেন গ্যাবি, ড্যানিয়েল, লুইস ও জর্ডান। দুর্ভাগ্যবশত, ড্যানিয়েল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রয়াত হন।
সন্তানরা একটি বিবৃতিতে বলেছেন,
“অনেকে তাঁকে ফুটবলের নায়ক হিসেবে দেখেছে, আমাদের কাছে তিনি ছিলেন বাবা; শান্ত, সদয় ও নম্র। আমাদের হৃদয় ভেঙেছে, তবে আমরা সান্ত্বনা পাই যে তিনি আমাদের ভাই ড্যানিয়েলের সঙ্গে পুনর্মিলিত হবেন।”
সামাজিক মাধ্যমে প্রাক্তন ব্র্যাডফোর্ড স্ট্রাইকার ডিন উইন্ডাস লিখেছেন,
“দুঃখজনক সংবাদ, মহান মানুষ ও ভদ্র ব্যক্তি। পরিবারকে আমার সমবেদনা। আরইপি।”
টেরি ইয়োরাথের ফুটবল জীবন সংক্ষেপে
| বিভাগ | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম | ১৯৫০ (প্রায়) |
| মৃত্যু | ৭৫ বছর বয়সে, ২০২৬ |
| লিডস ইউনাইটেড | ১৯৬৭–১৯৭৬, ১৯৯ ম্যাচ, ১১ গোল |
| আন্তর্জাতিক | ৫৯ ম্যাচ, ৪২ অধিনায়ক |
| প্রধান অর্জন | ফার্স্ট ডিভিশন শিরোপা (১৯৭৪), FA Cup, ইউরোপীয় কাপ রানার্স-আপ |
| অন্যান্য ক্লাব | কোভেন্ট্রি সিটি, টটেনহাম, ভ্যানকুভার হোয়াইটক্যাপস, ব্র্যাডফোর্ড, সোয়ানসি |
| কোচিং | সোয়ানসি, ওয়েলস, ব্র্যাডফোর্ড, কার্ডিফ, লেবানন, শেফিল্ড ওয়েডনেজডে, মারগেট |
| পরিবার | গ্যাবি, ড্যানিয়েল, লুইস, জর্ডান |
টেরি ইয়োরাথ কেবল একজন ফুটবলের নায়ক ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক শান্ত, উদার ও প্রেমময় পিতা ও বন্ধু, যাঁর প্রভাব আজও ফুটবল এবং পরিবার জীবনের মধ্যে অম্লান। ফুটবল জগৎ তাঁর বিদায়ে শোকাহত হলেও, তাঁর জীবনের গল্প আমাদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।
