১২ বছর পর আবারও বিপিএলে ফিরে এলো পুরনো উত্তেজনা—নিলাম। ২০১২ ও ২০১৩ সালের পর দীর্ঘ বিরতিতে এবার আবার ক্রিকেটারদের মূল্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিক্রি হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে, নিলাম অনুষ্ঠিত হবে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে।
এই নিলাম শুধু খেলোয়াড় কেনাবেচা নয়, বরং বিপিএলের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে ড্রাফট পদ্ধতি ব্যবহৃত হলেও, তা নিয়ে অভিযোগ ছিল যথেষ্ট। ড্রাফটে দলের কৌশলগত অবস্থানের চেয়ে ভাগ্য নির্ভরতা বেশি থাকে বলে দাবি করেছিলেন ক্রিকেটবিশেষজ্ঞরা। এবার নিলামের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী খেলোয়াড় সংগ্রহ করতে পারবে।
নতুন ব্যবস্থা অনুসারে পাঁচটি দল অংশ নেবে: ঢাকা ক্যাপিটালস, চট্টগ্রাম রয়্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটানস। খেলোয়াড়দের মূল্য নির্ধারণ ও লেনদেন হবে স্বচ্ছ একটি প্রটোকলের অধীনে, যেখানে সব অর্থ লেনদেন হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের করনীতির আওতায়। তাছাড়া, সকল খেলোয়াড় চুক্তি হবে ত্রিপক্ষীয়—খেলোয়াড়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও বিসিবির যৌথ চুক্তির মাধ্যমে।
নতুন বাজেটের কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি দলকে কমপক্ষে ১১ জন স্থানীয় ও ২ জন বিদেশি খেলোয়াড় নিতে হবে। সর্বোচ্চ ১৫ জন স্থানীয় এবং ২–৪ জন বিদেশি খেলানো যাবে প্রতি ম্যাচে। ‘এ’ ক্যাটাগরির স্থানীয় ক্রিকেটারের বেস প্রাইস রাখা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা, প্রতি ধাপে ৫ লাখ করে বৃদ্ধি করা যাবে। বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে শীর্ষ ক্যাটাগরিতে বেস প্রাইস ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার, প্রতি ধাপে ৫ হাজার ডলার বৃদ্ধি।
ডাইরেক্ট সাইনিংয়ের সুযোগও থাকবে, যেখানে একটি দল সর্বোচ্চ ২ জন স্থানীয় (এ বা বি ক্যাটাগরি) এবং ১–২ বিদেশি খেলোয়াড় সরাসরি দলে নিতে পারবে। অর্থাৎ, নিলামেই সব খেলোয়াড় উঠবেন না। এর ফলে কিছু বড় নাম নিলামে না উঠে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমেই চলে যেতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদ্ধতি দলগুলোকে নিজেদের ব্র্যান্ড ভ্যালু অনুযায়ী খেলোয়াড় বাছাইয়ের স্বাধীনতা দেবে।
পেমেন্ট হবে তিন ধাপে: সাইনিংয়ে ২৫%, শেষ লিগ ম্যাচের আগে ৫৫%, এবং টুর্নামেন্ট শেষের ৩০ দিনের মধ্যে বাকি ২০% পরিশোধ করতে হবে। এই কঠোর নিয়ম খেলোয়াড়দের বেতন বকেয়া ঝামেলা হ্রাস করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
১২ বছর পর এই নিলাম ফিরিয়ে আনা নিঃসন্দেহে বিপিএলের জনপ্রিয়তা বাড়াবে। দেশি-বিদেশি তারকাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং দর্শকদের আগ্রহ—সব মিলিয়ে বিপিএলের ১২তম আসর হতে পারে সবচেয়ে আলোচিত ও উত্তেজনাপূর্ণ মৌসুম।
