প্রভাবশালী সমর্থনে পুনর্জয়! দ্বিতীয় দফায় অজিঙ্কা নায়কই মুম্বাই ক্রিকেটের রাজার আসনে

মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ) নির্বাচনের ফলাফল ক্রিকেটমহলে নতুন বার্তা দিল। আবারও সভাপতি নির্বাচিত হলেন অজিঙ্কা নায়ক। আগের মেয়াদে খেলার মানোন্নয়ন, ক্লাব সংস্কারে পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক সমন্বয় করার কারণে এবারের নির্বাচন তাঁর জন্য যেন ‘স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই নির্বাচিত হওয়াটা তা-ই প্রমাণ করে।

তার চেয়েও বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে তাঁর প্যানেলের জয়ে ১৬ পদের মধ্যে ১২টি দখল। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট ভাষায় বলছেন—এটা শুধু জয়ের ফল নয়, এটা মুম্বাই ক্রিকেটে ‘একতরফা নিয়ন্ত্রণের ঘোষণাপত্র’। আদালত, রাজনৈতিক প্রভাব, ক্রিকেট প্রশাসনের গোপন দ্বন্দ্ব পেরিয়ে এবার সম্পূর্ণ ‘পাওয়ার-শেলার গ্রুপ’ মুম্বাই ক্রিকেটে আধিপত্য করতে যাচ্ছে।

দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনাভিস এবং সাবেক এমসিএ, বিসিসিআই ও আইসিসি সভাপতি শারদ পাওয়ার—নির্বাচনের আগে থেকেই নায়কের পাশে ছিলেন। নায়ক নিজেই জানিয়েছেন, “তাঁদের সাহায্য না পেলে এই জয় সম্ভব ছিল না।” এছাড়া কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও মন্ত্রী অশীষ শেলারের প্রতিও।

তাঁর এই বক্তব্য শুধু ‘শুভেচ্ছা ধন্যবাদ’ নয়, বরং ‘ক্ষমতার সমীকরণ’ সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত। অর্থাৎ, মুম্বাই ক্রিকেটে রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব আরও বাড়বে, যা সুবিধা যেমন দেবে, তেমনি ভবিষ্যতে বিতর্কও জন্ম দিতে পারে।

প্যানেলের জয়ী সদস্যদের তালিকা নিয়ে আলোচনা বেশ তীব্র। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন উনমেশ খানভিলকর, সহ-সভাপতি জিতেন্দ্র আওয়াদ, যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে নিলেশ ভোঁসলে এবং কোষাধ্যক্ষ আরমান মালিক। এছাড়া নির্বাহী পরিষদের ৯ আসনের মধ্যে বেশিরভাগই দখল করেছে নায়কের পক্ষের প্রার্থীরা।

এখন প্রশ্ন—এই বিজয় মুম্বাই ক্রিকেটকে কোন পথে নিয়ে যাবে? নায়ক প্রথম মেয়াদে ঘরোয়া ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব আনতে যে চেষ্টা করেছিলেন, তা আরো গতিশীল হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্লাব ক্রিকেটে অর্থনীতি, উইকেটের অবস্থা, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক সবকিছুই বদলানোর কাজ শুরু হবে বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

মুম্বাই ভারতের ক্রিকেটের প্রাণ—যেখানে জন্ম নিয়েছেন গাভাস্কার, টেন্ডুলকার, রোহিত শর্মা, বুমরাহরা। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার দায়িত্ব এখন আবার অজিঙ্কা নায়কের হাতে। সময়ই বলবে এই জয়ের মাধ্যমে মুম্বাই ক্রিকেট আরও সমৃদ্ধ হবে, নাকি রাজনৈতিক ক্ষমতার ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে।

Leave a Comment