১৩ বছর পর জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিরছে বাংলাদেশ নারী দল: মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে আজ মহারণ!

১৩ বছর পর আজ আবারও গর্জে উঠতে যাচ্ছে দেশের ফুটবলের ঐতিহাসিক ভেন্যু—জাতীয় স্টেডিয়াম। আর এই প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল, যারা এশিয়ান কাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি শানাতে মুখোমুখি হচ্ছে মালয়েশিয়ার। আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাওয়া নারী এশিয়ান কাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।

গত অক্টোবরে থাইল্যান্ড সফরে দুটি ম্যাচ খেলেছিল পিটার বাটলারের দল। যদিও ফলাফল আশানুরূপ ছিল না—প্রথম ম্যাচে ৫-১ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে মেয়েরা আরও বেশি মনোযোগী হয় নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করতে। দুই ম্যাচেই কোচ বাটলার হাই লাইন ডিফেন্স ব্যবহার করেছিলেন, যা নিয়ে কিছু সমালোচনাও শোনা যায়। তবে বাটলার সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—নিজের দর্শন বদলানোর কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।

ব্রিটিশ কোচ বলেন,
“আমি আমার ফুটবল দর্শনের ওপরই ভরসা রাখব। জয়-পরাজয় নিয়ে ভাবছি না; এশিয়ান কাপে আমাদের জায়গা করে দেওয়া যে পরিকল্পনা, সেটাই আমাদের পথ।”

এদিকে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার জানান, দলের লক্ষ্য স্পষ্ট—ভুল কমিয়ে পরবর্তী ম্যাচে আরও পরিণত খেলা উপহার দেওয়া।
তিনি বলেন,
“হ্যাঁ, ভুল থাকবে—সেখান থেকেই শেখা। আমরা অনূর্ধ্ব-২০ স্তরে যেমন শিখেছি, সিনিয়র দলও সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চায়।”

বাংলাদেশের বিপক্ষে মালয়েশিয়া সর্বশেষ খেলেছিল তিন বছর আগে কমলাপুরে। একটি ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ৬-০ গোলে, আরেকটি ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। সে স্মৃতি নিয়েই এবার জাতীয় স্টেডিয়ামে নামতে যাচ্ছে দুই দল।

তবে মালয়েশিয়ার অধিনায়ক নুর লিয়ানা বিনতে সোবেরি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন,
“বাংলাদেশ কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে আমরা ভালো কিছু নিয়েই দেশে ফিরতে চাই।”

দলের ব্রাজিলিয়ান কোচ জোয়েল কর্নেলিও জানান, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সিরিজটি তাদের দলগত আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য বড় সুযোগ।
তিনি বলেন,
“আমাদের নিজেদের খেলার ধরন দাঁড় করাতে হবে। জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।”

এদিকে ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় দল আজারবাইজানও সমান শক্তিশালী। তাদের ১৪ জন ফুটবলার ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলে থাকেন; বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগে এই সিরিজ তাদের শেষ প্রস্তুতি। অধিনায়ক সেভিঞ্জ জাফারজাদা বলেন—এটি এশিয়ার দলের বিপক্ষে তাদের প্রথম অভিজ্ঞতা, তাই ম্যাচগুলো তাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

সন্ধ্যা ৭টায় দেশীয় ফুটবল সমর্থকেরা এক ঐতিহাসিক দিন দেখবেন—১৩ বছর পর জাতীয় স্টেডিয়ামে নারী দলের প্রত্যাবর্তন, আর তার সঙ্গে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বারও খুলে যাবে।

Leave a Comment