মুন্সিগঞ্জে ৩০ অক্টোবর উদ্বোধন হয়েছিল এবারের জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে অ্যাওয়ে দল হিসেবে মাঠে নামে মাদারীপুর জেলা দল। দীর্ঘ প্রতিযোগিতা, অসংখ্য লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ ও মাঠ সংকট সত্ত্বেও প্রায় তিন মাসের যাত্রা শেষে গতকাল শনিবার সফলভাবে শেষ হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই ফুটবল আসর। তিন বছর পর আয়োজন হওয়া চ্যাম্পিয়নশিপটি বাফুফের জন্য যেমন একটি বড় পরীক্ষা ছিল, তেমনি দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও স্পষ্ট করেছে।
এই প্রথমবারের মতো হোম–অ্যাওয়ে ভিত্তিতে টুর্নামেন্ট পরিচালনা করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। দেশের ৬৪ জেলাই অংশ নেয় কিন্তু সব জেলায় ফুটবল-উপযোগী মাঠ না থাকায় বাফুফের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ কমিটিকে বহু ম্যাচ তৃতীয় ভেন্যুতে আয়োজন করতে হয়। মাঠ সংকুলান, স্থানীয় প্রভাব, যাতায়াত ব্যবস্থা, আবহাওয়া — সবকিছুর মধ্যেই বাফুফে সফলভাবে আয়োজন করে ১৫০টিরও বেশি ম্যাচ, যেখানে অংশ নেয় প্রায় দুই হাজার ফুটবলার।
সেমিফাইনাল ও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে। ফাইনালের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সমাপ্তির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাবিথ আউয়াল বলেন,
“চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক, কিন্তু টুর্নামেন্টের জন্য আমরা অনেক মাঠ ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। দেশের ফুটবলের হারানো আবহ কিছুটা হলেও ফিরে এসেছে।”
মাদারীপুর ও বরিশালের মতো জেলাগুলোয় দীর্ঘদিন মাঠ ব্যবহার অনুপযোগী থাকলেও বাফুফের উদ্যোগে আবার ফুটবল ফেরানো সম্ভব হয়েছে।
এই চ্যাম্পিয়নশিপ থেকেই ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের খেলোয়াড় বাছাই করার পরিকল্পনা করছে বাফুফে। নির্বাচিত ফুটবলারদের এলিট একাডেমির অধীনে আনার পাশাপাশি শিগগিরই জেলা লিগ শুরুর ঘোষণা দেন সভাপতি তাবিথ:
“ডিস্ট্রিক্ট লিগ শুরু হলে খেলোয়াড়রা আরও বেশি ম্যাচ খেলতে পারবে, যা জাতীয় দলের পাইপলাইনকে আরও শক্তিশালী করবে।”
ক্রীড়া উপদেষ্টা সজীব ভূঁইয়া প্রশংসা করে বলেন,
“এটা বাফুফের জন্য বড় সফলতা। এখন এই টুর্নামেন্টকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে হবে।”
মাঠ সংকট নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুল আলম জানান,
“ফুটবলের জন্য আলাদা স্টেডিয়াম পূর্বাচলে পরিকল্পনায় আছে। এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে ২–৩ বছর সময় লাগবে।”
ফাইনালে দিনাজপুর জেলা ৩–২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় সিরাজগঞ্জকে হারিয়ে। পুরো ম্যাচজুড়ে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে এবং ফাইনাল দেখেছেন বাফুফে ও চ্যাম্পিয়নশিপ কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এই টুর্নামেন্ট আবারও প্রমাণ করল—মাঠ সংকট থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল পরিচালনা থাকলে দেশের ফুটবলে বড় আয়োজনও সফলভাবে করা যায়।
