জিমন্যাস্টিকসের শ্রেনী বিভাগঃ জিমন্যাস্টিকসের জন্মলগ্ন থেকে পরিপূর্ণ বিকাশের দীর্ঘ ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়গুলো বিচার-বিশ্লেষণে দেখা গেছে স্থান-কাল পাত্র ভেদে এর ব্যবহারের ক্ষেত্র কার্যকারিতা ও ধরন পদ্ধতির বিভিন্নতা এর গুরুত্ব আওতা ও বিশিষ্টতাকে —– ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর করে দিয়েছে। জিমন্যাস্টিকসের এইসব ব্যবহারের ক্ষেত্র, কর্মসূচী পদ্ধতি ও গুরুত্ব ভেদে মোটামুটিভাবে প্রধান তিনটি শ্রেনীতে ভাগ করা হয়েছে।
Table of Contents
জিমন্যাস্টিকসের শ্রেনী বিভাগ । খেলাধুলার আইন
১. মৌলিক (Basic) জিমন্যাস্টিকস্
২. ক্রীড়া ( Sportive) জিমন্যাস্টিকস্
৩. সাহায্যকারী (Auxiliary) জিমন্যাস্টিকস্।
CLASSIFICATION OF GYMNASTICS
| A. Basic Gymnastics | B. Sportive Gymnastics | C. Gymnastics for Factory Warkers |
| 1. Educational Gymnastics or Child Gymnastics | 1. Artistic Gymnastics or Apparatus Gymnastics | 1. Gymnastics for Factory Warkers |
| 2. Hygienic Gymnastics | 2. Modern Rythmic Gymnastics | 2. Gymnastics for other games and sports |
| 3. Sports Acrobatics | 3. Remedial Gymnastics or Madical Gymnastics | |
| 4. Trampolining |
১. মৌলিক জিমন্যাস্টিকস্
মৌলিক জিমন্যাস্টিকস হচ্ছে প্রতিদিন কোন এক সময় নিয়মিতভাবে কোন বিশেষ পদ্ধতিতে সহজ কিছু মুক্তহস্ত ব্যায়ামের কর্মসূচী যা ব্যক্তির সর্বাঙ্গিণ যোগ্যতা( All-round fitness) আনতে পারে।
উদ্দেশ্য ঃ
ব্যক্তি সাধারণ শারীরিক যোগ্যতা সমুন্নত রেখে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার মাধ্যমে সর্বাঙ্গিণ উন্নয়ন সাধন সেই সাথে দৈনন্দিন কর্মতালিকা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার উপযোগী করে তোলা।
এই ধরণের ব্যায়ামের কর্মসূচী ব্যক্তিকে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের উপযোগী করে তোলে না তবে আভ্যন্তরীন অঙ্গ (Organs) সমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে ।
এই ব্যায়ামের কর্মসূচী সরাসরি ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন অংশের বিশেষ মাংশপেশীর (Muscles) সর্বোচ্চ শক্তি দ্রুততা সহিঞ্চুতা ইত্যাদির ক্ষমতা বৃদ্ধির সাাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। শুধুমাত্র দৈনন্দিন কর্ম তালিকা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের প্রয়োজনীয় শক্তি বৃদ্ধি করে ।
মৌলিক জিমন্যাস্টিকসের একটি বিরাট অংশ হচ্ছে “শিক্ষা জিমন্যাস্টিকস “যেখানে শুধুমাত্র শিশুদের সুষ্ঠু শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে কিছু বিশেষ ধরণের ব্যায়ামের কর্মসূচী যা “শারীরিক শিক্ষায়” কর্মসূচী হিসাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সাধারন শিক্ষার পাশাপশি নিয়মিত অনুশীলন করানো হয়। অতি সহজে শিশুদের আয়ত্ত্বে আনানো সম্ভব এইরূপ সাধারন ব্যায়াম যেমনঃ দৌড়ানো, হোপিং, জাম্পিং, রোলিং, প্রোইং, ক্লাম্বিং ইত্যাদি যা মুক্তহস্তে অথবা হালকা হাতে ব্যবহৃত সরঞ্জামের সাহায্যে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের জন্য বিভিন্নমূখী (Multisided) ব্যায়ামের কর্মসূচী যাকে শিশু জিমন্যাস্টিকসও বলা হয়। শিশুরা একক অথবা যৌথভাবে করতে পারে।
উদ্দেশ্যঃ
১. শিশুদের শারীরিক আভ্যন্তরীন অঙ্গগুলো (রথটভধ্রুব)যেমন রক্ত প্রচলন, শ্বাস- প্রশ্বাস ও পরিপাক ক্রিয়ার কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে, স্নায়ু-মাংসপেশীর কঠিন চাপ কমিয়ে সমন্বয় সাধন করে এবং মাংসপেশীর বলিষ্ঠতা বৃদ্ধি করে।
২. শিশুদের মানষিক স্বাস্থ্য (Mentl Health) অর্জনে শিশু মনস্তাত্বিক বিষয়াবলী যেমন, আত্ম-অভিব্যক্তি, আত্মবিশ্বাস, আত্ম-নিয়ন্ত্রণ বোধ, সুদৃঢ় করে বিষণ্নতা দূর করে এবং আবেগকে নিয়ন্ত্রণে আনে।
৩. শিশু মন বিশেষভাবে অনুসরণ ও দলবদ্ধ সামাজিক সহজাত প্রবৃত্তি দ্বারা অনুপ্রানিত হয়। এই সহজাত প্রবৃত্তি ও ইচ্ছা শক্তি ব্যবহার করে সুষ্ট সামজিকীকরণে দলবদ্ধ কাজ, বিশ্বস্ততা, খেলোয়াড়ী মনোভাব, বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব, পরস্পর সহযোগীতা, শিষ্টাচার ইত্যাদি দৈনন্দিন সদভ্যাস গড়ে তোলে।
এছাড়াও এই ব্যায়ামের মাধ্যমে শিশুরা ভুল সংশোধনের সুযোগ পায় এবং সর্বোপরি অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে দক্ষ নেতৃত্ব ও অনুসরণ গুনাবলী অর্জন করতে পারে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাদান প্রক্রিয়াতে শারীরিক শিক্ষার অংশ হিসাবে শিক্ষা জিমন্যাস্টিকসের এইরূপ কর্মসূচী তাদের সুষম শিক্ষা (Balance Education) ব্যক্তিত্ব গঠন ও মেধার উন্নয়নসহ সর্বতোমুখী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
“স্বাস্থ্যবিধি সম্মত (Hyginic) জিমন্যাস্টিকস্ মৌলিক জিমন্যাস্টিকসের আরেকটি বিভাগ একটি ব্যতিক্রমধর্মী ব্যায়ামের কর্মসূচী যা বয়স বা লিঙ্গ ভেদে যে কোন ব্যক্তি পরামর্শ অনুযায়ী একটি বিশেষ সময় ও বিশেষ কার্যপ্রণালীতে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারে।
উদ্দেশ্যঃ
১.ব্যক্তির দেহভঙ্গির (Posture) উপযুক্ততা বজায় রাখা।
২. পরিমিত পরিমানে দৈহিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ শারীরিক যোগ্যতাসহ সর্বতোমুখী (All-round) উন্নয়ন আনে যাতে প্রত্যাহিক কার্যতালিকা সম্পাদনে সক্ষম হয়।
৩. মাংসপেশীর শিথিলতার মাধ্যমে মানসিক স্বচ্ছন্দ (Relaxation) আনে ।
কর্মসূচীঃ
সকলেই অতি সহজে অনুশীলন করতে পারে এইরূপ হালকা মুক্তহস্ত ব্যায়াম, যেমনঃ ওয়ার্ম আপ, হাঁটা, জগিং, বৈঠক, পুশ আপ, সিট আপ, চিন আপ, হাত ও পা ঘুরানো, ক্যালিসথেনিকস্ বেন্ডিং, স্ট্রেচিং, ব্যায়াম ও নিশ্বাস-প্রশ্বাস ব্যায়াম। এছাড়াও প্রতিকার সাধক ও অপ্রতিকার সাধক শারীরিক ত্রুটির বিধিনিষেধ সম্বলিত ব্যায়ামের ভিন্নতা এই কর্মসূচীর অন্যতম বিষয়
যেমন-হৃৎপিন্ডের ত্রুটি, মাংসপেশী ও হাড়ের ত্রুটি, (মচকানো ভাঙ্গা পেশীর টান) ইত্যাদির নিবারণ ও সারিয়ে তোলার ব্যায়াম। অন্ধত্ব, চক্ষুরোগ, অতিরিক্ত কম বা বেশি শারীরিক ওজনের বিশেষ ব্যায়ামের কর্মসূচী এই জিমন্যাস্টিকসের অন্তর্ভুক্ত।
সময়ঃ
খুব সকালে অন্য কোন কর্মকান্ড শুরু করার পূর্বে এই ব্যায়াম করা হয়।
স্থায়িত্ব : ২৫-৩০ মিনিট।
স্থান : মুক্তাঙ্গন।
২. ক্রীড়া জিমন্যাস্টিকস
ক্রীড়া জিমন্যাস্টিকস একটি প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া। এতে বিভিন্ন মানের যেমন-অলিম্পিক, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ, আন্তঃমহাদেশীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। তাই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা অর্জন ক্রীড়া জিমন্যাস্টিকসের মূল উদ্দেশ্য। কঠিন দক্ষতাপূর্ণ ও কৌশলপূর্ণ ব্যায়ামের মাধ্যমে শারীরিক শক্তি, সহিঞ্চুতা, নৈপুণ্য, নমনীয়তা, সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলাই এর বৈশিষ্ট্য।
ব্যায়ামের ধরন অনুযায়ী ক্রীড়া জিমন্যাস্টিকসকে ৪টি ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
১. শৈল্পিক (Artistic) জিমন্যাস্টিকস্
২. আধুনিক ছন্দময় (Modern Rhythmic) জিমন্যাস্টিকস্
৩. ক্রীড়া এ্যাক্রোবেটিকস (Sports Acrobatives)
৪. ট্রাম্পোলিনিং (Trampolining)
আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস্
আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিককে ভারী (Heavy) বা সরঞ্জাম (Apparatus) জিমন্যাস্টিকসও বলা হয় । কারণ এই জিমন্যাস্টিকসে তুলনামূলকভাবে ভারী সরঞ্জামের উপর শ্রমসাধ্য (Strenuous) ও অসাধারণ (Unusal) ঝুঁকিপূর্ণ ব্যায়াম যেমনঃ সুইং, জাম্পিং, স্প্রিং, সন্টো, ক্যালিসথানিকস্ ও ট্রাম্বলিং সমন্বত ব্যায়ামে সিরিজ প্রদর্শন করা হয়। আর্টিস্টিককে দুই ভাগে ভাগ করা যায় যেমন –
পুরুষ আর্টিস্টিকসে ৬টি সরঞ্জাম (ফ্লোর, হরাইজন্টাল বার, হর্সভোল্ট, রিংস, প্যারালাল বারস, ও পমেল হর্স)।
মহিলা আর্টিস্টিকসে ৪টি সরঞ্জাম (ফ্লোর, আনইভেন বারস, হর্স ডোন্ট ও ব্যালেন্স বীম)।
আর্টিস্টিকসে তিন ধরনের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়
প্রতিযোগিতা নং ১-দলগত চ্যাম্পিয়নশীপ (Team Championship)ঃ
এতে আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক ব্যায়ামের প্রতিযোগিতা হয়। ৬ জনের প্রতিটি দল থেকে সর্বোচ্চ পয়েন্ট ৪ জনের সর্বমোট স্কোর যোগ দিয়ে চ্যাম্পিয়ন দল নির্ধারণ করা হয়। সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্কোর পুরুষদের ১২০ পয়েন্ট ও মহিলাদের ৮০ পয়েন্ট ।
প্রতিযোগিতা নং ২-ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়নশীপ (Individual all around)ঃ
প্রতিযোগিতা নং ১ এর ক্রমানুযায়ী ফলাফল থেকে বাছাইকৃত ২৬ জন সেরা জিমন্যাস্টের শুধুমাত্র ঐচ্ছিক ব্যায়ামের সর্বমোট পয়েন্ট যোগ দিয়ে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারন করা হয় । সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্কোর পুরুষদের ৬০ পয়েন্ট এবং মহিলাদের ৪০ পয়েন্ট ।
প্রতিযোগিতা নং ৩-ব্যক্তিগত সরঞ্জাম ফাইনাল (Indiviual event final)ঃ
একইভাবে প্রতিযোগিতা নং ১-এর প্রতিটি সরঞ্জামের ফলাফল থেকে বাছাইকৃত সেরা ৮জন জিমন্যাস্টের শুধুমাত্র ঐচ্ছিক ব্যায়ামের সর্বোচ্চ পয়েন্ট দিয়ে ঐ সরঞ্জামের বিজয়ী নির্ধারন করা হয়। সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্কোর পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রে ১০ পয়েন্ট ।
রিদমিক জিমন্যাসিটকস্
আধুনিক ছন্দময় (Rhythmic) জিমন্যাস্টিকস্ : শুধুমাত্র মহিলাদের প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া। এটাকে সঙ্গীত যুক্ত নৃত্যলীলা (Balletic) ও বলা হয়। কারণ এতে সঙ্গীতের তালে বিভিন্ন ধরনের ক্যালিসথানিক ব্যায়াম যেমন স্টেপস, জ্যোম্পস, পি ভোটস, বডি ফ্রাকশন ইত্যাদি (এ্যাক্রোবেটিকস ব্যায়াম ব্যতীত) ১২১২ মিটার ফ্লোর এক্সার্সাইজ ম্যাটের উপর প্রদর্শন করা হয়। এতে ব্যবহৃত হয় এমন সরঞ্জাম হলো-ফিতা, দড়ি, হুপ, বল ও কুরস। ১৯৮৪ সালে অলিম্পিক গেমসে রিদমিক অন্তর্ভুক্ত হয় ।
সরঞ্জামের পরিমান
রোপঃ দৈর্ঘ্য জিমন্যাস্টের উচ্চতার সমানুপাতিক এবং ব্যাস ১ সেঃ মিঃ। রিবোনঃ ব্যাস দৈর্ঘ্য ৬ মিঃ এবং প্রস্থ ৪-৬ সেঃ মিঃ যে কোন প্রস্তুতিকরণ এবং হাতল ১ মিঃ দৈর্ঘ্য।
হুপঃ ব্যাস ৮০-৯০ সেঃ মিঃ ওজন ৩০০ গ্রাম নূন্যতম, আকার সার্কুলার ওভাল স্কোয়ার, রোক্টিংগুলার এবং যে কোন প্রাকৃতিক রং (গোল্ড, সিলভার, ও ব্রোঞ্জ রং ব্যতীত)।
বলঃ ওজন ৪০০ গ্রাম নূন্যতম
কুবসঃ ওজন ১৫০ গ্রাম নূন্যতম ।
ক্রীড়া এ্যাক্রোবেটিকস্
ক্রীড়া এ্যাক্রোবেটিকস্ আজ আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় ক্রীড়া। প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায় প্রায় ২০০ খ্রিস্ট পূর্ব থেকে এ্যাক্রোবেটিকসের অগ্রযাত্রা শুরু। চীন সভ্যতায় এটা শ্যালো গেমস, গ্রীকের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির ও চিত্তবিনোদনের অংশ হিসাবে এ্যাক্রোবেটিকের প্রচলন ছিল।
রোম সভ্যতার রোমান সার্কাস হিসাবে এবং রেনেসাঁ সময় পিরামিড হিসাবে পরিচিত ছিল। গ্রীক শব্দ AKROBATES থেকে এ্যাক্রোবেটিকস্ এসেছে যার অর্থ পায়ের পাতার উপর ভর করে হাটা। এর আরেক অর্থ হলো “Climbing তাহলে বলা যায় Tumbeling এবং Balance মুভমেন্টের সমন্বয় হচ্ছে এ্যাক্রোবেটিকস্ ।
১৯৩২ সালে অলিম্পিক Tumbling একটি অন্যতম ইভেন্ট ছিল। এ্যাক্রোবেটিকস্ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আসে ১৯৩৯ সালে রাশিয়াতে। প্রথম আন্তর্জাতিক স্পোর্টস এ্যাক্রোবেটিকস্ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৭ সালে পোল্যান্ডে। আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অব স্পোর্টস এ্যাক্রোবেটিকস (IFSA) সংগঠিত হয় ১৯৭৩ সালে মস্কোতে।
পুরুষ ও মহিলা বিভাগে মোট ৭টি ইভেন্টের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ।
১. টাম্বলিং পুরুষ একক।
২. টাম্বলিং মহিলা একক।
৩. পুরুষ যুগল।
8. মহিলা যুগল ।
৫. মিশ্র যুগল ।
৬. মহিলা দলগত ।
৭. পুরুষ দলগত ।
ব্যক্তিগত ব্যায়ামে বিশেষ রিকোয়্যারমেন্ট :
প্রথমটি সোজা রান থেকে কমপক্ষে তিনটি ভিন্ন সল্টো, ডবল সল্টো পুরুষের ক্ষেত্রে ২টি ভিন্ন সল্টো হিসাবে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩টি ভিন্ন সল্টো হিসেবে ধরা হবে, ট্রিপল সল্টোকে ৩টি ভিন্ন সল্টো হিসাবে ধরা হবে এবং ১৮০ টুইন্টসহ সষ্টো করা যেতে পারে।
দ্বিতীয়টি টুইষ্টিং থেকে অর্থাৎ কমপক্ষে একটা সল্টো ৩৬০ সহ হতে হবে ।
তৃতীয়টি এই দুইয়ের মিলিত অর্থাৎ কমপক্ষে ১টি সল্টো টুইস্ট ছাড়া এবং ১টি সন্টো কমপক্ষে ৩৬০ টুইন্টসহ সল্টো করতে হবে।
যুগল ও দলগত ব্যায়ামের বিশেষ রিকোয়্যারমেন্টঃ
প্রথমটিতে শরীরের বিভিন্ন অংশের উপর পিরামিড, ব্যালেন্স ও সাপোর্টিং ব্যায়ামের সিরিজ।
দ্বিতীয়টি টেম্পো রুটিনে বিশেষত মিশ্র যুগলে শূন্যে নিক্ষেপ (টাম্বলিং)- তবে এটা করগ্রাফি সম্পর্কিত হতে হবে।
তৃতীয়টিতে এই দুইয়ের মিলিত অর্থাৎ কমপক্ষে ৫টি (Pair-group), ২টি
ব্যালেন্স ও ২টি টেম্পো এলিমেন্ট এবং সর্বোচ্চ ২টি ডিসমাউন্ট ।
সরঞ্জামঃ
১২ × ১২ মিটার ফ্লোর এক্সার্সাইজ ম্যাট ব্যবহার করা হয় ।
-ব্যাক্তিগত টাম্বলিং-এর জন্য ( Matting Track) ব্যবহার করা হয়। যারা ৩টি অংশের ১মটি (Approach Run) এর দৈর্ঘ্য ১০মিটার, দ্বিতীয়টি জাম্প এরিয়ার দৈর্ঘ্য ২৫ মিটার এবং প্রস্থ ১৭ থেকে ২ মিটার, তৃতীয় অংশটি ল্যান্ডিং এরিয়ার দৈর্ঘ্য ৫ মিটার এবং প্রস্থ ৩ থেকে ৫ মিটার।
ট্রাম্পোলিনিং
ট্রাম্পোলিনিং (Trampolining) হচ্ছে এ্যাক্রোবেটিকস্ নির্ভর প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া যা ট্রাম্পোলিনিং-এর উপর লাফিয়ে শূন্যে উঠে এ্যাক্রোবেটিকস ব্যায়ামের সিরিজ করা হয় । এতে ব্যক্তিগত ও দলগত এই দুই ধরণের প্রতিযোগিতা হয় ।
ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রত্যেক জিমন্যান্ট একটি আবশ্যিক ও ২টি ঐচ্ছিক ব্যায়ামের রুটিন করে প্রতি রুটিনে ১০টি সংযুক্ত স্কিল যাতে এক বা একাধিক সল্টো থাকে । প্রতি দলে ৪জন মহিলা ও ৬ জন পুরুষ থাকে। সল্টো সাধারণত ও দুই টুইটসহ পাইক বা টাইট অবস্থায় বিভিন্ন মাউন্ড এবং ডিসমাউন্ড করতে হয়। ট্রাম্পোলিনিং এর একটি অংশ হচ্ছে ।
সিংক্রনজন প্রতিযোগিতা এতে দুইজন জিমন্যাস্ট একই সময় একই তালে ২ মিটার দূরত্বে সমান্তরালে অবস্থিত ভিন্ন ট্রাম্পোলিনিং-এর উপর একটি আবশ্যিক ও একটি ঐচ্ছিক ব্যায়ামের রুটিন প্রদর্শন করে ।
সরঞ্জাম
ট্রাম্পোলিনিং-এর উপরিভাগের বিছানা, মধ্যবর্তি বুননের অংশ ফ্রেম ও উচ্চতার পরিমাপ ও দৈর্ঘ্য ৩৬০ সেঃ মিঃ থেকে ৪৩০ সেঃ মিঃ। প্রস্থ ১৮০ সেঃ মিঃ থেকে ২১৫ সেঃ মিঃ উচ্চতায় ৯৫ সেঃ মিঃ থেকে ১০৫ সেঃ মিঃ। জিমন্যাসিয়ামের উচ্চতা ৮ মিটার।
৩.সাহায্যকারী জিমন্যাস্টিকস
সাহায্যকারী জিমন্যাস্টিকস সরাসরি মৌলিক বা ক্রীড়া জিমন্যাস্টিকসের অনুরক নয় আবার এর বহির্ভূত নয়। তবে ঐ সব ব্যায়ামের কলাকৌশলের সম্বলিত একটি বিশেষ কর্মসূচী যা বিশেষ শ্রেনীর লোক, যেমন শারীরিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ শ্রমিক কর্মজীবী, ক্রীড়াবিদ, প্রতিরক্ষা কর্মী স্ব স্ব ব্যক্তিবর্গ নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বনে অনুশীলন করে। ব্যবহারের ক্ষেত্রে ও উদ্দেশে দিক থেকে এই জিমন্যাস্টিকস্ তিন ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
১. শিল্প শ্রমিকদের জন্য জিমন্যাস্টিকস্
২. প্রতিকার সাধক (Remedial) জিমন্যাস্টিকস্
৩. অন্যান্য ক্রীড়ায় জিমন্যাস্টিকস্
শিল্প জিমন্যাস্টিকস্ শিল্প শ্রমিক বা এইরূপ শারীরিক কর্মে নিয়েজিত পরিশ্রান্ত কর্মজীবীদের দৈনন্দিন কর্মক্লান্তি ও একঘেয়েমি বোধ দূর করে বিশ্রামকালীন আনন্দ প্রদানের মাধ্যমে তাদের মধ্যে পুনরায় কজে উদ্দিপনা সৃষ্টি বা উদ্যম ফিরিয়ে আনতে সর্বোপরি কর্মদক্ষতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজের মাঝে বা কাজের শেষে কিছু বিশেষ ব্যায়াম করানো হয়। শিল্প প্রধান দেশ সমূহে এই ধরণের ব্যায়ামের ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়।
কর্মসূচী
সাধারণত কাজের ধরনের বিপরীত ব্যায়াম যেমন যারা সামনে ঝুঁকে কাজ করে তাদের পিছনের দিকে ঝোঁকার ব্যায়াম দিতে হবে। আবার পায়ের কাজ করে তাদের হাতের ব্যায়াম দিতে হবে।
সঙ্গীতের সাথে মুক্তহস্ত ব্যায়াম
নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম
বেশি মাত্রায় বেডিং ও স্ট্রেচিং ব্যায়াম ।
সময়ঃ ১০ থেকে ১৫ মিনিট । স্থানঃ মুক্তাঙ্গন বা খোলা মাঠ।
আরোগ্যকর (Remedial) জিমন্যাস্টিকস সাহার্যকারী জিমন্যাস্টিকসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ধরনের জিমন্যাস্টিকস কর্ম তালিকা চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় বলে প্রতিকার সাধক বা মেডিকেল জিমন্যাস্টিকস হিসাবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পরিচিত বিভিন্ন রকম শারীরিক ক্ষত, অঙ্গ বিকৃতি (Deformity) বিশেষ করে শৈশবকালীন আঘাতপ্রাপ্ত স্থান যেমন-দুর্বল পা (flat feet). প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হাঁটু (Knock- knees). ক্ষত কাঁধ (Round Soulder) ইত্যাদি সারিয়ে তোলে। এছাড়াও আঘাতপ্রাপ্ত স্থান, হাড় ভাঙ্গা, অঙ্গ-বিকৃতি শরীরের দুর্বল বা অকেজো অংশ পুনর্বাসন (Rehabilitation) করতে এই জিমন্যাস্টিকস চর্চা চিকিৎসা উপকরণের উপায় হিসাবে কাজ করে। অবশ্য চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী বিশেষ বিশেষ ব্যায়াম সরঞ্জাম অথবা সরঞ্জাম ব্যতীত করা যেতে পারে।
আরোগ্যকর ব্যায়ামের অংশ দুইভাবে করা যেতে পারে, যেমনঃ
আরোগ্যকর জিমন্যাস্টিকসে চিকিৎসাধীন ব্যক্তি নিজেই কোন রকম বাহ্যিক শক্তি বা সাহার্য ছাড়া নির্ধারিত বিশেষ ব্যায়াম করতে পারে।
পরোক্ষ আরোগ্যকর জিমন্যাস্টিকসে চিকিৎসাধীন ব্যক্তি যে কোন বাহ্যিক শক্তি যা অন্য ব্যক্তির সাহায্যে ও সহযোগিতায় নির্ধারিত বিশেষ ব্যায়াম করে থাকে।
জিমন্যাস্টিকসের বহুমুখী কার্যাবলীর একটি বিরাট দিক হচ্ছে বিভিন্ন ক্রীড়ার সহায়ক (Sportive Auxiliary) হিসাবে কাজ করা। বিশেষ করে ক্রীড়া জিমন্যাস্টিকসের বৈজ্ঞানিক কলাকৌশল নৈপুণ্য ও সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে ক্রীড়াবিদদের দক্ষতা উন্নয়নে যথেষ্ট সাহায্য করে। এছাড়াও জিমন্যাস্টিকস কণ্ডিশনিং সারকিট প্রশিক্ষণ সেফটি এবং কলাকৌশল ক্রীড়াবিদদের শারীরিক দক্ষতা (Motor: ability) বাড়িয়ে ব্যক্তিগত দক্ষতা (Personal Performance) বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূ ভূমিকা পালন করে। উন্নত দেশগুলোর ক্রীড়া প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে অর্থাৎ (Training cycle) এ জিমন্যাস্টিকস এ্যালিমেন্ট প্রশিক্ষণের উপর জোর দেয়া হয়।
কর্মসূচী :
(ক) ক্রীড়া অনুশীলন পূর্বে নিয়মিত ১৫-২০ মিনিটের জিমন্যাস্টিকস্ ওয়ার্ম আপ দাঁড়ানো, বসা অবস্থায়, বেডিং, ও স্ট্রেচিং জয়েন্ট এ্যাকশন (Flexon Extension) ইত্যাদি।
(খ) সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে যেমন- হাইও-লো-বার, প্যারালাল বারস, ব্রিংস স্প্রিং বোর্ড, ম্যাটস, ওয়াল বারস, রোপ ইত্যাদিতে (Pulling, pushing, chin-ing. Jumping situps climbimg.
(গ) সরঞ্জাম ছাড়াও ক্যালিসথেনিক্স যেমন-রোলিং, ডাইভিং, ব্যালেন্স, টাম্বলিং, ব্যায়াম, স্প্রিং সল্টো,হেড স্টান্ট, হ্যাণ্ড স্ট্যান্ট, ইত্যাদি কর্মসূচী জিমন্যাস্টিকস প্রশিক্ষর বা ক্রীড়াবিদের সঠিক প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুশীলন করা যেতে পারে।
