রেকর্ড গড়া বাবরের রান পাকিস্তানের জয়ে কাজে লাগে না—কথাটি কতটুকু সত্য

রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল বাবর আজমের জন্য। লাহোরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাবর আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষে পৌঁছেছেন। বাবরের শীর্ষে উঠার জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ রান, আর তিনি অপরাজিত ছিলেন ১১ রানে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারানোর পথে।

প্রায় এক বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ দিয়ে দলে ফেরার পরও প্রশ্ন উঠেছে, বাবরের রান কি পাকিস্তানের জয়ে কাজে আসছে না? টিম ম্যানেজমেন্ট সরাসরি এমন অভিযোগ করেনি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা গুঞ্জনের কারণে এ নিয়ে তর্ক তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দল জয়ী ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান রয়েছে রোহিত শর্মার। ১০৪ ইনিংসে তিনি ৩২৯৬ রান করেছেন, ১৪৩.৪২ স্ট্রাইক রেটে। বিরাট কোহলি ৭৮ ইনিংসে ২৯৭৯ রান করেছেন, ১৩৭.৭৮ স্ট্রাইক রেটে। দুজনেই ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায় নিয়েছেন।

এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাবর। সক্রিয় ক্রিকেটারদের মধ্যে জয়ী ম্যাচে বাবরের রানই সবচেয়ে বেশি—৭৩ ইনিংসে ২৭১০ রান। পাকিস্তানের জেতা ম্যাচে তাঁর ব্যাটিং গড় ৪৫.৯৩, স্ট্রাইক রেট ১৩০.৭২, যা তার ক্যারিয়ারের গড় ৩৯.৫৭ এর চেয়ে অনেক বেশি।

পাকিস্তানের হয়ে বাবর সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতেছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে—১৪ ম্যাচে, গড় ৫০.৫৪। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতেছেন ১৩ ম্যাচ, গড় ৪৯.৭০। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতেছেন ৮ ম্যাচে, গড় ৩৪.৮৫। ২০২১ সালে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৫৯ বলের ১২২ রানের ইনিংসও তার মধ্যে আছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ী ম্যাচে গড় ৬৯, স্ট্রাইক রেট ১৫০। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ জয়ী ম্যাচে স্ট্রাইক রেট ১১৭.২৬, গড় ৮১.৫০। ভারতের বিপক্ষে জিতেছেন ২ ম্যাচে, রান ৮২, যার মধ্যে ২০২১ বিশ্বকাপে ৬৮ রান অপরাজিত। পরিসংখ্যান স্পষ্ট—বড় দলগুলোর বিপক্ষে বাবরের রান পাকিস্তানের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন না মোহাম্মদ রিজওয়ান। জয়ী ম্যাচের ভিত্তিতে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে রিজওয়ানের গড় ৬৯.১৪, স্ট্রাইক রেট ১৩২.১৫, যেখানে রান ২৩৫১। চতুর্থ স্থানে জস বাটলার, রান ২৩৫৫। এটি দেখাচ্ছে, বাবরের রান যথেষ্ট কার্যকর এবং পাকিস্তানের জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment