ঠান্ডা হাওয়ার পরশে কলকাতায় ফিরেছে টেস্ট ক্রিকেট, আর গঙ্গার তীরে ইডেন গার্ডেনে দেখা মিলছে এক আলাদা উষ্ণতার। তবে এই উষ্ণতার মাঝে একটুও শিথিলতা নেই ভারতীয় দলের অনুশীলনে। শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের আগে খেলোয়াড়রা নিজেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত করতে মরিয়া।
মঙ্গলবার সকালে অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন সাতজন ক্রিকেটার, যার মধ্যে নজর কাড়ছিল অধিনায়ক শুভমান গিল এবং তিন নম্বর ব্যাটার সাই সুদর্শনের দিকে। অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা, ওয়াশিংটন সুন্দর এবং ফাস্ট বোলার জশপ্রীত বুমরাহ। কোচ গৌতম গম্ভীর এবং ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক খেলোয়াড়দের সরাসরি পরামর্শ ও থ্রোডাউনের মাধ্যমে দীক্ষা দিচ্ছেন।
শুভমান গিল ইংল্যান্ড সফরে পাঁচ টেস্টে ৭৫৪ রান করে সিরিজসেরা হয়েছিলেন। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক ধারায় কিছুটা অসঙ্গতি দেখা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজ ও সেনুরান মুত্থুস্বামীকে মাথায় রেখে তিনি বিশেষ ব্যাটিং অনুশীলনে ব্যস্ত। ইডেনের নেটে দেখা গেছে লেফট-আর্ম স্পিনারদের বিরুদ্ধে ব্যাটিংয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন গিল।
পিচ পরীক্ষা ও হেভি রোলারের মাধ্যমে উইকেটের চরিত্র নির্ধারণে কোচ গম্ভীর, গিল ও বোলিং কোচ মর্কেল সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। স্পিনার ও সুইং বোলারদের জন্য সমানভাবে সহায়ক উইকেট তৈরি হচ্ছে, যা ম্যাচে উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করবে।
রবীন্দ্র জাদেজা এক ঘণ্টার বেশি বল করেছেন, বুমরাহও ৪০ মিনিটের বেশি বোলিং অনুশীলনে কাটিয়েছেন। তবে গম্ভীরের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ ছিল সাই সুদর্শনের দিকে। জাতীয় দলে তিন নম্বর ব্যাটার হিসেবে তাঁকে ‘নতুন ভারত’ বলা হলেও ধারাবাহিকতা নেই। তাই গম্ভীর নিজ হাতে থ্রোডাউন ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এই সিরিজ শুধু খেলোয়াড়দের নয়, গম্ভীরের কোচিং দর্শনেরও পরীক্ষা। সাই সুদর্শন যদি ছন্দ ফিরে পান, তবে ভারতের ব্যাটিং শক্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
