অ্যালেক্সিসের সঙ্গে এবার বড় ভাই কেভিন—আর্জেন্টিনায় শতবর্ষের ঐতিহ্য ফিরে এলো!

ম্যাক অ্যালিস্টার ভাইদের গল্প: শতবর্ষ পুরোনো আর্জেন্টাইন ঐতিহ্যের পুনর্জন্ম

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলে ডাক পেয়েছেন কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টার, বেলজিয়ান ক্লাব রয়্যাল ইউনিয়ন সেঁ-জিলোয়াস–এর ডিফেন্ডার। তিনি বর্তমান বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বড় ভাই। দলের মূল তারকা এনজো ফার্নান্দেজ চোটে পড়ায়, অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে সফরের জন্য কেভিনকে দলে ডেকেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

এর ফলে আফ্রিকা সফরে একসঙ্গে থাকছেন দুই ভাই—অ্যালেক্সিস ও কেভিন। এই দৃশ্য যেন ফিরিয়ে আনছে আর্জেন্টাইন ফুটবলের এক শতবর্ষ পুরোনো ঐতিহ্য, যখন ভাই–ভাই একসঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে খেলতেন।

এক পরিবার থেকে দুই নীল-সাদা জার্সিধারী

আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ২৯ জোড়া ভাই একসঙ্গে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। ম্যাক অ্যালিস্টার ভাইয়েরা সেই তালিকার ত্রিশতম জুটি। এর মধ্যে ১২ জোড়া ভাই একই ম্যাচে একসঙ্গে মাঠেও নেমেছিলেন।

সময়কালভাইদের নামবিশেষ তথ্য
1902এরনেস্তো ও জর্জ ব্রাউনআর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই একসঙ্গে খেলেন
1903ইউজেনিও ও জুয়ান মুর (যমজ)একই ম্যাচে তিন ব্রাউন ভাইও ছিলেন
1930হুয়ান ও মারিনো এভারিস্তিএকসঙ্গে বিশ্বকাপে এবং ফাইনালে খেলেন
1966দানিয়েল ও এরমিনদো ওনেগাদীর্ঘ বিরতির পর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন
1975দানিয়েল ও মারিও কিলারএকই দলে একসঙ্গে খেলেন
2010গ্যাব্রিয়েল ও দিয়েগো মিলিতোসর্বশেষ একসঙ্গে মাঠে নামা ভাইজুটি
2025অ্যালেক্সিস ও কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টারত্রিশতম ভাইজুটি, ইতিহাসে নতুন সংযোজন

কেভিনের কঠিন পথচলা

যেখানে ছোট ভাই অ্যালেক্সিস ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য, সেখানে বড় ভাই কেভিনের জাতীয় দলে আসা মোটেও সহজ ছিল না।
২০১৭ সালে দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়নশিপ–এর দলে ডাক পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু বাঁ পায়ের গুরুতর এএসিএল ইনজুরিতে পড়ে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যান।

বছর কেটে গেছে অনেক, বয়স এখন ২৮। অবশেষে নিজের প্রাপ্য জায়গা ফিরে পেয়েছেন কেভিন—আর তা আবার ভাই অ্যালেক্সিসের সঙ্গেই জাতীয় দলের জার্সিতে!
এর আগে তাঁরা একসঙ্গে খেলেছিলেন আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স ক্লাবে। জাতীয় দলে একসঙ্গে ডাকা তাই তাঁদের দুজনের জন্যই এক আবেগময় অধ্যায়।

ঐতিহ্যের শুরু ব্রাউন পরিবার থেকে

ভাইদের একসঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সি পরার সূচনা হয়েছিল ব্রাউন পরিবার দিয়ে। পরিবারের পাঁচজন সদস্যই জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন, যার মধ্যে এরনেস্তো ও জর্জ ব্রাউন প্রথম ম্যাচেই একসঙ্গে নামেন মাঠে।
এর এক বছর পর ১৯০৩ সালে দেখা যায় অবিশ্বাস্য এক দৃশ্য—একই ম্যাচে মাঠে ব্রাউন পরিবারের তিন ভাই এবং মুর পরিবারের দুই যমজ ভাই! এমন মুহূর্ত আজও ফুটবল ইতিহাসে বিরল।

আধুনিক যুগে হারানো ঐতিহ্যের পুনরাবির্ভাব

ফুটবলের আধুনিক যুগে ভাইদের একসঙ্গে জাতীয় দলে দেখা খুবই বিরল হয়ে গেছে। ১৯৬৬ সালে ওনেগা ভাইয়েরা, ১৯৭৫ সালে কিলার ভাইয়েরা, আর সর্বশেষ ২০১০ সালে মিলিতো ভাইয়েরা সেই ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছিলেন।
এরপর বুরদিসো, ফুনেস মোরি, সিমিওনে বা কারবোনি পরিবারের ভাইয়েরা জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও, কেউই একসঙ্গে মাঠে নামতে পারেননি।

এবার ইতিহাসে নাম লেখানোর অপেক্ষা

ম্যাক অ্যালিস্টার ভাইয়েরা কি পারবেন সেই শূন্যতা পূরণ করতে?
অ্যালেক্সিসের পর এবার কেভিনও আর্জেন্টিনা দলের নীল-সাদা জার্সিতে নাম লেখালেন। যদি দুজন একসঙ্গে মাঠে নামেন, তবে তাঁরা হবেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসে ৩০তম ভাইজুটি, যারা একসঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন।

এই সম্ভাবনা শুধু একটি পারিবারিক গর্ব নয়—এটি আর্জেন্টিনার শতবর্ষের ঐতিহ্যের পুনর্জন্ম। আর ফুটবলপ্রেমীরা সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় আছেন, যখন আবারও ইতিহাস গড়বে ম্যাক অ্যালিস্টার পরিবার।

Leave a Comment