তামিম–ইমরুলকে ছাড়িয়ে নতুন স্বপ্নের ওপেনিং! জয়–সাদমান লিখল টেস্টের মহাকাব্য

বাংলাদেশ ক্রিকেটে একটি দীর্ঘকালীন প্রশ্ন ছিল—টেস্টের ওপেনিং জুটি কবে দাঁড়িয়ে যাবে? তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের পর যেন সেই জায়গা ছিল নির্জন, অনিশ্চিত, এবং বারবার ব্যর্থতায় পরিপূর্ণ। কিন্তু সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই যেন পাওয়া গেল সেই বহু প্রতীক্ষিত উত্তর। মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশকে আবারও আশার আলো দেখালেন।

আয়ারল্যান্ডের ২৮৮ রানের প্রথম ইনিংস অল আউট হওয়ার পর মাত্র ১৪ বলের ব্যবধানে বাংলাদেশের বোলাররা শেষ দুটি উইকেট তুলে নেয়। এরপর ব্যাট করতে নেমেই শুরু হয় নতুন ইতিহাস রচনা। শান্ত ও ধীরস্থির ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আক্রমণাত্মক মানসিকতা মিলিয়ে জয় এবং সাদমান মিলে গড়েন ১৬৮ রানের দুর্দান্ত উদ্বোধনী জুটি, যা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

যখন মনে হচ্ছিল দুই ওপেনারই শতক ছুঁয়ে তামিম–ইমরুলের ঐতিহাসিক রেকর্ডের দিকে এগোবেন, তখন আসে হতাশা। ম্যাথু হ্যামফ্রিসের অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে ব্যাটের নিচের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। প্রথমে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ছিল নট আউট, কিন্তু রিভিউ নিলে স্পষ্ট দেখা যায় বল ব্যাটে লেগেছে। ফলে সাদমান থামেন ১০৪ বলে ৮০ রান করে।

তাঁর ইনিংসটি শুধু রানে সমৃদ্ধ নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিকভাবে দলকে স্থিতিশীলতা এনে দেওয়া এক অবদান। বাংলাদেশের টেস্ট দলে ইমরুলের পর ওপেনিংয়ে রানের দশা ভালো ছিল না। সাদমান আজ সেই খরা কাটানোর আশা দেখালেন। তার ব্যাটিংয়ের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল টেকনিক ও ধৈর্যের সমন্বয়, যা টেস্ট ক্রিকেটে সফল ওপেনারের মূল উপাদান।

এদিকে অপর প্রান্তে ছিলেন জয়। ১৬৪ বলে ৯৪ রানের ধীরস্থির এবং দৃঢ় ইনিংস তার ব্যাটিংয়ের পরিণত ব্যাখ্যা তুলে ধরছে। তিনি শুধু বেধড়ক খেলেন না; পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী অ্যাডজাস্ট করেন, বোলারদের বিশ্লেষণ করেন, এবং রানের পিছনে ছুটে যান না—বরং রান তার জন্য স্বভাবিকভাবে আসে।

জুটি ভাঙার পর মুমিনুল হক এসে ২১ রানে অপরাজিত থেকে জয়কে সঙ্গ দেন। দিনের শেষে স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ১৯৮/১। এখনো পিছিয়ে আছে মাত্র ৮৮ রানে। হাতে ৯ উইকেট এবং সেঞ্চুরির পথে জয়। সিলেটের গ্যালারিতে তখন হাজারো দর্শক এক প্রশ্নেই মুখর—“জয় কি সেঞ্চুরি করবেন?”

এই ইনিংসের গুরুত্ব শুধু সংখ্যায় নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ টেস্ট ব্যাটিং কৌশলের ভিত্তিও যেন এখানেই রচিত হলো। কেননা দীর্ঘদিন পর একটি স্থায়ী ওপেনিং জুটি দেখে দল এখন আশাবাদী হতে পারে নতুন এক ধারাবাহিকতার।

Leave a Comment