ইডেন গার্ডেনে সদ্য শেষ হওয়া টেস্টে ঘটেছে এমন এক ঘটনা, যা ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। চার ইনিংস মিলিয়েও কোনো দল ২০০ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকা করেছে ১৫৯ ও ১৫৩, ভারত করেছে ১৮৯ ও ৯৩। টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র ১১ বার, শেষবার হয়েছিল ১৯৫৯ সালে। তাই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে পিচ—এবং তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
উভয় দলের ব্যাটসম্যান যখন একই পিচে সমানভাবে বিপর্যস্ত, তখন সমালোচনার তির ঘুরে যায় পিচ কিউরেটরের দিকে। ভারতীয় দলের সাবেক অফস্পিনার হরভজন সিং সরাসরি অভিযোগ করেন—এমন পিচ তৈরি করে কিউরেটরই টেস্ট ক্রিকেটের ক্ষতি করছেন।
কিন্তু সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী একদিন আগেই বলেছিলেন ভিন্ন কথা। তাঁর দাবি ছিল, কিউরেটরের ওপর দোষ চাপিয়ে লাভ নেই; কারণ এমন পিচ তৈরি করার নির্দেশ নাকি এসেছে ভারতের বর্তমান প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের কাছ থেকেই। এবং ঠিক একদিন পরই গম্ভীর নিজেই সেই বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করলেন।
Table of Contents
গম্ভীরের সাফ কথা: ‘আমরাই এমন পিচ চেয়েছিলাম’
ম্যাচ হারার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে গম্ভীর বলেন,
‘আমরা ঠিক এমন পিচই চেয়েছিলাম। কিউরেটর আমাদের খুব সাহায্য করেছেন। আমরা যেমন চেয়েছিলাম, ঠিক তেমন উইকেটই পেয়েছি। ভালো না খেললে এমনটা হবেই।’
অর্থাৎ, ১২৪ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ৯৩ রানে অলআউট হওয়ার দায় তিনি সরাসরি ব্যাটসম্যানদের ঘাড়েই তুলে দিলেন। যদি পিচ এতটাই কঠিন হতো, তাহলে গম্ভীর কখনোই বলতেন না যে উইকেট ব্যাট করার মতো ছিল।
‘উইকেটে কোনো দৈত্য ছিল না’—গম্ভীরের যুক্তি
গম্ভীর তার বক্তব্য সমর্থন করতে উদাহরণ দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার লড়াই করে করা ফিফটি, সঙ্গে ভারতের অক্ষর প্যাটেল (২৬) ও ওয়াশিংটন সুন্দর (৩১)-এর ইনিংস।
তিনি বলেন,
‘উইকেটে কোনো দৈত্য-দানো ছিল না। এটা আনপ্লেয়বল ছিল না। কেউ না কেউ তো রান করছেই।’
গম্ভীর আরও যুক্তি দিলেন যে এই ম্যাচে স্পিনারদের চেয়ে পেসাররাই বেশি উইকেট নিয়েছে—যা উইকেটকে ‘খারাপ’ প্রমাণ করে না।
‘৪০ উইকেটের বেশির ভাগই পেসারদের দখলে। তাহলে আমরা শুধু স্পিন বা টার্ন নিয়ে এত কথা বলছি কেন?’
দক্ষতা, মানসিক দৃঢ়তা ও ডিফেন্স—ইডেন উইকেটে সফলতার চাবিকাঠি
গম্ভীরের মতে, ব্যাটিং করা অসম্ভব ছিল না; বরং প্রয়োজন ছিল দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকার মানসিকতা, দৃঢ় ডিফেন্স, ও ধৈর্য।
তিনি বলেন,
‘যারা ভালো ডিফেন্স করেছে, যেমন লোকেশ রাহুল বা ওয়াশিংটন, তারা রান পেয়েছে। নিখুঁত ডিফেন্স থাকলে রান না পাওয়ার কারণ নেই।’
হরভজনের সতর্কবার্তা: ‘এমন পিচ দিলে টেস্ট ক্রিকেট মরে যাবে’
গম্ভীর যেখানে নিজের পছন্দের পিচ বলে দাবি করছেন, সেখানে হরভজন সিং উল্টো দুশ্চিন্তায়:
‘এ রকম পিচ দিতে থাকলে টেস্ট ক্রিকেটকে মারতে আমাদের প্রতিপক্ষের প্রয়োজনই হবে না। আমরা নিজেরাই সব নষ্ট করে ফেলব।’
ইডেনের এই বিতর্কিত ম্যাচ শুধু ফলাফলের নয়, বরং পিচের দর্শন, কৌশল ও টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল। চাইলে আমি এই ঘটনাকে ঘিরে একটি বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া উপযোগী সংক্ষিপ্ত সংস্করণও তৈরি করে দিতে পারি।
