এএফসি অনূর্ধ্ব–১৭ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। চীনের টংলিয়াং লং স্টেডিয়ামে আজ নিজেদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচে পূর্ব তিমুরকে ৫–০ গোলে উড়িয়ে দেয় গোলাম রব্বানীর তরুণ যোদ্ধারা। প্রতিপক্ষকে এক মুহূর্তও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ না দিয়ে পুরো ম্যাচজুড়ে ছড়িয়েছে বাংলাদেশের দাপট—অবশেষে একটি সমন্বিত দল, যাদের চোখ এখন মূলপর্বে।
বাংলাদেশ ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে খেলতে থাকে। বল দখলে প্রাধান্য, ধারাবাহিক পাস বিনিময় আর উইং থেকে আক্রমণ—সব মিলিয়ে প্রথমার্ধেই ম্যাচ নিজেদের করে নেয় লাল–সবুজের দল। প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে বাংলাদেশ ৩–০ গোলে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুবার জালের ঠিকানা খুঁজে পেয়ে রীতিমতো গোল উৎসব করে যুবারা।
মোহাম্মদ মানিক ছিলেন দিনের নায়কদের একজন। দারুণ নৈপুণ্যে তিনি দুটি গোল করেন। বাকি তিনটি গোল করেন রিফাত কাজী, বায়েজিদ বোস্তামী ও আকাশ আহমেদ। প্রত্যেকেই দেখিয়েছেন, দলের আক্রমণভাগ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি গতিময় ও আত্মবিশ্বাসী। শুধু গোল নয়—পজিশনিং, প্রেসিং এবং লিঙ্ক–আপ খেলায়ও এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের গ্রুপে পূর্ব তিমুর ছাড়াও রয়েছে শক্তিশালী চীন, বাহরাইন, ব্রুনেই ও শ্রীলঙ্কা। সামনের ম্যাচগুলো সহজ হবে না, বিশেষত চীন ও বাহরাইনের বিপক্ষে। তবে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স দলকে বড় আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে। গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচে সোমবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ব্রুনেই—যেখানে আরেকটি জয় পেলে মূলপর্বের স্বপ্ন আরও জোরালো হবে।
এই বাছাইপর্ব থেকে প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং কিছু সেরা রানার–আপ দল জায়গা পাবে আগামী বছরের মে মাসে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব–১৭ এশিয়ান কাপে। মোট ১৬ দল খেলবে মূলপর্বে; যার মধ্যে ৯ দল ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ৭ দল আসবে বাছাইপর্ব থেকে। তাই বাংলাদেশের জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি গোলই মূল্যবান।
ইতিহাস বলছে, অনূর্ধ্ব–১৭ পর্যায়ে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত দুবার এবং অনূর্ধ্ব–১৬ পর্যায়ে চারবার এশিয়ান কাপে অংশ নিলেও একবারও গ্রুপপর্ব পার হতে পারেনি। সর্বশেষ ২০০৬ সালে দলটি বাছাই পেরিয়ে মূলপর্বে উঠেছিল, কিন্তু মূলপর্বে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছিল। ২০২০ সালে তারা বাছাইপর্ব খেলে সফল হলেও, করোনার কারণে মূল টুর্নামেন্ট বাতিল হয়ে যায়। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়।
আজকের জয়ে সেই অতীত ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে নতুন আশা দেখছে ফুটবলপ্রেমীরা। দলটি এখন পর্যন্ত যা দেখিয়েছে—তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এবার হয়তো ছকভাঙা কিছু ঘটতে পারে। গোলাম রব্বানীর ছাত্রদের শৃঙ্খলা, গতি, শারীরিক শক্তি এবং ট্যাকটিকাল পরিপক্বতা দেখে মনে হচ্ছে তারা প্রস্তুত লড়াইয়ের জন্য।
