‘নতুনদের ভিড়ে জমজমাট ক্রীড়া সাংবাদিকতার কর্মশালা, তথ্যের যুদ্ধ জিততে শেখালেন বিশেষজ্ঞরা’

বাংলাদেশে ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি তরুণদের আগ্রহ যে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কত বেশি—তার জীবন্ত প্রমাণ মিলেছে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ‘ক্রীড়া সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি: খেলার গল্প, খবরে প্রাণ’ শীর্ষক বিশেষ কর্মশালায়। দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশ নিতে পাঁচ শতাধিক তরুণ রেজিস্ট্রেশন করলেও লটারির মাধ্যমে মাত্র ১৭০ জনকে অডিটোরিয়ামে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। বাকিরা অনলাইনে থেকে যুক্ত হন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটি তরুণদের হাতে–কলমে ক্রীড়া সাংবাদিকতা শেখানোর এক বিরল সুযোগ এনে দেয়।

বিশ্বের প্রথম ক্রীড়া বিষয়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গেমপ্লিফাই এই আয়োজন করে। ক্রীড়া সাংবাদিকতার ইতিহাস, মাঠের রিপোর্টিং, টিভি জার্নালিজম, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ফিচার লেখা, মোজো জার্নালিজমসহ আধুনিক মিডিয়াতে টিকে থাকার প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে একে একে কথা বলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সাংবাদিকরা। তরুণদের জন্য এটি শুধু প্রশিক্ষণই নয়, বরং একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার পাঠশালা হয়ে ওঠে।

জনপ্রিয় পাক্ষিক ক্রীড়াজগত-এর সম্পাদক দুলাল মাহমুদ কর্মশালায় বলেন, “একসময় ক্রীড়া সাংবাদিকতাকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হতো না। এখন পরিস্থিতি পুরো বদলে গেছে। বড় বড় পত্রিকাগুলোতে আলাদা ক্রীড়া বিভাগ তৈরি হয়েছে। পেশাটি এখন আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার।” তার মতে, ডিজিটাল যুগে খেলাধুলার বিস্তৃতি যত বাড়ছে, পেশাদার ক্রীড়া সাংবাদিকের কাজও ততই মূল্যবান হয়ে উঠছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নটআউটনোমানের প্রধান নোমান মোহাম্মদ তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “রিপোর্ট লেখার শুরু আর শেষটা মাথায় আনতে পারলে মাঝের অংশ সহজ হয়ে যায়। গল্প বলার মতো করে লিখতে হবে। কিন্তু তার জন্য চাই খেলার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা এবং নতুন কিছু করতে সাহস।” তার বক্তব্য তরুণদের মাঝে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করে।

বিএসপিএ সভাপতি ও চ্যানেল ২৪–এর সাংবাদিক রেজওয়ান উজ জামান রাজিব ‘সত্যতা যাচাইয়ের’ গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “তথ্যের বন্যার যুগে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া খুব সহজ। তাই একটিমাত্র খবর প্রচারের আগে অবশ্যই ক্রসচেক করতে হবে। বিশেষ করে টেলিভিশনে সময় কম—ফলে অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দিতে হবে।”

অন্যদিকে দেশ রূপান্তরের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা মামুন মাঠের রিপোর্টিংকে ক্রীড়া সাংবাদিকতার “প্রাণভোমরা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “টিভিতে খেলা দেখে রিপোর্ট করলে হবে না। মাঠে যেতে হবে। পরিবেশ, উত্তেজনা, অজানা গল্প—এসব শুধু একজন রিপোর্টারই তুলে আনতে পারে।”

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন গেমপ্লিফাইয়ের সিইও মাহফুজুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিডিও বার্তায় অংশ নিয়ে গেমপ্লিফাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, “মানুষ বিশ্বজুড়ে খেলাধুলায় সংযুক্ত থাকতে চায়। গেমপ্লিফাই সেই সংযোগকে আরও সহজ করবে। আমরা সামনে আরও বড় আয়োজন করতে চাই।”

দিনশেষে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচিতদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, তরুণদের উচ্ছ্বাস ও উৎসাহ দেখে তারা আরও বড় উদ্যোগ নেওয়ার প্রেরণা পেয়েছেন। এই আয়োজন ক্রীড়া সাংবাদিকতায় নতুন প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলেই তাদের আশা।

Leave a Comment