২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন বছরেই শ্রীলঙ্কায় তিন ম্যাচের সংক্ষিপ্ত টি২০আই সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, সালমান আগা নেতৃত্বাধীন দলটি আগামী ৭, ৯ ও ১১ জানুয়ারি দাম্বুলায় তিনটি ম্যাচই খেলবে, যা দলটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দাম্বুলার রঙ্গিরি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামই সিরিজের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। পিসিবির মতে, এই সিরিজটি বাংলাদেশের বাইরে উপমহাদেশের অনুরূপ পরিস্থিতিতে খেলার সুযোগ করে দেবে, যা ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপের জন্য অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখ্য, পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপের সব গ্রুপ ম্যাচ শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে খেলবে।
গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান টি২০ ক্রিকেটকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) শেষ হওয়ার পরই তারা ব্যস্ত সূচি নিয়ে মাঠে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে ও পাকিস্তানে দুইটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর, দুইটি ত্রিদেশীয় সিরিজ, এশিয়া কাপ, এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজ। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে পাকিস্তান প্রায় সব সিরিজেই সফল ছিল; শুধুমাত্র বাংলাদেশে টি২০ সিরিজ এবং এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত তাদের হারাতে সক্ষম হয়।
পিসিবি জানিয়েছে, “শ্রীলঙ্কায় এই তিন ম্যাচের সিরিজটি বিশ্বকাপের আগে দলকে সঠিক কম্বিনেশন গড়ে তোলার সুযোগ দেবে। শ্রীলঙ্কার পরিবেশ ও পিচ পাকিস্তানের জন্য বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে অত্যন্ত সহায়ক হবে।”
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা সম্প্রতি পাকিস্তান সফর শেষ করেছে, যেখানে তারা তিনটি ওয়ানডে ও একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছে। সেই সিরিজে জিম্বাবুয়েও অংশ নেয়। ফলে দুটি দলই পরস্পরের বিরুদ্ধে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে, যা আসন্ন সিরিজকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে।
সিরিজ শেষে পাকিস্তান দেশে ফিরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের আরেকটি টি২০ সিরিজ খেলবে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে। এরপর আবার শ্রীলঙ্কায় ফিরে যাবে বিশ্বকাপ খেলতে, যা শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে পাকিস্তান রয়েছে ‘গ্রুপ এ’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাষ্ট্র। কলম্বোতেই পাকিস্তানের সব গ্রুপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের জন্য এই শ্রীলঙ্কা সফর তাই বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে—দল গঠন, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নিজেদের দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে।
