ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ব্যাটার রবিন স্মিথ আর নেই, মৃত্যুকালে বয়স ৬২

ইংল্যান্ড ক্রিকেটের এক সময়ের ভয়ংকর ব্যাটার, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলারদের বিরুদ্ধে সাহসী লড়াইয়ের প্রতীক রবিন স্মিথ আর নেই। অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরে নিজ বাসায় আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন এই প্রাক্তন ক্রিকেটার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬—এই আট বছরে ইংল্যান্ডের হয়ে ৬২টি টেস্ট খেলেছেন স্মিথ। করেছেন ৪,২৩৬ রান, গড় ৪৩.৬৭, সেঞ্চুরি ৯টি। তার তিনটি সেঞ্চুরি এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে—যে দল সে সময় বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর পেস আক্রমণ নিয়ে খেলত। সেই আগুনঝরা বোলিংয়ের সামনে স্মিথের লড়াই তাকে ইংলিশ দর্শকদের কাছে কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে যায়।

তার স্বাক্ষর হয়ে ওঠা ফ্রন্ট-ফুট স্কয়ার কাট অনেকের মতে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী শটগুলোর একটি ছিল। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে স্মিথ ছিলেন ইংল্যান্ডের জয়ের অন্যতম নায়ক। ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে ঘরের মাঠে ধারাবাহিক ২–২ ড্র সিরিজেও স্মিথ ছিলেন দলের ভরসা।

১৯৯৩ সালে এজবাস্টনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার অপরাজিত ১৬৭ রানের ইনিংস ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসে ২৩ বছর ধরে সর্বোচ্চ স্কোর হিসেবে টিকে ছিল।

তবে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্পিনের বিপক্ষে তার দুর্বলতা প্রকাশ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ১৯৯৩ সালে শেন ওয়ার্ন অভিষেক অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করার পর নির্বাচকেরা স্মিথকে বাদ দেন অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে। ক্রিকেটীয় বিদ্রূপই বলা যায়—পরবর্তীতে ওয়ার্নই হয়ে ওঠেন স্মিথের প্রিয় বন্ধুদের একজন, এবং সেই বন্ধুত্বই পরবর্তীতে ওয়ার্নকে হ্যাম্পশায়ারে নিয়ে আসে।

১৯৬৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্ম স্মিথ ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তার বাবা বাড়ির উঠোনে তৈরি করেছিলেন অনুশীলনের জন্য আলাদা নেট। ব্যারি রিচার্ডস ও মাইক প্রোক্টরের মতো ক্রিকেট তারকারাই ছিলেন তার অনুশীলনসঙ্গী।

হ্যাম্পশায়ারের সঙ্গে তার পরিবারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ব্যারি রিচার্ডসের মাধ্যমে। স্মিথের বড় ভাই ক্রিস স্মিথও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছিলেন। তবে রবিন স্মিথের অভিষেক—১৯৮৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে—ইংল্যান্ড সমর্থকদের কাছে ছিল অত্যন্ত প্রত্যাশিত ঘটনা।

ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলেন ১৯৯৬ সালে, কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। সেই সময় তার বয়স মাত্র ৩২—তবুও ইংল্যান্ড ব্যবস্থাপনা নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দিতে গিয়ে হঠাৎই তাকে বাদ দেয়। অথচ তার ব্যাটিং গড় ছিল সমসাময়িক ডেভিড গাওয়ার ও গ্রাহাম থর্পের থেকেও বেশি।

ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পর স্মিথ মানসিক স্বাস্থ্য ও অ্যালকোহল আসক্তির সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করেছেন। তার আত্মজীবনী The Judge: More Than Just A Game–এ তিনি সেই সংগ্রামের কথা খোলাখুলি লিখেছেন। গত সপ্তাহেই তিনি পার্থে অ্যাশেজ টেস্ট দেখেছেন এবং গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তার সুস্থতার অগ্রগতির কথা।

তার পরিবার জানিয়েছে, সোমবার হঠাৎ করেই পার্থের বাসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি এবং ময়নাতদন্ত শেষে জানানো হবে। পরিবার অনুরোধ করেছে, তার অতীত সংগ্রামের ভিত্তিতে কোনো জল্পনা-কল্পনা না করতে।

ইসিবি চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন বলেছেন,
“রবিন স্মিথ ছিলেন সেই ব্যাটসম্যান, যিনি বিশ্বের দ্রুততম বোলারদের সামনে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে লড়াই করতেন। তার ১৯৯৩ সালের ১৬৭* আজও ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সেরা ইনিংসগুলোর একটি। হ্যাম্পশায়ারেও তিনি কিংবদন্তি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।”

Leave a Comment