কামিন্স কি ফিরছেন? গাব্বা টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়া দলে রহস্যের ঘন কুয়াশা

গাব্বা টেস্টের আগের দিন অস্ট্রেলিয়া দলে তৈরি হয়েছে অভাবনীয় দ্বিধা। প্যাট কামিন্স কি হঠাৎ করেই ফিরে আসছেন? তিনি কি আবার নেতৃত্ব নেবেন? স্টিভেন স্মিথের মন্তব্য এই রহস্যকে আরও গভীর করেছে।

স্মিথকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—হঠাৎ কামিন্স ফিরে আসলে তিনি কি অধিনায়ক থাকবেন? সরাসরি জবাব, “আমি মনে করি না।” এতেই বোঝা যায়, অস্ট্রেলিয়া শিবিরে ঈর্ষনীয় গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে কোচিং স্টাফ ও নির্বাচকদের আচরণে স্পষ্ট দেখা গেছে—তারা কামিন্সের বিষয়ে কোনো কথা স্পষ্টভাবে বলছেন না। সবাই জানত অ্যাডিলেড ছিল কামিন্সের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন। কিন্তু তারপরেও তাকে সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়নি। বরং নেটে তার বল করা দেখে নির্বাচকরা সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় নিচ্ছেন।

বুধবার দুপুরে মাঠের ঘাস কাটার পর নির্বাচকরা ও টিম ম্যানেজমেন্ট উইকেট পর্যবেক্ষণে যান। মাঠকর্মীদের সঙ্গে উইকেটের প্রকৃতি নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হয়—ঘাস কতটা, bounce কেমন, কীভাবে আচরণ করতে পারে—সব বিশ্লেষণের পরও সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকে।

কিছুক্ষণ পর প্যাট কামিন্স, কোচ ম্যাকডোনাল্ড, স্মিথ সবাই মিলে উইকেটে দাঁড়িয়ে কথা বলেন। চারপাশে থাকা সাংবাদিকরা বুঝতেই পারছিলেন না—এটি কি কেবলই মনস্তাত্ত্বিক খেলা, নাকি সত্যিই কামিন্সকে খেলানোর ইচ্ছা আছে।

এদিকে নেটে কামিন্সের ফিটনেস দেখে স্কট বোল্যান্ড বলেন—“নেট সেশনে যেভাবে বল করছিলেন, মনে হয়েছে পুরোপুরি প্রস্তুত। কিন্তু ম্যাচে চাপ আলাদা।”

এই অবস্থায় প্রশ্ন ওঠে—কামিন্স ফিরলে বাদ পড়বেন কে? নাথান লায়নকে বাদ দেওয়ার গুঞ্জন জোরালো হয়, কারণ গোলাপি বল দিয়ে তার সাম্প্রতিক রেকর্ড খুব উজ্জ্বল নয়। আবার ব্রেনডন ডগেটও বাদ পড়তে পারেন—এমন খবরও ভেসে বেড়ায়।

উসমান খাজার জায়গায় জশ ইংলিস মধ্যক্রমে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ট্রাভিস হেড ওপেনিংয়ে থেকে দলকে ভারসাম্য দেবে বলেও শোনা যাচ্ছে।

দিন শেষে সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে টসের সময়—টস করতে কে আসবেন? কামিন্স নাকি স্মিথ? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অস্ট্রেলিয়া কি ইংল্যান্ডকে ‘ফাঁদে ফেলতে’ ইচ্ছাকৃতভাবে সব লুকোচুরি করছে?

গাব্বা টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়া দলে অনিশ্চয়তার এই নাটকই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Leave a Comment