বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা কয়েকদিন আগেই হামজা চৌধুরীর এক অসাধারণ বাইসাইকেল গোল দেখে অভিভূত হয়েছিল। সেই স্মৃতি মুছে যাওয়ার আগেই ঠিক একই দৃশ্য দেখা গেল ইংল্যান্ডে, টটেনহ্যামের আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী তারকা ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর পায়ে।
নিউক্যাসলের মাঠে খেলাটি শুরু হয় সমানতালে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিউক্যাসল গোল করে এগিয়ে যায়। ব্রুনো গিমারেশের গোল টটেনহ্যামকে চাপে ফেলে। এরপর টটেনহ্যাম আক্রমণ চালালেও গোল মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত ৭৮তম মিনিটে কুদুসের ক্রসে রোমেরোর মাথা থেকে আসে সমতার গোল।
কিন্তু টটেনহ্যামের ভুল রয়ে গেল। ৮৬তম মিনিটে আবার গোল হজম করল তারা। এবার ম্যাচ থেকে ফিরে আসা কঠিন মনে হচ্ছিল। দর্শকরা ভাবছিলেন ম্যাচ শেষ, কিন্তু ফুটবল নাটকের শেষ দৃশ্য তখনও বাকি ছিল।
ইনজুরি টাইমে কর্নার পেল টটেনহ্যাম। বল ডি-বক্সে ঢুকতেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। কেউ পরিষ্কার করতে পারছিল না। হঠাৎ বলটি লাফিয়ে উঠে আসে রোমেরোর সামনে। তিনি পিছনে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, আর দুর্দান্ত এক বাইসাইকেল কিকে বল জালে জড়ালেন।
এই গোলটি দেখে বাংলাদেশি ভক্তরা সঙ্গে সঙ্গেই হামজার গোলটির কথা মনে করলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাইসাইকেল কিক অতি বিরল ঘটনা। হামজা করেছিলেন, এবার করলেন রোমেরো। দুজনেই স্ট্রাইকার নন, তবুও ম্যাচে করেছেন ২টি করে গোল; দুজনের দলই ড্র করেছে ২-২ ব্যবধানে।
এ যেন এক বিস্ময়কর মিল, দুই মহাদেশে দুই ফুটবলার—কিন্তু গোল একই, গল্প একই, বিস্ময়ও একই।
নিউক্যাসলের মাঠে শুরু থেকেই ম্যাচটি ছিল হাড্ডাহাড্ডি। প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ব্যস্ত থাকলেও গোলের দেখা মেলেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় নিউক্যাসল। ব্রুনো গিমারেশের এক নিখুঁত শটে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়, চাপে পড়ে যায় টটেনহ্যাম। এরপর স্পারস একের পর এক আক্রমণ শানালেও গোলের ফাঁদ ভাঙা সহজ হচ্ছিল না।
শেষ পর্যন্ত ৭৮তম মিনিটে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে টটেনহ্যাম। কুদুসের নেওয়া ক্রসে রোমেরোর মাথা ছুঁয়ে বল জালে জড়িয়ে যায়—স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১। কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষণ টিকল না। মাত্র আট মিনিট পর, ৮৬তম মিনিটে আবারও গোল হজম করে টটেনহ্যাম। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ বুঝি হাতছাড়া।
কিন্তু ফুটবল মানেই নাটক, আর সেই নাটকের সবচেয়ে চমকপ্রদ দৃশ্যটি বাকি ছিল ইনজুরি টাইমের জন্য। অতিরিক্ত সময়ে কর্নার পায় টটেনহ্যাম। ডি-বক্সে বল পড়তেই দুই দলের খেলোয়াড়দের ভিড়ে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। কেউই ঠিকমতো বল ক্লিয়ার করতে পারছিল না। হঠাৎ বলটি লাফিয়ে উঠে আসে রোমেরোর সামনে। মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত—পিছনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক! বল সোজা জালে, গোলকিপার নিঃসহায়। স্টেডিয়াম নিস্তব্ধ, এরপর বিস্ফোরণ।
