ফার্নান্দেজের জোড়া গোল, তবু রেড ডেভিলদের সামনে ‘ভয়ঙ্কর বাস্তবতা’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান অবস্থা এক কথায় ‘ধোঁয়াশা’। ইংলিশ ফুটবলের এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি আজ জেতে, কাল হোঁচট খায়; কখনো চমক দেখায়, কখনো লজ্জায় নিমজ্জিত হয়। সমর্থকরা মনে প্রার্থনা করেও জোরে বলতে পারেন না—‘এবার চেনা রূপে ফিরেছে রেড ডেভিলস।’ তবে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় দেখেই কিছুটা শান্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড।

তবে এই জয়ের মূল্যায়ন করতে গেলে প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে উলভসের ভয়াবহ অবস্থার কথা। ২০২৫–২৬ মৌসুমে ১৫ ম্যাচে ১৩ বার হারের স্বাদ পেয়েছে দলটি। মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে লিগের একেবারে তলানিতে। এপ্রিলের পর থেকে উলভস কোনো লিগ ম্যাচ জেতেনি—১৬টি ম্যাচে হেরেছে, মাত্র ৩টি ড্র করেছে। এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়, এই উলভারহ্যাম্পটন কোনোভাবেই ইউনাইটেডের পরীক্ষায় মাপকাঠি হওয়ার মতো দল নয়।

তবুও জয় হলো বড় ব্যবধানেই। জোড়া গোল করলেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। ব্রায়ান এমবেউমো এবং ম্যাসন মাউন্টের লক্ষ্যভেদে ৪-১ ব্যবধান নিশ্চিত হয়। উলভসের হয়ে একমাত্র গোলটি আসে হাইতির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জিয়ান-রিকনার বেলেগ্রেডের পা থেকে। আকর্ষণীয় একটি তথ্য হলো—এটি উলভসের টানা ৫৪০ মিনিট পর পাওয়া প্রথম গোল! তাই গোল করার পর মাঠজুড়ে উলভস সমর্থকদের মধ্যে একটুকরো উৎসব দেখা গেলেও সেটি টিকে ছিল অত্যন্ত কম সময়।

আরও হতাশার দৃশ্য দেখা যায় গ্যালারিতে। নিজের দলকে সমর্থন করার বদলে বেশিরভাগ দর্শক ক্ষুব্ধ হয়ে স্লোগান তুলছিলেন চীনা মালিক ফোসুন গ্রুপের বিরুদ্ধে। স্পষ্ট বোঝা যায়, উলভারহ্যাম্পটন শুধু মাঠে নয়, ক্লাব ব্যবস্থাপনাতেও বিপর্যস্ত।

তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়—উলভসকে হারালেও কি রেড ডেভিলস স্থিতিশীল হলো? উত্তর, ‘না’। কারণ, এই মৌসুমে তাদের পারফরম্যান্স ওঠা-নামায় ভরপুর। ২৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন ছয় নম্বরে, তবে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে পিছিয়ে আছে ৮ পয়েন্ট। ইউনাইটেড যদি ধারাবাহিকতা না ধরে রাখতে পারে, তবে একটি বড় জয় দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না।

Leave a Comment