বার্নাব্যুতে রিয়ালের দুঃসময় বাড়াল ম্যানসিটির জয়

লা লিগায় টানা পয়েন্ট খোয়ানো আর শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার পর এবার চ্যাম্পিয়নস লিগেও বড় ধাক্কা খেল রিয়াল মাদ্রিদ। নিজস্ব মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে লিগ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারা ২–১ গোলে হারল ম্যানচেস্টার সিটির কাছে। জাবি আলোনসোর দল সাম্প্রতিক ফর্মহীনতার ধারাবাহিকতা কাটাতে পারল না; বরং সিটির জয়ে সেই দুর্দশাই আরও প্রকট হলো।


চোট–অনুপস্থিতির চাপে ম্যাচের আগেই বিপর্যস্ত রিয়াল

ম্যাচ শুরুর আগেই রিয়ালের মাথায় চাপে চেপে বসে ইনজুরির দুঃসংবাদ।
দানি কারভাহাল ও ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের অনুপস্থিতির পর শেষ মুহূর্তে দল থেকে ছিটকে যান ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও-ও। আক্রমণভাগে আরও বড় ধাক্কা কিলিয়ান এমবাপ্পে—হাঁটুর চোট পুরোপুরি না সারায় আলোনসো তাঁকে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

তবু ভিনিসিয়ুস–রদ্রিগো–বেলিংহাম ত্রয়ীকে নিয়ে রিয়াল শুরু থেকেই প্রতি-আক্রমণে ভয় ধরানোর চেষ্টা করে।


ম্যাচের গোলসংক্ষেপ

রিয়াল মাদ্রিদ ১ : ২ ম্যানচেস্টার সিটি

দলগোলদাতামিনিট
রিয়াল মাদ্রিদরদ্রিগো২৮’
ম্যানচেস্টার সিটিনিকো ও’রিলি৩৫’
ম্যানচেস্টার সিটিআর্লিং হলান্ড (পেন.)৪৩’

রিয়ালের স্বস্তি এনে দেওয়ার পর হঠাৎ পতন

চ্যাম্পিয়নস লিগে এবারের আসরে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা রিয়ালই ম্যাচের প্রথম গোল তোলে।
২৮তম মিনিটে বেলিংহামের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে দুর্দান্ত গোল করেন রদ্রিগো।
২৪ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের জন্য এটি ছিল বিশেষ এক মুহূর্ত—চলতি মৌসুমে তাঁর প্রথম গোল। একই সঙ্গে মার্চের পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩২ ম্যাচ গোলহীন থাকার হতাশাও কাটে তার।

কিন্তু আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। মাত্র ৭ মিনিট পরই ব্যবধান সমতায় ফেরে সিটি।


ও’রিলির গোল: কোর্তোয়ার দুঃসহ ভুল

৩৫তম মিনিটে রায়ান চেরকির কর্নার থেকে গাভার্দিওলের হেড সরাসরি কোর্তোয়ার হাতে গেলেও বেলজিয়ান গোলকিপার তা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন।
সুযোগ লুফে নেন নিকো ও’রিলি—হাতে পাওয়া বলটি কাছ থেকেই জালে পাঠিয়ে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন সিটিকে।

এই গোলটি শুধু ম্যাচই ঘুরিয়ে দেয়নি, বার্নাব্যুর গ্যালারিতেই নেমে আসে এক ধরনের অস্বস্তি।


হলান্ডের পেনাল্টি: বিরতির আগেই রিয়ালের ধস

৪৩তম মিনিটে অ্যান্টনিও রুডিগারের ভুলেই বড় বিপদে পড়ে রিয়াল।
বক্সের ভেতর হলান্ডকে ফেলে দিলে সিটি পায় পেনাল্টি।
নরওয়েজিয়ান গোল–মেশিন স্বভাবসুলভ শীতলতায় কোর্তোয়াকে ভুল দিকে পাঠিয়ে সহজেই বল জালে জড়ান।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত—হলান্ডের জোড়া শট একের পর এক ঠেকিয়ে রিয়ালকে বাঁচান কোর্তোয়া।


চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের দুঃসময় আরও প্রকট

লা লিগায় সেলতা ভিগোর কাছে পরাজয় ও বার্সেলোনার কাছে পয়েন্ট টেবিলে পিছিয়ে পড়ার পর এবার ইউরোপিয়ান মঞ্চেও রিয়ালকে ছুঁয়ে ফেলল একই দুর্ভাগ্য।
ডিফেন্স লাইনের অস্থিরতা, গোলকিপিংয়ের বড় ভুল এবং আক্রমণে ধারহীনতা মিলিয়ে বরাবরই শক্তিশালী সিটির বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হল আলোনসোর দল।

খেলা শেষে সমর্থকদের হতাশা ছিল চোখে পড়ার মতো—তাদের প্রশ্ন, রিয়ালের এই নিম্নমুখী ফর্ম কতদিন চলবে?

আপনি চাইলে চাইলে আমি এ ম্যাচের বিশ্লেষণধর্মী দীর্ঘ সংস্করণ বা পরিসংখ্যানভিত্তিক ভার্সনও তৈরি করে দিতে পারি।

Leave a Comment