ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে যেমন আধিপত্য বজায় রেখেছে আর্সেনাল, ঠিক তেমনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও নিজেদের শক্তি ও ধারাবাহিকতা দিয়ে ইউরোপের ফুটবল বিশ্লেষকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের একমাত্র দল হিসেবে ছয় ম্যাচের সবগুলোতেই জয় তুলে নিয়েছে লন্ডনের জায়ান্টরা। এই ধারাবাহিকতা শুধু পয়েন্ট টেবিলেই তাদের শীর্ষে রাখেনি, বরং প্রতিপক্ষদের জন্য তৈরি করেছে এক ধরনের মানসিক চাপ, যা বড় দলগুলোর ক্ষেত্রেও দেখা যায় না।
গতকাল রাতে ক্লাব ব্রুগের মাঠে খেলতে নেমে আর্সেনাল শুরু থেকেই নিজেদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের পরিচয় দেয়। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই মার্টিন ওডেগোর এক দুর্দান্ত দূরপাল্লার শট ব্রুগের গোলরক্ষককে পরীক্ষা নেয় এবং সেই মুহূর্ত থেকেই বোঝা যায় আর্সেনাল আজ সহজ ম্যাচ খেলতে আসেনি। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ব্রুগে রক্ষণকে চাপে রাখতে থাকে গানার দল।
২১ মিনিটে পিয়েরো ইনকাপিয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলেও আর্সেনালের গোলের অপেক্ষা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৫ মিনিটে ননি মাদুয়েকে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বজ্রগতি শটে বল পাঠান জালে। এই গোলেই ম্যাচের গতি পাল্টে যায় এবং ব্রুগের মনোবল ভেঙে পড়তে থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আবারও আলো ছড়ান মাদুয়েকে। বাঁ দিক থেকে মার্তিন জুবিমেন্দির দারুণ ক্রসে হেডে বল পাঠিয়ে তিনি দলকে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। আর্সেনালের আক্রমণ যেন কখনো থামেনি। ৫৬ মিনিটে এবার গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির অসাধারণ শটে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৩–০। ব্রাজিলিয়ান এই তরুণ ফরোয়ার্ডের গতিময় ফুটবল, ড্রিবলিং ও শট নেওয়ার দক্ষতা প্রতিপক্ষের জন্য সবসময়ই হুমকি হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে পিএসজি আবার ভিন্ন বাস্তবতায়। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মাঠে ১৮টি শট, ৭২% বল দখল—সবই ছিল, কিন্তু গোলটাই ছিল না। লুইস এনরিকের দল মাঠে আধিপত্য দেখালেও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই ফিরতে হয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জন্য এ ফল নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ফিনিশিং ব্যর্থতা তাদের বড় সমস্যায় ফেলছে।
এই ড্রয়ের পর ছয় ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পিএসজি এখন ৩ নম্বরে। অন্যদিকে বিলবাওয়ের সংগ্রহ মাত্র ৫ পয়েন্ট। বিশ্লেষকরা বলছেন, পিএসজির মাঝমাঠ যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও ফরোয়ার্ড লাইনে ধারাবাহিকতা ও সৃজনশীলতার অভাবই আজ তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা।
এ রাতের অন্য ম্যাচগুলোতেও ছিল নাটকীয়তা। রিয়াল মাদ্রিদ হেরে গেল ম্যানচেস্টার সিটির কাছে, যা ইউরোপ জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লেভারকুসেন-নিউক্যাসল ম্যাচ ড্র, জুভেন্টাস জিতেছে সহজে, বরুশিয়া ডর্টমুন্ডও পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে।
সব মিলিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলের এই রাতটি আবার প্রমাণ করে দিল—ফর্ম, কৌশল ও দলগত সমন্বয়ের দিক থেকে আর্সেনালই এই মুহূর্তে সবচেয়ে ধারাবাহিক দল।